মানুষের জীবন পরম মজার ও চরম সাজা ভোগ করার

0
1347
মো. মতিউর রহমান সরদার

বিশ্বে বিভিন্ন দেশ আছে এবং বিভিন্ন দেশে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও দু:শাসক, শোষক এবং সু-শাসক, যাদের মাঝে ধনি, গরীব, সাধারণ শ্রেণীসহ অসহায় শ্রেণীর অসংখ্য মানুষ রয়েছে। সু-শাসক হলে সে জাতির কপাল ভালো এবং কম-বেশী হলেও পৃথিবীর কিছু মজার স্বাদ ভোগ করার ভাগ্য মিলে, আর দু:শাসক ও শোষক হলে তো সে জাতির কপাল মন্দ। বিভিন্ন ধর্মের ধনি শ্রেণীর মানুষ অবশ্যই কেউ না কেউ রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির দায়িত্বে থাকে বা কারো আত্মীয়-স্বজন, আপনজন রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের আসনে থাকেন সরকার এবং প্রশাসনে। আবার দায়িত্বে না থাকলেও ধনি শ্রেণীর মানুষ। সুতরাং সেই হিসেবে কোথাও তাদের কোন প্রকারের সমস্যা ও কোন কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। যেহেতু তারা তাদের প্রয়োজনে কাজে আসে, উভয় উভয়কে সহযোগীতা করে, সমস্যার সমাধান পৌঁছে যায় কারোর ঘরে এবং সরকার ও প্রশাসন সহায়তা করে। এদের মধ্য থেকে আবার কেউ না কেউ কম-বেশী সাধারণ, গরীব, দু:খী ও অসহায় মানুষের প্রয়োজনে কাজে আসে। তবে তুলনা অনুযায়ী তেমন নয়, তেমন হলে কি সারা বিশ্বে গরীব, সাধারণ, অসহায় মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পায় এবং ভয়াবহ চরম কষ্টের জীবন কাটায় ? যাই হোক বিভিন্ন ধর্মের কোন কোন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ পৃথিবীর বুকে পরম মজার ও চরম সাজা ভোগ করার উপরেই থাকে। যার কোন বিরত নেই। কিভাবে দুনিয়ার মজা ও সাজার স্বাদ ভোগ করে সেদিকে একটু লক্ষ্য করি ! যার ক্ষমতা, ধন, সম্পদ আছে, তার যখন যা মনে চাইবে, তিনি পৃথিবীর বুকে মজার স্বাদ নেওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজনীয় কাজ আছে, সেই স্বাদ পূরণ করার জন্য তারা সে কাজগুলো বাস্তবায়ন করে যায়। যেহেতু তার অর্থ, সম্পদ ও ক্ষমতার অভাব নাই। তিনি চাইলেই দেশি-বিদেশী যত প্রকারের খানা-খাদ্য, ফলফলাদী, শাক-সব্জি, মাছ-গোস্ত আছে, তা প্লেনে করে অথবা শিপে করে নিয়ে আসবে এবং পরিবারের সকলকে নিয়ে ভোগ করবে ও হাঁসি-খুঁশি আনন্দ এবং পরম শান্তির মাঝে জীবন যাপন করবে। দেশ ও বিশ্বের যেখানে ঘুরতে মনে চাইবে, পরিবার-পরিজন নিয়ে ধনি ও ভোগবাদী মানুষ বিশ্বের সেখানে চলে যাইবে এবং তাদের যাওয়া আশার জন্য কোথাও কোন প্রকারের বাধার সম্মূখীন হতে হবে না। ধনিদের কারো পিতা, মাতা, শ্বশুর, শ্বাশুরী, ভায়রা ভাই, শ্যালিকাসহ নিজ এবং শ্বশুর পক্ষে যত আত্মীয়-স্বজন আছে, তাদের মধ্য থেকে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তখন তারা সাথে সাথে সরকারি, বে-সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পায় এবং সংবাদ পেয়ে এম্ব্যুলেন্স বাসায় চলে আসে এবং হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য করে বাসায় পৌঁছে দেয় এবং এর পাশাপাশি বিনামূল্যে দামী ঔষধ পেয়ে যায় এবং বাহির থেকে ঔষধ কেনার প্রয়োজন তেমন একটা হয় না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি অসুস্থ হলে জাতির অর্থ ব্যয় করে বিদেশে গিয়ে