বগুড়ায় দোকান ঘর দখল, প্রকাশ্যে হামলা ও ভাংচুর॥ দুই ব্যবসায়ীকে মারপিট

0
29

মোঃ শামসুল আলম লিটন, বগুড়া : বগুড়ায় শহরের স্টেশন রোডে প্রকাশ্যে দোকান ঘর দখলের জন্য পিকে ট্রেডার্স ও জয়ফল ভান্ডার নামে দু’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রসাীরা। এঘটনার সময় দুই ফল ব্যবসায়ীকে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ও দুপুর বেলায় ওই ২টি দোকান দখলের জন্য তা ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের মারপিটের শিকার হন শফিউল(৩৪) ও সাব্বির(৩০) নামে দুই ফল ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে একজনের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। বগুড়া রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট মার্কেটের নির্মান ঠিকাদার আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায় বলে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার শিকার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন,আব্দুল মান্নান আকন্দ নামে ওই প্রভাবশীল ঠিকাদার দীর্ঘ দিন ধরে কল্যাণ ট্রাস্টের মার্কেটের সামনের একাংশে অবস্থিত তাদের দোকান দখলের চেস্টা করছিলেন। তারা রেলওয়ের নিকট থেকে বৈধ ভাবে লাইসেন্স নিয়ে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। মার্কেটের সামনের অংশ প্রসস্ত করার করার নামে দোকান দখলের চেস্টা চলছিলো। দোকান ছাড়ার জন্য ইতোপুর্বে তাদের প্রাননাশের হুমকিও দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে দোকান ঘর দখলের জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালায়। দোকান মালিকরা দুপুরের দিকে আবার ভাঙ্গা দোকান মেরামত করার উদ্যোগ নেন। ফল ব্যবসায়ী শফিউল আলম ও রেজাউল হক গোলাপ অভিযোগ করেন, আব্দুল মান্নান আকন্দ নামে এক ব্যক্তি তাদের দোকান ঘর দখলের জন্য দুপুরে পৌনে ১ টার দিকে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এসময় হামলাকারীরা দুই ফল ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে ফেলে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে পিকে ট্রেডার্সের শফিউল ও তার ভাই সাব্বির এগিয়ে আসলে তাদের মারপিট ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ফল ব্যবসায়ী শফিউলের মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলায় অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স বাতিল বলে উল্লেখ করে জানান, রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিনি দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়েছিলেন। এসময় তিনি চর থাপ্পর মারার কথা স্বীকার করেন। তবে রেলওয়ের বিভাগী ভু সম্পত্তি কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি অবগত নন এবং কোন উচ্ছেদ অভিযান মঙ্গলবার পরিচালনা করেননি। অপর দিকে হামলার শিকার ব্যবসায়ীরা জানান, তারা রেলওয়েকে লাইসেন্স ফি দিয়ে সেখানে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বগুড়া রেলওয়ের কানুনগো গোলাম নবী জানিয়েছেন, ওই ব্যবসায়ীরা রেলওয়ে থেকে লাইসেন্স নিয়েছেন। ভাংচুরের বিষয়ে বগুড়ার সদর থানার ওসি জানান,এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।