শাহ সাহিদ উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি : আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ দিনে গোটা বিশ্ব যখন সাংবাদিকদের অধিকার, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছে—ঠিক তখনই বাংলাদেশে এক নারী সাংবাদিক এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি। তার অপরাধ? তিনি মাদক, দুর্নীতি আর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছিলেন।
তার নাম ফাহিমা আক্তার প্রিয়া। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগরের সন্তান, পেশায় সাংবাদিক। দৈনিক তৃতীয় মাত্রার সে সময়ের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।
আর এখন? তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার। সকাল ৮টা। চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন প্রিয়া। মুরাদনগর উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া বাজার পার হয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
তখনই দুটি মোটরসাইকেলে চারজন দুর্বৃত্ত এসে তার পথরোধ করে।
“তুই দাউদকান্দিতে হাত বাড়ালেই মাদক — এই নিউজ করেছিস কেন?”
এই কথা বলেই শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ, শারীরিক নির্যাতন, টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া।
তাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়, ছুরি বের করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
“তোর রিপোর্ট না ডিলিট করলে তোকে ধর্ষণ করে গুম করে ফেলব”— এমন হুমকি দিয়েছিল তারা।
শুধু তাই নয়, এর আগের কয়েকদিন তাকে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বারবার।
‘প্রশ্ন তুলেছি, তাই শাস্তি পেলাম’ — সাংবাদিক প্রিয়া । ঢাকায় শয্যাশায়ী অবস্থায় ফাহিমা আক্তার প্রিয়া বলেন, “আমি শুধু সত্যটা লিখার চেষ্টা করেছি। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে, মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে—তাদের নিয়ে লিখেছিলাম। এখন আমি হাসপাতালের বিছানায়, আর ওরা বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আমি নারী বলেই কি এত সহজ টার্গেট? এখন আমার দুই মেয়ে নিয়ে আমি কীভাবে নিরাপদ থাকব?”
গণমাধ্যম মুক্ত, কিন্তু সাংবাদিক নিরাপদ নয়?
এ প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের চেয়ারম্যান আবু জাফর আহমেদ বলেন,“যেখানে নারী সাংবাদিকও নিরাপদ নয়, সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে রাষ্ট্রের মুখে বড় বড় কথা মানায় না।”
প্রশ্নগুলো উঠেই থাকে…
সাংবাদিকতা কি এখন জীবন বাজি রেখে করা পেশা?
একজন নারী যখন সাহস করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, তখন রাষ্ট্র কি তার পাশে দাঁড়ায়?
প্রিয়ার মতো সাংবাদিকদের রক্ষায় সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা মানবাধিকার সংগঠন— কোথায়? আজ যখন বিশ্বজুড়ে বলা হচ্ছে, “সাংবাদিকতা কোন অপরাধ নয়”
তখন বাংলাদেশে একজন নারী সাংবাদিক হাসপাতালে শুয়ে আছেন, ভাঙা পায়ে, ঝুঁকির মুখে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে শুধু শ্লোগান নয়, চাই প্র্যাকটিস।
প্রিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা মানেই স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান।



