উন্নত মানের চিকিৎসার সুযোগ নিতে পারে, যে সুযোগ সাধারণ গরিব, দু:খী মানুষ নিতে পারে না যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাজা ভোগ করা। তাতে যত টাকা ব্যয় হোক না কেন, সব চলে যায় জাতির ঘাড়ে। তারা রাজপ্রাসাদ গড়ে তুলে দুনিয়ার বুকে বেহেস্তের ন্যায় মনে করে আরাম-আয়েশে জীবনকে উপভোগ করে নেয়। বিশাল বড় বাথ রুমে গিয়ে ঝর্ণা ছেড়ে, হাজার টাকার দামী শ্যাম্পু ও সাবান দিয়ে গোসল করে কিছু সময়ের জন্য জীবনকে তারা ধন্য করে। কোন কোন ধনি ব্যক্তি যেই দামী সিগারেট ও মদ পান করে এবং তারা চিত্ত বিনোদনের জন্য যে পরিমাণ টাকা ব্যয় করে এবং আনন্দ-ফুর্তির বাগানে ঘুরে বেড়ায়। তাদের এই ভোগ বিলাসীর পিছনে যেই পরিমাণ অর্থ অপচয় বা ব্যয় হয়। সেই টাকা দিয়ে অনেক পরিবার সাধারণ মানের ও স্বাভাবিক উন্নয়নের জীবন গড়ে তোলার সুযোগ পায়। মহান আল্লাহপাক উক্ত ব্যক্তিদেরকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি সম্পদ দান করেছেন। তা সাধারণ, গরীব, দু:খী, অসহায় ও অভাবী মানুষের কাজে আসার উদ্দেশ্যে এবং মানুষের প্রতি মানুষের যে দায়িত্বের হক রয়েছে, সে হক আদায় করার লক্ষ্যে। যদি সমস্যা কবলিত উক্ত মানুষের পক্ষে থেকে সকল প্রতিনিধি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সক্রিয় থাকতেন, তাহলে উক্ত শ্রেণীর মানুষ পরম শান্তির মজা বা স্বাদ ভোগ করার পুরো সুযোগ না পেলেও অন্তত স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করার সুযোগ পেয়ে উপকৃত হতো। আমি অন্যান্য কোন ধর্মের বিষয় নিয়ে কথা বলবো না, যেহেতু আমি একজন মুসলমান, সে হিসাবে আমার ভুল-ত্রুটি আমি আগে ধরব। লক্ষ্য করা যায়, আধুনিক যুগে অনেক মুফতি, মাওলানা রাজধানী ঢাকা শহরে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ী ও গাড়ীর মালিক, ব্যাংকে রয়েছে প্রচুর অর্থ-সম্পদ, যা মূলত সাধারণ মানুষের কাজে আসে না। তবে হ্যাঁ মায়া দেখিয়ে বয়ানে বলে গরীব, দু:খী মানুষের দু:খ-কষ্টের কথা এবং কেঁদে, কেঁদে বুক ভাসায়। কাজে আসে তাদের যারা ওনাদের অনুসারী হয়ে সব সময় পাশে থাকে এবং লেবাস পড়ে চলে। সাধারণ মুসলমানদেরকে সহায়তা দিয়ে উপকার করলে এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের আলোকে সঠিক কাজ করে উপকৃত করলে সমস্যা কোথায় ? সাধারণ মুসলমান এবং তাদের ভিতরে পার্থক্য কোথায় ? পার্থক্য হলো সাধারণ মুসলমান অনেকেই তাদের মত টুপি, পাঞ্জাবি, পাগড়ী, পাজামা পড়ে না। কিন্তু মুসলমান এবং কম-বেশী হলেও নামাজ পড়ে, রোজার হক আদায় করে। এতটুকু পার্থক্য। এই পার্থক্যের উপর দৃষ্টি করে সাধারণ মুসলমানদেরকে তারা বৈষম্যতার দৃষ্টিতে দেখে, যা বাস্তবতার আলোকে ঠিক নয়। অথচ তারা মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিম ছাত্রদের নাম করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তুলে। উক্ত টাকা কি মানুষের কল্যাণে কাজে আসে, না কি কতিপয় মুফতি, মাওলানার উন্নয়নের কাজে আসে ? তারা যদি সঠিক মানের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের আলোকে জীবন যাপন করে পথ দেখাতেন এবং মাঠে, ময়দানে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতেন, তাহলে