মো.সাইফুর রহমান, ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধাওয়া গ্রামে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে খুনি ওবায়দুল হক বাদল খান (৪৫) নামের এক চা দোকানি ।
৫ মে সোমবার রাত আনুমানিক ১০টা থেকে সারে দশটার দিকে এ লোম হর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বাদলের স্ত্রী চম্পা বেগম (৩৩) এবং শ্বাশুরি ফরিদা বেগম (বিলকিস) জাহান (৬৫)। নিহতরা (চম্পা বেগম) একই ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলী খান এর মেয়ে এবং বিলকিস জাহান তার স্ত্রী। ঘাতক বাদল খান ধাওয়া গ্রামের মৃত আজিজ খান এর ছেলে। এই ঘটনার পর খুনি বাদল পালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া বাজারের চা ও মুদি দোকানী বাদল খানের সঙ্গে চাচাতো বোন চম্পা বেগমের ১০দিন পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই চম্পাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে বাদল। চম্পাকে বিবাহের আগেও বাদল আরও তিনটি বিয়ে করে এবং চম্পার ও তিনটি বিয়ে ছিল। এটা উভয়ের চতুর্থ বিয়ে। তার নির্যাতনে শিকার হয়ে আগের তিন স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পারিবারিক কলোহের জেরে স্ত্রী চম্পা বেগম ও বৃদ্ধ শাশুড়ি ফরিদা বেগম (বিলকিস জাহান) কে দাও ও কুরাল দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে। প্রমান লোপাটের জন্য মরদেহে কেরসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় ঘরে থাকা বাদলের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর কিশোর ছেলে ইয়াসিন (১১ বছর) ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে ঘটনাটি পাশের বাড়ির লোকজনকে জানালে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে ততক্ষনে ঘাতক বাদল পালিয়ে যায়।
নিহত চম্পা বেগম এর ফুফাতো বোন নাছিমা বেগম জানান, বাদল এর ১০ বছরের ছেলে ইয়াছিন এর কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে তাৎক্ষনিকভাবে আমি বাদলের ঘরে ছুটে গিয়ে দেখি চম্পা বেগম ও তার মায়ের নিথর দেহে ঘরের মেঝেতে ফেলে কাপড় চোপর দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় ঘাতক বাদল তখনও ঘরে ছিল। প্রতিবেশীদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় সে। প্রতিবেশী ফাহিম সিকদার জানান, ঘরের মেঝেতে মা মেয়ের লাশ দেখতে পেয়ে আমি থানা পুলিশে খবর দিয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল কর্ডন করে রাখে।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়ায থানার ওসি আহমদ আনওয়ার জানান, মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পিরোজপুর পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভান্ডারিয়া-মঠবাড়িয়া সার্কেল) মো. শাখাওয়াত হোসেন পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে নিহত চম্পার ভাই মো. সানু খান বাদি হয়ে বাদল খানকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত চলছে, তদন্তের পরে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। হত্যাকারীকে ধরতে থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিট, র্যাবসহ কয়েক স্তরের বাহিনী জোর চেষ্টা করছে।


















