সেপটিক ট্যাংক থেকে যুবকের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধার, মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার

0
110

সৈয়দা রোকসানা পারভীন(রুবি) : রাজধানীর দক্ষিণখান সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে নিখোজ ভিকটিম
আজহারুল ইসলাম (৪০) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর অর্ধগলিত টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ।

পরে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে হত্যাকান্ডের মূল হোতা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান (৫৪)কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এ সময় ধৃত আসামীর নিকট থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ৩ টি চাকু ও ১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে লাশের টুকরো টুকরো উদ্ধার করার কাজ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আজ মঙ্গলবার দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুজ সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার থেকে আজহারুল নিখোঁজ ছিল। আজহারুল পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানায়।
আজহারুলের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এসআই অনুজ আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান (৫৪)কে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

এদিকে, দক্ষিণখান থানার পরিদশর্ক (তদন্ত) আজিজুল হক মিয়া জানান, পোশাক কারখানা শ্রমিক আজহারুল থাকতেন দক্ষিণখান সরদারবাড়ি এলাকায়। কয়েকদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার ভোরে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে আজহারের ছয় টুকরো মরদেহ পাওয়া য়ায়।

পরে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। একটি সূত্রে খবর পেয়ে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন আজহারুলের লাশ কেটে সাত টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

এবিষয়ে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩ টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাব-১ এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

র‍্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেঃ কর্ণেল মোঃ আব্দুল মোত্তাকিম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরকে এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিওিতে সোমবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে র‍্যাব-১ এর গোয়েন্দা দল গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সিড়িতে রক্তের দাগ এবং সেপটিক ট্যাংক থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১ এর গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করলে এলাকাবাসীর নিকট জানতে পারে, ভিকটিম আজহার (৩০) বিগত ১৯ মে ২০২১ ইং তারিখ থেকে নিখোজ রয়েছে।

র‍্যাব-১ এর সূএে জানা যায়, এঘটনার পর নিখোজ ভিকটিমকে খুঁজে বের করতে দ্রুততার সাথে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। র‍্যাব-১ এর গোয়েন্দা তৎপরতায় এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে হত্যাকারী মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান (৫৪), পিতা- মৃত লুৎফর রহমান শেখ, মাতা- মৃত ছালেহা বেগম দক্ষিণখান থানার মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় ধৃত আসামীর নিকট থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ৩ টি চাকু ও ১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ধৃত আসামীর দেয়া তথ্যমতে র‍্যাব জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দক্ষিণখান থানার সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে ভিকটিম আজহার এর খন্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান সরদারবাড়ি জামে মসজিদে ৩৩ বছর ইমামতি করে আসছে। ভিকটিম আজহার এর ছেলে মোঃ আরিয়ান (৪) উক্ত মসজিদের মক্তবে পড়াশোনা করত। ভিকটিম নিজেও তার কাছে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করত। এ সুবাদে ধৃত আসামী ভিকটিমের বাসায় প্রায় যাওয়া আসা করত। যাতায়াতের কারণে মসজিদের খতিব ধৃত আসামী মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান এর সাথে ভিকটিমের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২১ তারিখে ধৃত আসামী মাওলানা মোঃ আব্দুর রহমান এর সাথে ভিকটিম আজহার এর কথা কাটাকাটি হয়। কথাকাটির এক পর্যায়ে ধৃত আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম আজহার এর গলার ডানপাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ভিকটিম ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করে।
পরবর্তীতে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যাকারী ভিকটিমের লাশ টুকরো টুকরো করে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। ধৃত আসামী বর্ণিত হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‍্যাব আরও জানান, এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে ।
এবিষয়ে ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।