মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: এক আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষ। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি হয়েই পুরোপুরি জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। চর দখলের মতো দখল করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম। সেখানে নিজের লোকদের সাথে নিয়ে গঠন করেন অবৈধ ট্রাস্ট। নানা উপলক্ষ দেখিয়ে নামে-বেনামে লুট করেছে শত শত কোটি টাকা। গড়ে তোলেন লুটপাটের স্বর্গরাজ্য।
২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল। এই ১০ বছরে নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া- লোহাগাড়ার মানুষ ছিল তার জুলুমের শিকার। বাদ যায়নি আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাও। শুধু নিজের নির্বাচনী এলাকা নয় তার মতের বিরুদ্ধে গেলে অন্য এলাকার মানুষকেও জড়িয়ে দিতেন মামলায়। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীকে বারবার মামলা দিয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করিয়েছেন।
গত কয়েকদিন আগে রোববার রাতে ঢাকার উত্তরায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এই সাবেক এমপির আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হয়। জুলুম নির্যাতনের শিকার অনেকেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানাচ্ছেন তার হাতে নিগৃহীতের ঘটনা। গত ১০ বছর এই নির্বাচনী এলাকায় সীমাহীন পুলিশি হয়রানি, স্বেচ্ছাচারিতা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল, মামলার পর মামলা, মাহফিল নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটিতে স্বজনপ্রীতি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া, নিজ দলের লোকদেরকে কোণঠাসা করে রাখাসহ নানান অভিযোগ ছিল নদভীর বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পায় প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি দারুল মাআরিফ মাদরাসার সাবেক ছাত্র। একই সাথে জামায়াত নেতাদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় চট্টগ্রামের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে জালিয়াতি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছিলেন নদভী। এখন পর্যন্ত পিএইচডির থিসিস বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি। জানা গেছে, লোহাগাড়া সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে কোনো টাকা না দিয়ে শুধু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শেয়ার নিজের নামে। সাতকানিয়ার কেরানীহাটের নাকফুল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাও নেন এভাবে। ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। লোহাগাড়ায় নুরুল হক নুনু নামে একজন চাঁদা কালেক্টর ছিল তার। নুনু চাঁদা কালেকশন করে নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীর হাতে জমা দিত।প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার প্রতিটি হাট বাজার ,সিএনজি ষ্ট্যাশান,বালুর গদি,ব্রিক ফিল্ড সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মাসিক চাঁদা দিতে হতো নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজাকে।
এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে তার পছন্দের মানুষকে বিনাভোটে চেয়ারম্যান হিসেবে বসাতে শুরু করেন।
দুর্ব্যবহারের জন্যও প্রসিদ্ধ ছিলেন সাবেক এই এমপি ক্ষমতায় থাকাকালে। এক কর্মীকে থাপ্পড় মারার ভিডিও এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে।কথায় কথায় যে কাউকে চট্টগ্রামের ভাষায় বলতো জিঁয়াতা গারি ফেলাইয়্যমদে ওড়া তুরে।আঁরে চিনস না আঁই হড়িল্যা মানুষ?
নদভীর যুগকে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার মানুষ জাহেলী যুগ হিসেবে গণ্য করে। এলাকার সাধারন মানুষ তার কৃত কর্মের উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী
বার্তা প্রবাহ পত্রিকা (রেজিঃ নং- ডিএ-৪০৪৯) এর একটি অনলাইন প্রকাশনা।
২/সি, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১000। মোবাইল : +৮৮ ০১৯ ১১৮০ ৪৫৮১
ই-মেইল : bartaprobah@yahoo.com