মফিজুর রহমান মুবিন, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালীতে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভালো দামের প্রত্যাশায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। দেশীয় পেঁয়াজের তুলনায় হাইব্রিড জাতের কিং পেঁয়াজ বেশি লাগানো হচ্ছে। কৃষকরা জানান, অল্প খরচে ভালো ফলন হওয়ার কারণে এই জাতের পেঁয়াজ বেছে নিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষকেরা পেঁয়াজ চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি পেঁয়াজের খেত পরিচর্যায়ও তৎপর তারা।
কৃষকদের বক্তব্য
রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. এরশাদ আহমেদ বলেন, “এ বছর দেড় একর জমিতে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। স্থানীয় শ্রমিক সংকট থাকায় পাশের উপজেলা বোয়ালমারী থেকে মিনি ট্রাকে শ্রমিক এনে কাজ করাচ্ছি। ফলন ও দাম ভালো পেলে লাভবান হব।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক রমজান শেখ বলেন, “১ লাখ টাকার পেঁয়াজের চারা কিনেছিলাম। চারা খুব একটা ভালো হয়নি, তবে দুই একর জমিতে রোপণ করেছি। আশা করছি ফলন ভালো হলে লাভ হবে।”
কামালদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. শহিদুল বলেন, “পেঁয়াজ চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। বীজের দামও অনেক বেশি। যদি ভালো দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে। তবে আবাদের পরিমাণ এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে।”
কৃষি অফিসের উদ্যোগ ও লক্ষ্যমাত্রা
মধুখালী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহাবুব ইলাহী জানান, “কৃষকদের প্রণোদনা, প্রযুক্তি এবং পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চাষিরা লাভবান হবেন।”
চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৫শ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর থেকে বেশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে, এবার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
মজুরি ও পেঁয়াজ রোপণ প্রক্রিয়া
কৃষকরা জানান, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিকরা দলবেঁধে পেঁয়াজ রোপণ করেন। জনপ্রতি মজুরি দেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে রোপণ কাজ সম্পন্ন হবে।
পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে চাষে আরও বেশি কৃষক আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
বার্তা প্রবাহ পত্রিকা (রেজিঃ নং- ডিএ-৪০৪৯) এর একটি অনলাইন প্রকাশনা।
২/সি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১000। মোবাইল : +৮৮ ০১৯ ১১৮০ ৪৫৮১
ই-মেইল : bartaprobah@yahoo.com