ধনি শ্রেণীর অনেক মুসলমান আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে অনুসরণ করে জীবন যাপন করতেন, আর সাধারণ মানুষের উন্নয়নে সহায়তার হাত প্রসারিত রাখার শিক্ষা পেতেন এবং অপচয় করাও ত্যাগ করতেন। কিন্তু সেই বিষয়টি বলতে গেলে প্রায় অনুপস্থিত। যার ফলে অনেক সাধারণ মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে কষ্টকর ভয়াবহ সাজা ভোগ করে। ধর্মীয় এবং সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত বা আধা শিক্ষিত মানুষ যদি স্বার্থপর ও শয়তান হয়, তবে তারা হয় দুনিয়ার স্বার্থে স্বার্থপর মহা বড় শয়তান। ভালো মানুষগুলো থাকে নিরব দর্শকের ভূমিকায় এবং এই সুযোগে তারা স্বার্থ লুটে নেয় এবং শয়তানের জাল বিছিয়ে দেয় এবং মানুষ আটকা পড়ে যায়। সব ধর্মের গুরুজিরা যদি সঠিক ধর্মের আলোকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতেন, তাহলে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ কি করে অকালে প্রাণ হারায় ? পাষান নিষ্ঠুরের হাতে এবং দুনিয়ার মজা লোভী ও ভোগ বিলাসীদের জন্য গরীব, দু:খী, অসহায়, সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে কি কঠিন কষ্টের সাজা ভোগ করে যা ভূক্তভোগীরা ছাড়া উপলদ্ধি করতে পারে না। আমরা যারা আজকের বৈধ-অবৈধ অর্থ-সম্পদের মাঝে ভোগ বিলাসী জীবন-যাপন করে সর্ব প্রকারের সু-স্বাদু খানা-খাদ্য ভোগ করছি এবং রাজপ্রাসাদে বসবাস করছি। নেতৃত্বের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন থেকে বিরত থাকার অপরাধে তাদের জন্য আগামী দিনের ভয়াবহ সাজা অবশ্যই অপেক্ষা করছে এবং সাজায় তখন গ্রাস করে নিবে। আজকের যারা বিভিন্নভাবে দুনিয়ার উপরে বিভিন্নভাবে কষ্টকর জীবন-যাপনের মাধ্যমে সাজা ভোগ করে যাচ্ছে, তাদের জন্য মহান আল্লাহপাক আগামী দিনের চিরস্থায়ী বসবাসের স্থানে অনন্তকাল মজা ভোগের ও সর্বোচ্চ বিলাসী জীবন-যাপন করার সুযোগ দান করবেন, যদি ন্যায়ের পথে থেকে কষ্টকর জীবন-যাপন করার প্রমাণ পান। আসুন উপরের অংশের এবং নীচের অংশের যাবতীয় বিষয়াদী মিলিয়ে দেখি কত প্রকারের কষ্টের ভয়াবহ সাজা আমরা অনেকেই ভোগ করে যাচ্ছি। কোন কোন ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষক ও উন্নয়নবাদী নামের সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী, কোন কোন দেশের সরকারের ভালো-মন্দ কর্মকে সমর্থন দেয় এবং অনুরূভভাবে কোন রাজনৈতিক দলের বিরোধী দলকেও সমর্থন দেয়, আর ক্ষমতায় নিয়ে যাবে এবং কাউকে নামিয়ে দিবে সে আশ্বাসও দেয়। মোট কথা হলো দালালী করার জন্য যত রকমের তেল মেরে দুনিয়ার সকল মজার সুবিধা আদায় করে নেওয়া যায়, সেই প্রকারের বক্তৃতা ও বয়ান করে। সনদ প্রাপ্ত ও লেবাসদারীরা অন্যায় করতে পারে না, অন্যায় কথা বলতে পারে না, যা আমাদের ধারণা, কিন্তু বাস্তবতা বলে পর্দার আড়ালে তারা অনেকে- অনেক কিছুই করতে পারে, যা মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ ছাড়া সহজে কেউ উপলদ্ধি করতে বা বুঝতে পারে না। তাই তো কতিপয়দের কারণে প্রায় সকলকেই আজকাল মানুষ ঘৃণা করে, ধিক্কার জানায়। কিছু সংখ্যক রাজনীতিবিদ যে সকল কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে, সে