সোমবার , ৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কৃষি ও প্রকৃতি
  9. ক্যাম্পাস
  10. খাদ্য ও পুষ্টি
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. গণমাধ্যম
  14. চট্টগ্রাম
  15. চাকরীর খবর

ভারত বিরোধিতা নয়, ভারত পক্ষালম্বনও নয়: বাংলাদেশের প্রয়োজন আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রনীতি

প্রতিবেদক
admin2
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ

মো: হাসান আলী রেজা (দোজা)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে “ভারত” প্রশ্নটি বহুদিন ধরেই একটি বিভাজনরেখা। একদিকে অন্ধ ভারত-বিরোধিতা, অন্যদিকে নীরব ভারত-পক্ষালম্বন। এই দুই চরম অবস্থানের ভেতর দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ প্রায়শই আড়ালে পড়ে যায়। সময় এসেছে এই দ্বৈত বয়ান ছুঁড়ে ফেলে বাস্তব, দৃঢ় ও আত্মমর্যাদাশীল ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো-ভারত তিনপাশ ঘিরে আছে। ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি স্থলসীমান্ত, নদী, বাণিজ্যপথ, নিরাপত্তা ও পরিবেশ-সবকিছুতেই ভারত একটি অবধারিত প্রতিবেশী। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে কোনো নীতিই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।

ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী-এই সত্য বদলানো যাবে না। কিন্তু প্রতিবেশী হওয়া মানেই কারও প্রভাবাধীন হওয়া নয়। আবার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও অসমতার প্রশ্ন তুললেই ‘বিদ্বেষ’ তকমা লাগানোও গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব আবেগ নয়, স্বার্থ রক্ষা।

⊕ আবেগনির্ভর ভারত বিরোধিতা: রাষ্ট্রনীতির বিকল্প নয়
বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা প্রায়শই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টনে বৈষম্য, বাণিজ্য ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ-এসব বাস্তব ও গুরুতর ইস্যু। কিন্তু এসব প্রশ্ন যখন কূটনৈতিক চাপের ভাষা না হয়ে নির্বাচনী স্লোগানে পরিণত হয়, তখন তা রাষ্ট্রের শক্তি বাড়ায় না, বরং আলোচনার জায়গা দুর্বল করে।
রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভারত-বিরোধিতা তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা হয় সুস্পষ্ট দাবি, তথ্যভিত্তিক প্রতিবাদ ও কৌশলগত দরকষাকষির অংশ-উগ্রতা বা জনতুষ্টির উপকরণ নয়।

⊕ নিঃশর্ত ভারত-পক্ষালম্বন: আত্মমর্যাদার অবক্ষয়
ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার নামে যে একতরফা নীরবতা দেখা যায়, সেটিও সমান উদ্বেগজনক। বিদ্যুৎ, ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার কিংবা নিরাপত্তা সহযোগিতা-এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক লাভ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কণ্ঠ দুর্বল হয়, অমীমাংসিত ইস্যু ঝুলে থাকে, আর সহযোগিতার বিনিময়ে প্রশ্ন তোলার সাহস হারিয়ে যায়-তখন তা সহযোগিতা নয়, নির্ভরশীলতা।
কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষিত হয় কেবল মানচিত্রে নয়, রক্ষিত হয় তার কূটনৈতিক দৃঢ়তায়।

⊕ বাংলাদেশের প্রয়োজন কৌশলগত ভারসাম্য
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ভারতকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়। বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর, আঞ্চলিক সংযোগ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, শ্রমবাজার ও জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি হতে হবে বহুমাত্রিক।ভারতসহ সকল শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক, কিন্তু কারও ছায়াতলে নয়।
বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত-
◑সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু সমতার ভিত্তিতে
◑আপোষ হতে পারে, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়
◑বন্ধুত্ব থাকবে, কিন্তু প্রশ্নহীন আনুগত্য নয়

পরিশেষে, ভারত বিরোধিতা ও ভারত পক্ষালম্বন-এই দুই মেরু আসলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তাকে সংকুচিত করে। বাংলাদেশের পথ তৃতীয়টি-
◑ স্বার্থকেন্দ্রিক
◑ আত্মমর্যাদাশীল ও
◑ দৃঢ় কূটনীতি
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বন্ধুর সঙ্গে যেমন কথা বলতে হয়, তেমনি প্রয়োজনে প্রতিবেশীর চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন তুলতেও জানতে হয়। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সেই পরিপক্বতার জায়গায় পৌঁছাক-এই প্রত্যাশাই আজ সময়ের দাবি।

লেখক : গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।

সর্বশেষ - সারা দেশ

আপনার জন্য নির্বাচিত

হিলিতে ভূমিসেবা সপ্তাহের উদ্বোধন

বাংলাদেশ ব্যাংকে গণমাধ্যম কর্মীরা উন্মুক্ত: ডেপুটি গভর্নর

তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রাচ্য পলাশ পেলেন বেস্ট ব্র্যান্ড কনসালটেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২৪

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু আজ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ১১ টি এয়ারগান ও ৭ হাজার গুলি উদ্ধার

বাণিজ্যিক ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে পারস্পরিক সম্পর্কের বিকল্প নেই -গোলাম ফারুক মজনু

ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নির্মাতাকে নিয়ে মুখ খোলার হুমকি দিলেন নায়িকা

বাংলাদেশ অনলাইন তৃণমূল সাংবাদিক ফোরাম (বিওটিএসএফ)-এর শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা সভা