শনিবার , ১ আগস্ট ২০২৬ | ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কৃষি ও প্রকৃতি
  9. ক্যাম্পাস
  10. খাদ্য ও পুষ্টি
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. চট্টগ্রাম
  15. চাকরীর খবর

কলাপাড়ায় কৃষিজমিতে চাষাবাদে বাধা, ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ; আদালতে মামলা

প্রতিবেদক
admin2
আগস্ট ১, ২০২৬ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

অর্ণব সাহা, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজস্ব কৃষিজমিতে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়ে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী অহিদুজ্জামান মুসা।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত তুহিন বিশ্বাস স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাধারণ মানুষ ভয় পান।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বালিয়াতলী মৌজার ৫৫০ নম্বর বিএস খতিয়ানের আওতাভুক্ত ১ একর ৪৮ শতাংশ জমি তিনি ২০১০ সালে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে বৈধভাবে ক্রয় করেন। এরপর প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সম্পন্ন করে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বর্গাচাষের মাধ্যমে জমিটি ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই হঠাৎ করে তুহিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ওই জমিতে প্রবেশ করে চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়। এ সময় জমিতে কর্মরত বর্গাচাষীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তার কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে জমিতে চাষাবাদ করতে দেওয়া হবে না এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অহিদুজ্জামান মুসা বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যে জমি আইনগতভাবে ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করছি, সেই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে চাষ বন্ধ করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। নিজের জমিতে চাষ করতে চাঁদা দিতে হবে—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত তুহিন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “মুসা আমার স্ত্রীর নিকট আত্মীয়। ওই জমিতে আমাদেরও বৈধ দলিল রয়েছে। একই খতিয়ানের জমির মালিক আমি ও আমার স্ত্রী। আমাদের জমিও তিনি চাষাবাদ করছিলেন। তাই বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাষাবাদ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। চাঁদা দাবি তো দূরের কথা, এ বিষয়ে মুসার সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। যা কথা হয়েছে, তা আমার স্ত্রীর সঙ্গে।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, “বিজ্ঞ আদালত থেকে এখনো তদন্তের দায়িত্ব আমাদের কাছে আসেনি। তদন্তভার পেলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বশেষ - সারা দেশ