রকম কর্মকান্ডতো আমাদের ওলায়ে কেরামদের কাছ থেকে আশা করি না। আমরা আশা করি ভালো কর্মগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষকে ভালো পথে নিয়ে যাবে এবং ভালো ফসল ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে। বৃটিশ চলে গেছে, কিন্তু তাদের কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করার মত লোক বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মাঝে রেখে গেছে যারা বিভিন্ন লেবাসের আড়ালে এবং সনদ দেখিয়ে দুনিয়ার স্বার্থ উদ্ধার করে। হাতে গোনা কিছু সংখ্যক মানুষ রয়েছে, যারা মানুষকে আলোকিত পথে প্রবেশ করার আহ্বান করেন। আর উক্ত শ্রেণীর স্বার্থবাদীরা দুনিয়ার সব রকম মজা ও স্বাদ ভোগে বিশ্বাসী, তাই করে যাচ্ছে যা ইচ্ছা, খুঁশি। মহান বিধাতা ছাড়া ওদেরকে কে বলবে কি, ওদের সাখে কেউ পেরে উঠতে পারে না কি ? ওরা পতাকা, সনদ এবং লেবাসের অধিকারী। কিন্তু তারপরেও মানুষ কবিতায়, সাহিত্যে, ছন্দে, গদ্যে, পদ্যে, গানে ও ছড়ার মাঝে, লেখায়, কথায়, প্রকাশের মাধ্যমে ও প্রতিবাদে উক্ত স্বার্থবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে থাকে। যার ফলে পৃথিবীর বুকে কম-বেশী এখনও আলোকিত কাজ হচ্ছে। মাওলানা, ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলাম বলে ভিক্ষা করা নিষেধ, যা খুবই সুন্দর দিক-নির্দেশনা। এই সুন্দর দিক-নির্দেশনা দান করেছেন মহান আল্লাহপাক, যা মানুষের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক। কিন্তু তারপরেও মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ কম-বেশী ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবন-জীবিকার প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। ভিক্ষা করার প্রয়োজন হতো না, যদি মহান বিধাতার বিধি-বিধান মেনে সকল সম্পদশালী এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা সম্পদ, টাকা, ক্ষমতা ও ঈমানী দায়িত্বের হক আদায় করতেন। আমরা রাস্তা পথে কেউ কেউ নারী-পুরুষ উভয়কে বলি, তোমরা কাজ করতে পারো না, ভিক্ষা করো কেন ? কথাটি অত্যন্ত সহজ, কিন্তু কাজ পাওয়া দু:স্কর বা কঠিন বিষয়। বাংলাদেশসহ সৌদি আরব এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহিলারা বিভিন্ন বাসা-বাড়ী ও অফিসে কাজ করে। তারা ধর্ষণের শিকার হয় এবং নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়, সেই বিষয়টি আমরা বিবেচনা করি না এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষ মানুষও নির্যাতনের শিকার হয়। জানি না কতজন মাওলানা, ওলামায়ে কেরাম বা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষসহ সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও সম্পদশালী তাদের মধ্য থেকে আমরা কতজন সেই নিয়ম কানুন মেনে চলি বা ঘৃণিত কর্মকান্ডকে ঘৃণা করি বা প্রতিবাদ জানাই ? এবার বিশ্বাস করতে হবে মানুষ কেন ভিক্ষা করে, তা বুঝে আসবে উক্ত বিষয়ের আলোকে সু-শিক্ষার জ্ঞান দ্বারা পর্যালোচনা করলে তা অবশ্যই বিবেকের বিচারে ধরা পড়বে এবং বুঝে আসবে মানুষ কেন ভিক্ষা করাসহ বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে। জাতিকে ভালো পথে থাকার ও রাখার জন্য