মাথা খোলা রেখে জনসমাগমে যেতে পারবে ইরানের নারীরা

0
437

অনলাইন ডেস্ক : মাথা খোলা রেখে জনসমাগমে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে ইরানি নারীদের। এখন থেকে আর মাথা খোলা রেখে জনসমাগমে যাওয়া নারীদের গ্রেফতার হতে হবে না।

৩৯ বছর ধরে চলমান কড়া পোশাক রীতির ভেঙে হঠাৎ এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ২৮ ডিসেম্বর রাতে হঠাৎ করেই এমন ঘোষণা দেয় ইরানের পুলিশ। এর ফলে ১৯৭৯ সাল থেকে চলমান ‘ইসলামিক আইনের’ উল্টোটা দেখা যাবে।

ইরানের সিটি পুলিশ চিফ হোসেইন রাহিমি বলেন, এখন থেকে যারা ইসলামিক পোশাক রীতি মেনে চলবে না তাদের আর আটক করা হবে না। আর তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কোন মামলাও দায়ের করা হবে না।

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পোশাকের শিথিলতা শুধু রাজধানীতেই প্রযোজ্য। তবে ‘পাপাচারী’দের অবশ্যই আটক করা হবে এবং পুলিশের আয়োজিত ক্লাসে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে।

তবে শিয়াপ্রধান এই রাষ্ট্রে এমন পদক্ষেপ বেশ ক্ষোভের সৃষ্টি করবে বলে ধারণা অনেকের। তারা মনে করে, হিজাব মুসলিম নারীদের জন্য একটি বিনয়ী পোশাকের রীতি। নতুন আইনটি আনা হয়েছে কারণ অনেক নারীই এখন এই আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।

মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট রুহানির পুনঃনির্বাচনের কারণেই চলমান এই আইনে শিথিলতা এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে। ইরানের প্রতিযোগি সৌদি আরবে এখনো অনেক সংস্কার চলমান রয়েছে। তারপরও মোহাম্মদ বিন সালমানের কারণে কিছু কিছু সংস্কারে শিথিলতা আসছে। সেখানে নারীদের খোলা মাথায় বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। তারা উন্মুক্তভাবে কোন পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে না। তবে ধীরে ধীরে এসবে পরিবর্তন আসছে।

এই মাসে ব্রিটিশ কূটনীতিক কারেন পিয়ার্স ইরানে বোরিস জনসনের সঙ্গে গিয়ে কোন হিজাব না পরায় সমালোচনার শিকার হন। এমনকি ইরান সরকারের মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের হোস্ট জাভেদ জারিফ তাকে হিজাব পরার কথা বলেন। ইরানের গণমাধ্যম এটিকে ‘ঠিক হয়নি’ হিসেবেই উল্লেখ করেন। কিন্তু কারেনের পক্ষে দাঁড়ান নারীবাদীরা।

১৯৭৯ সাল থেকে চলমান ইরানের এই আইনের পরে অন্তত দুটি প্রজন্ম নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছে। অনেক নারী তাদের মাথার পেছনের অংশ ঢেকে বেশিরভাগ চুল খোলা রেখে এই আইনের সীমানা অতিক্রম করেছে। আর সম্প্রতি অ্যাক্টিভিস্টরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খোলা চুলের ছবি দিচ্ছেন।

নেইল পলিশ ও টাইট ফিটিং পোশাকেও বাঁকা চোখে তাকায় ইরান। আর পুরুষদের জন্য রয়েছে শর্ট প্যান্ট ও শার্টবিহীন বাইরে বেরুনোর উপর নিষেধাজ্ঞা। বেশিরভাগ সময় এর ব্যতিক্রম ঘটলে তাদের পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওযা হয় এবং কাপড় সরবরাহ করা হয়।