এম রাসেল সরকার : ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিস (রাজস্ব সার্কেল দক্ষিণ) এর এসিল্যান্ড অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মজিবর রহমান জয় এখন এসিল্যান্ডের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার কথাতেই পাওয়া যায় সবধরনের সেবা। তবে অন্তরালে রয়েছে ঘুষ বানিজ্যের মহা নিলা-খেলা।
চুক্তি মাফিক ঘুষের টাকা না দিলে মিলে না জমির কাঙ্খিত নামজারি। নামজারি বা নামজারির করতে গোনতে হয় কারী কারী টাকা। টাকা দিয়ে মজিবরকে খুশি করতে পারলেই মিলে যায় জমির নামজারি বা নামজারি মিস কেইসের রায়। সূত্রে জানা যায় এসব টাকা আদায় করতে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মজিবর নিয়ন্ত্রণ করতে একটি বিশাল দালাল সিন্ডেকেট তৈরি করেছে। এসিল্যান্ড, নাজির, কানুনগো, সার্ভেয়ার ধরাছোয়ার বাইরে থাকলেও ঘুষ লেনদেনের মূল কাজটা করে থাকেন কম্পিউটারম্যান মজিবর নিজেই। মজিবরের কথাই যেন ওই অফিসের নিয়ম-কানুন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নামজারির সকল কাজ করানোর দায়িত্ব মজিবরকে দেয়া হয়েছে বলে সেবা প্রত্যাশীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এজন্য শুনানি, নামজারি মঞ্জুর, না মঞ্জুর সকল কাগজপত্র যাচাই বাচাই দায়িত্ব পেয়ে তিনি মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না। নামজারি বিষয় নাজির সোহেল রানা দেখার কথা থাকলেও সে টাকা না চাইতে পারায় কম্পিউটার কাম অফিস সহকারী মজিবরকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।
নামজারি বিষয়ে নাজির সোহেল রানার সাথে দেখা করলে তিনি মজিবরের সাথে দেখা করতে বলে দেন। কম্পিউটার কাম অফিস সহকারি মজিবুর রহমান টাকা ছাড়া কিছুই চিনে না। মজিবর ১১শ টাকা নামজারি ১০/২০ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে থাকেন বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে। টাকা লেনদেনের কাজে মজিবর তার সেকেন্ড কমান্ড ব্যবহার করেন। নামজারির লিষ্ট দিয়ে টাকা গ্রহন করেন। আর এই টাকার ভাগ সবাই পায়। সেকেন্ডের কাছে টাকা না দিলে কোন নামজারি মঞ্জুর করেন না জয়।
মজিবর ও সহযোগি হিসেবে রয়েছে মনির হোসেন, সোহাগ, আনন্দ বাবুসহ আরো অনেকে। এরা সবাই দু’জনের মাইনে দেয়া সহকারী, তারা কোন সরকারী নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মচারী না হলেও। এরা একটি সিন্ডিকেট। ভূমি অফিসে সকল নারিনক্ষত্র তাদের জানা। তাদের কাছে রয়েছে সরকারি অফিসের আইডি ও পাসওয়ার্ড। সাধারণ মানুষ এসকল কর্মকর্তা কর্মচারী ও সিন্ডিকেটের কাছে নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে।
সেবা নিতে এসে বাস্তা ইউনিয়ন বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, অভিযোগ করে বলেন, আমি বেশ কিছু দিন এই অফিসে জমির নামজারি নিয়ে জামেলায় পড়ে আছি। যার কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছি তার নামজারি আছে। ডিসিআর কেটেছে। আমি নামজারি করতে আবেদন জমা দিয়েছি। অফিস সহকারী মুজিবর রহমান জয় কে টাকা দেইনি বলে নামজারি বাতিল করেছে আমার সাথে খারাপ আচারন করেছে। সে আমার নিকট সরাসরি টাকা দাবি করেছে।
সেবা প্রত্যাশী সিনিয়র এ্যাডভোকেট মোঃ মোশাররফ হোসেন, তিনি আইন্তা মৌজায় একটুকরো জমি ক্রয় করে নামজারীর দালালে মোটা অংকের টাকা দাবী করায় নিজেই নামজারি আবেদন করেন। তিনি বলেন আমি নামজারির শুনানির দিনও উপস্থিত ছিলাম। শুনানিতে অংশ নিয়ে কানুনগো সার্ভেয়ার কাছে জমির হিস্সা বুঝিয়ে দিয়েছি। পরে তারা মজিবর রহমান জয়ের কাছে পাঠায়।
এ্যাডভোকেট মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, মজিবর সরাসরি আমার কাছে টাকা দাবী করে। টাকা না দেয়ায় আমার নামজারি কেইসটি বাতিল করে দেয়। কেন বাতিল হল পরবর্তীতে মজিবরকে জিজ্ঞেস করলে, সে নাজির সোহেল রানার সাথে দেখা করতে বলেন। নাজিরের সাথে দেখা করলে নাজির বলেন মজিবরই এর ব্যাখ্যা ভালো দিতে পারবে। তখন আর বোঝার বাকি নেই, টাকা না দেয়াতে এত নাটক। তিনি আরো বলেন, আমি একজন সিনিয়র আইনজীবী হয়ে এতটাই হয়রানীর শিকার হয়েছি তাতে সাধারন মানুষের কি অবস্থা হতে পারে। সাধারন সেবা প্রত্যাসীরা এদের কাছে জিম্মি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়সল বিন করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না বলে জানিয়ে দেন।
চলমান …



