সহায়তার পথ খুলে দেওয়া প্রতিটি দেশের সরকার, প্রশাসন এবং সুশীল সমাজসহ বিত্তবানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পৃথিবীতে সকল মানুষ কি অপরাধ করে অর্জনের পথে চলে বা অবৈধ অর্জনের টাকা দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে ? সকল মানুষ কি সহজে হাত পেতে চলে বা সহায়তা চায় ? মানুষ যখন নিরুপায় এবং অসহায় হয়, তখন মানুষ মানুষের কাছে সহায়তা পাওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়, আর মানুষ তো মানুষের কাছে যাবে, প্রয়োজনে সহায়তা চাইবে, যা কোন অপরাধ বা পাপ নয়। কোন কোন প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান ও দূর্নীতিবাজের মুখে শুনি, কেউ কাউকে উন্নয়ন করে দেয় না, উন্নয়ন ছিনিয়ে নিতে হয়। এ কথাগুলো তাদেরকেই বলে যারা উক্ত ব্যক্তির কাছে বিশেষ প্রয়োজনে সহায়তা পাওয়ার ও উপকৃত হওয়ার আশা নিয়ে যায়। তিনি যে কথা বলেছেন অর্থাৎ উন্নয়ন ছিনিয়ে নিতে হয়, তার সেই কথায় কি মানুষ অপকর্মে জড়িত হওয়ার পক্ষে উৎসাহিত পায় না ? তিনি তো ক্ষমতার প্রভাবে চাওয়ার আগে উন্নয়ন পেয়ে যায়, সকলের পক্ষে কি সেই উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয় ? ধনি, ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী এবং গরীব, দু:খী, সাধারণ মানুষের অবস্থান ও অবস্থার মাঝে পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মনের ভিতরে কারো পার্থক্য নাই। উভয়ের মনের মাঝে একই প্রকারের চাহিদা থাকে। কেউ পূরণ করতে পারে, কেউ পূরণ করতে পারে না। যার ফলে কেউ ছেলে-মেয়েদেরকে পড়ালেখা করাতে পারেন না, পড়াতে পারলেও সামান্য যা তেমন কোন কাজে আসার কথা নয়, অথচ এই শ্রেণীর মাঝে অনেক মেধা সম্পন্ন ছেলে মেয়ে আছে। যাদেরকে পড়ালেখা করাতে পারলে দেশের সম্পদে পরিণত হতো। সুতরাং ধনিদের মত উন্নত জীবন-যাবন করা এবং খানা, খাদ্য ভোগ করার সাধ্য হয় না এবং ছেলে-মেয়েদেরকে দেশী-বিদেশী স্কুল-কলেজে পড়ালেখাও করাতে পারেন না। তাই গরীব, দু:খী, সাধারণ মানুষের উন্নয়ন পিছিয়ে রয়। যার ফলে ধনি শ্রেণীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাওয়ার প্রয়োজন মনে করে গরীব, দু:খী, সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর প্রতিনিধিদের কাছে যোগাযোগ করে। যেহেতু এই শ্রেণীর মানুষের মনেও চায় পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোনদের সহযোগীতায় আসুক, কাজে লাগুক, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করুক। মহৎ আশা নিয়ে যারা স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিধিদের কাছে যোগাযোগ করে, তাদের সকলে উন্নয়নের মুখ দেখতে পারে না। ভাগ্যক্রমে কেউ কোন ভাল প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে এবং স্বাভাবিক উন্নয়নে সহায়তা পেয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনকে গড়ে নিতে পারে। বাকী অসংখ্য বেকার এবং অন্যায়ভাবে চাকুরীচ্যুত অসংখ্য বেকার বাংলাদেশে রয়েছে, যারা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে না, বা তাদের প্রতি সকলের দৃষ্টি আসে না। তারা কিছু সংখ্যক সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদদের