সুমাইয়া আক্তার, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিষিয়ে আছে মানুষের মন। কোনও কিছুতেই যেন মিলছে না শান্তি। এমন বিষিয়ে ওঠা মনে প্রকৃতি তার ছায়া ও ফুলের সৌন্দর্য দিয়ে কিছুটা শান্তি দেয়। এরই মাঝে গাছের দিকে তাকাতেই তপ্ত হৃদয়কে ছুঁয়ে যায় কৃষ্ণচূড়ার লাল আর জারুলের বেগুনি রং।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বরাবরই প্রকৃতির নানা রঙে রাঙানো। তবে গ্রীষ্ম আসতেই সেই রঙে যোগ হয়েছে এক অনবদ্য সৌন্দর্য,কৃষ্ণচূড়ার লাল এবং জারুল ফুলের বেগুনি আভা। কৃষ্ণচূড়ার লাল এবং জারুল ফুলের বেগুনি আভার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কেড়ে নিচ্ছে সকলের মন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে যেমন প্রধান ফটকের সমনে,শহিদ মিনারের নিকটে, নবাব ফয়জুনিসা ছাত্রী হলের নিকটে, আব্দুল মালেক উকিল হলের সামনে এবং প্রশাসনিক ভবনের পিছনের গাছগুলোতে ফুটে আছে মনমুগ্ধকর কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুল।চারপাশে যেন ছড়িয়ে পড়েছে রঙ্গের এক অনন্য উৎসব। তীব্র তাপপ্রবাহে মধ্যেও প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মনে শীতল স্পর্শ দিয়ে যায়, শান্তি খুঁজে পান তারা। সকালে রোদ ওঠার আগে ও বিকালে রোদের আঁচ কমলে অনেকেই এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে বের হন ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন স্থানে এভাবেই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়াও জারুল ফুল। একটুখানি স্বস্তি পেতেই ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে এখানে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই সময় কাটাতে, সহপাঠীদের সাথে খোশগল্পে করতে কৃষ্ণচূড়া ও জারুল গাছের নিচে অবস্থান করেন। কৃষ্ণচূড়ার উজ্জ্বল রঙের কারণে গ্রীষ্ম একটু বেশিই রঙিন।
এ বিষয়ে টুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জ্যোতি রহমান জানান, ” নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস আমার সর্বদাই খুব পছন্দের এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনে। সারা বছরই ভিবিন্ন রকমের ফুলের সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ থাকে এই ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে হাটতে বের হলেই মনটা ভরে যায়। বিশেষ করে এই জারুল এবং কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য চোখ জুরানোর মতো।বেগুনি ও লাল রঙ্গের এই ফুলগুলো গাছের ঢালে ঢালে ফুটে থাকে আর হালকা বাতাসে দুলে দুলে অপরুপ এক সৌন্দর্য সৃষ্টি করে।”
এ বিষয়ে ফার্মাসি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানান, ” সারাদিনের ক্লান্তি, অবসাদ কাটিয়ে তোলার জন্য এই ফুলগুলোই যথেষ্ট। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগ মুহূর্তেই বন্ধুদের নিয়ে বের হই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। তখন লাল, বেগুনি ফুলগুলো দেখে মনে হয় যেন এ এক জীবন্ত ক্যানভাস।”
প্রতিদিন অনেক বহিরাগত ক্যাম্পাসে ভিড় করেন এ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। কেউ কেউ দেখা যায় গাছের নিছে বিছিয়ে থাকা ফুল কুড়াতে ব্যাস্ত, কেউবা ব্যাস্ত এই সুন্দর দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্ধি করতে।নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রাকিব ইসলাম বলেন, “অফিসের ব্যস্ততার পর একটু শান্ত পরিবেশ খুঁজতেই পরিবার নিয়ে আজ বিকেলে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এলাম। ক্যাম্পাসটা অনেক গাছগাছালিতে ভরা, আর জারুল এবং কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন পুরোপুরি ফুলে ঢেকে গেছে। ফুলগুলো দেখে মনে হলো, প্রকৃতি নিজের মতো করে সাজিয়েছে জায়গাটা। সত্যি বলতে, এমন পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে পারা মানে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাওয়া।”



















