টঙ্গী পূর্ব থানা শেরে-বাংলা রোড এলাকায় গভীর রাতে ডাকাতি এলাকা জুড়ে আতংক

0
23

সৈয়দাঃ রোকসানা পারভীন- গাজীপুরের টঙ্গীতে একই রাতে পাশাপাশি দুই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে মধ্য আরিচপুর শেরে-বাংলা রোড এলাকার কাজী মনির হোসেন রুবেল ও পারভেজের বাড়িতে ডাকাতির এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বরকত উল্লাহ, উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ, অতিরিক্ত উপ কমিশনার হাসিবুল আলম, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিদর্শক মুখলেছুর রহমান ও পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক রফিকুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকতারা। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, সোমবার ভোর রাত তিনটার পর ৬/৭ জনের একদল ডাকাত প্রথমে শেরে বাংলা রোড এলাকার কাজী মনির হোসেন রুবেলের বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতদল দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে রুবেলের ঘরে প্রবেশ করে আলমারি থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। পরে ওই বাড়ির ছাদ দিয়ে পাশের পারভেজ হোসেনের দোতলা বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় ডাকাতরা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জুনিয়র এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আব্দুল বাতেনের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ফ্ল্যাটে থাকা আব্দুল বাতেন ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে ঘরের আলমারি থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্নালঙ্কার লুটে করে পালিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। পরে ওই ডাকাতদল পার্শ্ববর্তী হাজী শহিদুল্লাহ ভান্ডারির বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে। তবে বাড়ির লোকজন টের পেয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। এদিকে ডাকাতির ঘটনার সময় আব্দুল বাতেনের পরিবারের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী নাহিদা আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নাহিদা আমজাদ আলী সরকার স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল থেকে উৎসুক জনতা ওই এলাকায় ভীড় জমায়। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের ডাকাতি সংগঠিত হওয়া আব্দুল বাতেনের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ওই বাড়ির মূল গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে ভুক্তভোগী কাজী মনির হোসেন রুবেল জানায়, রাতে আমি বাড়িতে একা একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলাম। ডাকাতদল আমার ঘরে প্রবেশ করে আলমারির ড্রয়ার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। সকালে পাশের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা জানাজানি হলে ঘুম ভেঙে দেখি আমার ঘরেও একই সময়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল বাতেন বলেন, রাতে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এসময় ৬/৭জন ডাকাত ঘরের মূল দরজা ভেঙে প্রবেশ করেই আমাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেশিয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। পরে ডাকাতদল আমাদের ঘরে থাকা নগদ ২৭ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৫/৬জন দুস্কৃতিকারী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল বাতেনের ঘরের দরজা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। একই সময় পাশের আরও একটি বাড়ি থেকেও নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। দুস্কৃতিকারীরা ঘরের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার অনুসন্ধানে কাজ করছে। আশপাশের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।