কাছে যুগ, যুগ ধরে ব্যবহার হয়, যা পরিস্থিতির শিকার। তবুও সহায়তা পাওয়ার আশা রেখে, মিটিং, মিছিল, সমাবেশে যোগদান করে কিন্তু তারা অতীত মনে রাখে না, অনেকের দিন পরিবর্তনের শেষে। বেকার, অসহায়, অভাবী, দরিদ্র মানুষ প্রতিদিন সকালে বড় আশা বুকে নিয়ে বের হয়, হয়তো এভাবে নেতাদের পিছনে ঘুরতে, ঘুরতে, কাজ করতে করতে হয়তো স্বাভাবিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন একটি পথ খুলে যাবে, অথবা ব্যবস্থা করে দিবে। পুরুষ অভিভাবক সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রী, স্বামীকে প্রয়োজনীয় সাংসারিক যা কিছু দরকার হয়, সে বিষয়গুলো স্বামীকে স্মরণ করিয়ে দেয়, এগুলো প্রয়োজন আছে। সুতরাং বুঝে নিতে হবে, একটি সংসার এবং মানুষের জীবিকা চাহিদা পূরণ করার জন্য কি কি প্রয়োজন আছে ? আর কিছু না হোক কম দামী চাল, ডাল, আলু ভর্তা, শাক-সবজি, মাছ হয়তো সকলের ভাগ্যে জুটবে না। কিন্তু সারাদিন শেষে পুরুষ অভিভাবক যখন বাসায় যায়, তখন শূন্য হাত দেখা যায়, স্ত্রী ছেলে-মেয়ে বলে যা বলেছিলাম, তাতো কিছুই নিয়ে আসো নাই, এখন কি করবো ? স্ত্রী স্বামীকে বলে বাসায় আসতে তোমার রাত হয়েছে দেখে আমি পাশের ঘর থেকে চাল হাওলাত করে নিয়েছি এবং টাকা হাওলাত করে ডাল, আলু, সবজি কিনেছি। তাদেরকে কিভাবে এগুলো পরিশোধ করবো ? স্বামীর উত্তর আগামীকাল হয়ে যাবে। স্ত্রীকে দেওয়া কথা অনুযায়ী আগামীকাল বাসায় এসে কর্তব্য পালন করতে পারলো না স্বামী এবং স্ত্রীকে বললো আজকেরও কোন ব্যবস্থা করতে পারলাম না, এই হলো দেশের ভিতরগত বাস্তব অবস্থা। কেউ জানি, কেউ জানি না। দেশে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ভিত্তিক সংগঠন আছে, যারা ছোট ছোট সংগঠনের সদস্য, সদস্যা বানিয়ে বড়, বড় রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের মিটিং, মিছিল, সভা, সমাবেশ কিংবা মানব বন্ধনে মানুষ সরবরাহ করার বিনিময় টাকা পায় উক্ত সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বাকী যারা সদস্য বা সদস্যা কিংবা বাহির থেকে যারা আসে, তারা বঞ্চিত হয়ে থাকে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত হলে ঐ সমস্ত লোকদেরকে একটি বিস্কুট, এক কাচ চা, এক গ্লাস পানি খাইয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়, সভা শেষে। সুতরাং রাতের বেলা অনেকেই শূন্য হাতে বাসায় যাওয়া ছাড়া কি আর করার আছে ? অসহায় ও পুরুষ অভিভাবকহীন অনেক নারী ও মেয়ে আছে, যাহারা কোন প্রতারক চক্রের কাছে পড়ে যায়, সহায়তা ও সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন পথে ধাবিত করে দেয় এবং এর ফলে কেউ অন্ধকার পথে চলে যায়, কেউ মানব পাচারকারীদের হাতে পরে বিদেশে গিয়ে জিম্মি হয়ে বিদেশের মাটিতে জিম্মি জীবন কাটায়। তাদের কারো, কারো ছোট, ছোট ছেলে-মেয়ে দেশের মাটিতে অভিভাবক শূন্য রয়। এদিকে সাধারণ, গরীব, দু:খী, অসহায় ও অভাবী মানুষ যদি অসুস্থ হয়, তাহলে তাদের পক্ষে ফোন করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা ও বিনা মূল্যে ঔষধ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগীতয়া কেউ সরাসরিভাবে থাকে না। তবুও কেউ চিকিৎসা