একাধিক অভিযোগের ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরু

0
43

সৈয়দা রোকসানা পারভীন (রুবি)- গাজীপুর মহানগর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৪৬ নং ওয়ার্ড হিমার দিঘী এলাকার একজন ভৃমিদস্যু হিসাবে খুব পরিচিত মুখ ভূমি জবর দখল সহ বিভিন্ন অপরাধে বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার দুই শ্যালক মোঃ মিজানুয রহমান রিংকু ও কিষাণকে ডান হাত ও বাম হাত হিসাবে কাজ করে এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে।তার দুই শ্যালকের নামে টঙ্গী পূর্ব থানায় বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নূরুর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে টঙ্গী পূর্ব (সাবেক টঙ্গী মডেল)থানায় ত্রিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি দশ লক্ষ টাকার মালামাল লুট এবং দশ লক্ষ টাকার মালামাল ভাংচুরের অভিযোগে একটি মামলা হয়। মামলা নং ৫২ তারিখ ২৮/১১/২০১৬ ইং।২০১৬ সালে জয়দেবপুর থানায় অন্য একটি মামলার কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু ১৩ নং আসামী হিসাবে পাওয়া যায়। এছাড়াও ২০১৬ সালে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিট্রেট আদালত গাজীপুর, কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরুর নামে আব্দুস সালাম মৃধা বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন,মামলা নং-৮৫ তারিখ ০৭/১২/২০১৬ ইং।
সামান্য মহিষের গাড়ির চালকের ছেলে হয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অর্ন্তগত ৪৬ নংওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু, পিতা: মরহুম নিজাম উদ্দিন, সাং-হিমারদিঘী, পো: মন্নুনগর, থানা: টঙ্গী পূর্ব, জেলা: গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ডে কাউন্সিলর হয়ে এখন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও রেহাই পাচ্ছেনা তার অত্যাচার থেকে। রাতারাতি হাজার কোটি টাকার বনে যাওয়া ভূমি দস্যু কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরুর অত্যাচারে এলাকাবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার ভূক্তভোগীরা। এমনকি ধান কাটার সময় রাস্তায় বাঁশ বেধে অবরোধ করে জনগন চলাচলে বেঘাত ঘটায়। তার বিরুদ্ধে এলাকার জমি জবরদখল, চাঁদাবাজি, সিটি কর্পোরেশনের টাকা আত্মসাত, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় ও মাদক ব্যবসার লভ্যাংশ ভাগ করে নেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে নিবাঁচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করেছে। হলফনামায় তিনি লিখেছেন তার একটি গাড়ী আছে, জমির পরিমাণ ৬৬.৭৫ শতাংশ অকৃষি জমি, ৫১ শতাংশের উপরে একটি ৬ তলা ভবন, নগদ টাকার পরিমাণ ৮,১৭,৮৩০/- (আট লক্ষ সতের হাজার আটশত ত্রিশ) টাকা, ব্যাংকে জমা ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা, তার বাৎসরিক আয় ৪৩,৯৭,৮৯২/- (তেতাল্লিশ লক্ষ সাতানব্বই হাজার আটশত বিরানব্বই) টাকা, তার কাউন্সিলর সম্মানী ভাতা ২,১০,০০০/- (দুই লক্ষ দশ হাজার) টাকা, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে তার একটি হল- বিশেষ ক্ষমতা আইনে, নং- ১৩৯/২০১৬ এবং ৩৭(৪)১৭। প্রকৃত তথ্য হল তার মামলার সংখ্যা ৫ টি, ১. বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৩৯/২০১৬, ২.