বৃহস্পতিবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কৃষি ও প্রকৃতি
  9. ক্যাম্পাস
  10. খাদ্য ও পুষ্টি
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. চট্টগ্রাম
  15. চাকরীর খবর

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

প্রতিবেদক
admin2
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
যেন এক রূপকথার রাজপুত্র আসছে
প্রত্যাশা অনেক, প্রাপ্তির খাতায় লেখা হবে কতটুকু!
==============================
জহিরুল ইসলাম রাসেল

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ ১৮ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর ঢাকায় ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একজন তারেক রহমানের আগমন, রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা। কথার ফুলঝুরি নয়, কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একজন অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠার মোক্ষম সময়। দল মতের ভিন্নতার গন্ডি পেরিয়ে সবার মনে গভীর আগ্রহ, তার আগমনে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিচারণে কেমন তৈরি হবে নতুন প্রেক্ষাপট। তিনি কি পারবেন রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তন করে এক শুভ অধ্যায়ের সূচনা করতে!

একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ে সাধারন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বার বার দূর্বার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধরা থেকে যায় তাদের স্বপ্ন। একাত্তরে চেতনা সমুন্নত ও জুলাইয়ের বাসনা জাগ্রত রেখে তারেক রহমান কি পারবেন সেই স্বপ্ন পূরনে আলোর দিশারী হতে? প্রত্যাশা অনেক কিন্তু প্রাপ্তির খাতায় কতটুকু লিখে যেতে পারবেন তিনি! এটাই দেখার অপেক্ষা।

সূত্র মতে দীর্ঘ ১৮ বছরের কষ্টের নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত কর্মাশিয়াল ফ্লাইটেই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন স্বপ্ন ও তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি তারেক রহমান। পরে সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় জনসভায় যোগ দেবেন এবং সেখানে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তবে এর আগে মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালেও যাওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আমাদের এশিয়ার রাজনীতিতে নির্বাসিত নেতাদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরেকটি নাম, তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর নির্বাসনকালও অনেক দীর্ঘ। জানা মতে দালাই লামার পরই সম্ভবত দীর্ঘ নির্বাসনের তালিকায় তারেক রহমান।
দলটির এক নেতা বলেন, “আমরা চাই, বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসে যেসব কিছু দৃষ্টান্ত বা রেকর্ড হয়েছে তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং আগামী ৫৫ বছরের ইতিহাসেও যেন এরকম কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না হয়, সেরকম একটা স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আমাদের সমস্ত আয়োজন হচ্ছে।”

এ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ উপলক্ষে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিশ্বরোড-পূর্বাচলমুখী সড়কের একটি অংশে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে তাদের নেতা তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানাবেন। সৃস্টি হতে পারে প্রনোচ্ছল ঢাকার রাজপথে এক নতুন ইতিহাস এমনটাই আশা করেছেন দলের নেতা কর্মীরা। তারেক রহমানের ফেরা; মানুষের আকাশ সমান প্রত্যাশা। অবসান হতে চলেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। একটা দিনের জন্য রাজধানী ঢাকা হয়তো হয়ে পড়বে স্থবির। অসংখ্য মানুষ পড়বে দুর্ভোগে। যে মানুষটি দীর্ঘ ১৮ বছর দেশের জন্য কষ্ট করলো, রাজনৈতিক নৃশংসতার শিকার হলো তাঁর জন্য মানুষ সানন্দে হয়তো মেনে নিবে একটি দিনের দুর্ভোগ, ভালো কিছুর প্রত্যাশায়।

তিনি নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। অনেক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মামলা, বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও দলীয় সমর্থকরা তাঁকে নেতৃত্ব হিসেবে দেখেছেন ও বর্তমানেও দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বক্তব্যে দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবং নেতৃত্বের পরিণত মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রকাশ পেয়েছে । এতে এটাই প্রতিয়মান হয়, তারেক রহমান ১৮ বছর আরাম আয়েশে কাটিয়ে দেননি, যেমন দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ঠিক তেমনি উন্নত দেশগুলো নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করেছেন নিরলসভাবে। ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে দূরদেশে থেকেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগনের কল্যানে দেশের ওপর গভীর চিন্তাধারা উপস্থাপন করে ইতিমধ্যে তারেক রহমানের ৩১ দফার সঙ্গে অতিরিক্ত আরও তিনটি বিষয় সম্পর্কে বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ফারমার্স কার্ড। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ধাপে ধাপে এসব সুবিধার আওতায় আনা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়। তার বক্তব্যে কখনো বিরোধী দল বা নেতাদের অহেতুক সমালোচনা করেনি। তার বক্তব্যে মূল ফোকাস ছিলো বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে পরিকল্পনার।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ইতিহাসের একটি শ্রেষ্ঠ নির্বাচন হবে। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করবে কারণ বিএনপি এখন দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, জনপ্রিয়তাও এগিয়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এট বলাই যায়। আর তখনই শুরু হবে তাঁর আসল কাজ, স্বাস্থ্যখাত, শিল্পখাত,কৃষিখাত,শিক্ষাখাত, প্রযুক্তিখাত ক্রীড়া সহ বিভিন্ন খাত নিয়ে তিনি যে পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন এগুলো বাস্তবায়ন করা, এগুলো যদি অর্ধেকও বাস্তবায়ন হয় তাহলে দেশে একটা পরিবর্তন আসতে বাধ্য এমনটা প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।

কাজটা এতটা সহজ নয়, এগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে শত প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে পাড়ি দীতে হবে দীর্ঘ পথ। ধৈর্য রেখেই এগিয়ে যেতে হবে কাঙ্খিত লক্ষে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার সহ নানাবিধ উদ্যোগের ফলে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে প্রথমেই তাঁকে কঠোর হস্তে দলীয় নেতা কর্মীদেরকে সু-শৃঙ্খল কাঠামোতে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করতে হবে।

নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবকিছুই এখন নির্ভর করছে জনাব তারেক রহমানের সততা ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের উপর। পিছনের রাজনৈতিক ধারা মুছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন সাজুক প্রতিহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নতুন আলোয়, উদ্ভাসিত হোক এক হিরন্ময় প্রভাত।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সফল হউক।
🔴 লেখক : সাংবাদিক

সর্বশেষ - সারা দেশ

আপনার জন্য নির্বাচিত