ও সরকারি ঔষধ পাওয়ার জন্য হাসপাতালে যায় কিন্তু তারা বারান্দায় শুয়ে থেকে যন্ত্রণায় কাতরায়। কেউ কেউ ডাক্তারের ব্যবস্থা পত্র অনুযায়ী নির্ধারিত ঔষধ ক্রয় করে খেতে পারে না, আংশিক ঔষধ ক্রয় করতে পারলেও পরিপূর্ণরূপে ঔষধ ক্রয় করে খেতে পারে না, যার ফলে রোগ থেকে মুক্তি হতেও পারে না। সুতরাং অনেক মানুষের জন্য সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর, সুন্দর সকল সৃষ্টি দেখার ভাগ্য হয় এবং ভোগবিলাসী জীবন যাপন করার ও খানা খাদ্যের মজার স্বাদ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়। আর কেউ এই সুন্দর পৃথিবীর বুকে বিভিন্নভাবে কঠিন বড় সাজার শান্তি ভোগ করে যায়। কাতার কেন উন্নয়নের শীর্ষ অবস্থানে। বাংলাদেশ এবং কাতার প্রায় সম সাময়িক সময় মহান স্বাধীনতা লাভ করেছে। সেই কাতার আজ বিশ্বের শীর্ষ ধনি দেশে পরিণত হয়েছে। কাতারে নেই কোন গরীব, দু:খী, অসহায় ও অভাবী মানুষ এবং নেই উন্নয়নে বৈষম্যবাদী নেতৃত্ব। নেই দু:শাসন, শোষন, দূর্নীতি, টাকা পাচারকারী, মানব পাচারকারী, খুনি, সন্ত্রাসী, ধর্ষণকারী, মুজদদার, কালো বাজারী, সুদখোর, ঘুষখোর, মুনাফাখোর, অন্যায়, অবিচার ও বিচারে বৈষম্যতা। সর্বক্ষেত্রে সমতা। কাতারের জনগণ পেয়েছেন দুর্নীতিমুক্ত সুশাসক ও সোনার মানুষ। তাদের মাঝে আছে দেশপ্রেম, জাতিপ্রেম এবং উন্নয়ন প্রেম। কারো অর্থ-সম্পদ, বাড়ী-ঘর, জমি দখল করে, কেউ কাউকে ঠকিয়ে ধনি হবে এবং কাউকে দরিদ্র বানিয়ে ধাবিয়ে রাখবে সেই প্রকারের হীন চিন্তার স্থান তাদের অন্তরে নেই। কাতার রাজতন্ত্র। কিন্তু রাজকীয় নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় আলোকিত বিবেকের আলোকে কাতারের প্রতিনিধি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকেন। তাদের নীতি, আদর্শ ও সুশিক্ষা গ্রহণের জন্য তাদেরকে এবং উন্নত বিশ্বের তথা বাংলাদেশের পূর্বসূরীদের ভালো কর্মগুলোকে অনুসরণ করলে শিক্ষনীয় দর্শণ লাভ করা যাবে, যার মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করা সহজ হবে। বাংলাদেশের অনগ্রসর মানুষকে অগ্রসর করানোর লক্ষ্যে দূর্নীতিবাজদের ও টাকা পাচারকারীদের কাছ থেকে অবৈধ টাকা উদ্ধার করে তাদের মাঝে সরাসরিভাবে বন্টন করে দেওয়া আইনে বা নিয়মে কার্যকর কারতে হবে। যাদের মাথা গোঁজার ঠাই নাই এবং ভূমিহীন তাদের মাথা গোঁজার ঠাই করার জন্য। ভূমিদস্যূদের দখলে থাকা সরকারী জমি উদ্ধার করে ভূমিহীন ও ছিন্নমূলদেরকে একত্রিত করণের মাধ্যমে সঠিক তালিকা মোতাবেক জমি বরাদ্দ করে স্বাভাবিক মানের ঘর তৈরী করে দেওয়া উন্নয়নে অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর ফলে ভূমিহীন মানুষদের বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে যে সমস্ত দূর্বল মানুষের জমি দখল করে নিয়েছে, তাদের জমি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়ে সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করে দূর্বল মানুষকে উপকৃত করতে হবে এবং এতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কথার উন্নয়নের চেয়ে কাজের মাঝে উন্নয়ন করা দরকার বেশী।

লেখক : মো. মতিউর রহমান সরদার, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।