ফখরুল আলম, জেলা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সিকদার। একই সঙ্গে চলমান জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চারটি সনাতনী পরিবারের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেবাশীষ সিকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের অনিল চন্দ্র হাং, পুলিন চন্দ্র হাওলাদার, আভা রানী, সবিতা রানী, সুনীল হাং, ঠাকুরানীসহ ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে দেবাশীষ সিকদার বলেন, গত ২৯ জুলাই বরিশাল থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ খোকন মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। জমি দখলের উদ্দেশ্যে একাধিক মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দেবাশীষ সিকদার আরও বলেন, গত ১০ জুলাই কলাপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে খোকন মন্ডল, তার ভাই এবং সহযোগীরা প্রকাশ্যে তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ ১১ জুলাই খোকন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলগঞ্জ মৌজার একাধিক দাগে মোট ৭ দশমিক ৪৩ একর জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে অতীতে রেকর্ড সংশোধন, রিলিজ (না-দাবি) দলিল, মিউটেশনসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে বিএস জরিপে বাড়ির ৩৬ শতাংশ জমি বাদে অবশিষ্ট ভূমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ফেরতের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গত ১৭ জুলাই আদালত বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিযোগ করা হয়, আদালতের ওই আদেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ এখনো বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেবাশীষ সিকদার দাবি করেন, চলমান বিরোধের কারণে বাদীপক্ষের চারটি সনাতনী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। তিনি পরিবারের সদস্যদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন মন্ডল বলেন, আরএস, এসএ ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী তার দাদা পরেশ চন্দ্র মন্ডল জমিটির বৈধ মালিক ছিলেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, তার ছেলে রিমন সিকদার এবং দেবাশীষ সিকদার প্রভাব খাটিয়ে তাদের দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।



