৩৭(৪)১৭, ৩. ৫২/৪৬৬ তারিখ-২৮/১১/২০১৬, ৪. পি: ১৪৩৩/২০১৬, ৫. পি: ৮৫৭/১৬, গাড়ীর সংখ্যা তিনটি যার একটি হল হ্যারিয়্যার, একটি রেভ ৪ ও আরেকটি এলিয়ন গাড়ী। বাড়ি একটি ৪ তলা যা নির্মাণ খরচ প্রায় ৩ কোটি টাকা, গার্মেন্টস ১টি ৬ তলা, কারখানা ২টি (১টি সিটের তৈরী, ১টি ১ তলা বিশিষ্ট ওয়াশিং প্লাংন্ট), ফ্ল্যাট ২টি (ধানমন্ডিতে ১টি, কক্সবাজারি ১টি), প্লট ২টি ১। উত্তরায় ১টি আনুমানিক ১৮ নং সেক্টরে, ২। নিজ বাড়ির সামনে রাজউক এর প্লট) যা কিছুদিন আগে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এর কাছে বিক্রি করেছে, জমি ১ কলাবাগান রোডে বাড়ীর পাশের্ অবৈধভাবে দখলকৃত জমির পরিমান ২৭২ শতাংশ যার দাগ নং আর. এস. ৪৮,৪৯,৫০,৫২,১৪৭৯ ও ১৫১৬ নং, যা হিমারদিঘী ও দত্তপাড়া মৌজায় অবস্থিত, ২। টঙ্গী মারুকা মরকুনের পূর্বে জমির পরিমাণ ৭০ বিঘা, ৩। শিলমুন জমির পরিমাণ ৩ বিঘা, একাধিক ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় আছে ১। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ, গাজীপুর শাখা, ২। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিঃ, টঙ্গী শাখা, পুবালী ব্যাংক, টঙ্গী শাখা ও অন্যান্য ব্যাংক এ প্রচুর টাকা সঞ্চয় আছে, যা সে হলফনামায় গোপন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। ২ ছেলে ১ মেয়ে, বড় ছেলে রিদুল, তার স্কুলের বাবদ মাসিক বেতন ছিল ৪ হাজার ডলার, স্কুল আই. এস. ডি. বসুন্ধরায় অবস্থিত। কিছুদিন আগে সে ল্ন্ডন গেছে পড়ালেখার জন্য ।অপর ছেলে ও এক মেয়ে উত্তরায় পড়াশুনা করে, যার মাসিক খরচ আনুমানিক ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর থেকে এ যাবত ৪৬ নং ওয়ার্ডের বাজেটের কাজ বাবদ আনুমানিক ৩০ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারের মাধ্যমে নুরু কাউন্সিলর এর ক্লিয়ারেন্স-এ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোন কাজ করা হয়নি। তার ১টি কাজও ৪৬নং ওয়ার্ডে হয়নি। সম্পূর্ন টাকা ঠিকাদারদের যোগসাজসে কাউন্সিলর নিজে আত্মসাত করেছে। যার প্রমাণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে ৪৬ নং বাজেটের ফাইল যাচাই করলেই পাওয়া যাবে। কলাবাগান রোড টঙ্গি হিমারদিঘী তার নিজ বাড়ির পার্শ্বে ২৭২ শতাংশ চালা জমিকে রকম পরিবর্তন করে ডুবা দেখিয়ে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। ৪৬ নং ওয়ার্ডে ফুটপাত দখল ও দোকান তৈরী করে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর থেকে অসংখ্যবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। যা তাহার পাসপোর্ট যাচাই করলে পাওয়া যাবে। দেশের বাইরেও (মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড) অবৈধ সম্পদ রয়েছে । যা তদন্ত করলে পাওয়া যাবে। এলাকাবাসী জানান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ৪৬নং ওয়ার্ডের হিমারদিঘী নিবাসী মরহুম নিজাম উদ্দিন এর তিন ছেলের নুরুল ইসলাম নুরু দ্বিতীয় ছেলে। নিজাম উদ্দিম মহিষের গাড়ী চালিয়ে সংসার চালাতেন। বাবার রেখে যাওয়া মহিষের গাড়ী চালিয়ে পরে সংসার চালায় নুরুর বড়ভাই আব্দুর রহমান। তার বড়ভাই এখনো বাবার রেখে যাওয়া ঘরটিতে বসবাস করছে।