আগামীর বাংলাদেশ তরুণদেরই হাতে : এম ফখরুল ইসলাম

0
141

মু. জোনায়েদ : ফেনীর সোনাগাজী উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা টগবগে তরুণ। ৬নং-চর ছান্দিয়া ইউনিয়নের কৃতীসন্তান। মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেন। প্রথম দিকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন চাকরিও করেন। চাকরিতে তার মন মানে না। মন মানবে বা কী করে। যে চাকরি নিবে না, চাকরি দিবে; তার পক্ষে কি চাকরি করা সম্ভব?। আজ তিনি সফল শিল্পদ্যোক্তা, সফল তরুণ শিল্পপতি, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার সততা, নিষ্ঠা ও শ্রমের ফলে দু’বছরের ব্যবধানে তিনটি সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে মোট ছয়টি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান করতে সক্ষম হন তিনি। সবমিলে ইনটেক গ্রুপে পরিণত করেন তিনি। তার দূরদর্শিতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রিয় ও লাভজনক হয়ে ওঠে। এর পেছনের মূল কারিগর হলেন এম ফখরুল ইসলাম। তার চিন্তা ভাবনা, কর্মীবান্ধব ও আবাসনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ‘ইয়াং অর্গানাইজেশন’-এর অধীনে রিয়েল এস্টেট ক্যাটাগরিতে ২০১৮ সালে ১৩ অক্টোবর তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার পান তিনি। দেশের ৮ হাজার তরুণ উদ্যোক্তার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার জনকে বাঁছাই করা হয়। পরে ৬জন তরুণ উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। তার মধ্যে তিনি একজন হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম ফখরুল ইসলাম বার্তা প্রবাহকে বলেন, তিনিও তরুণ। তিনি মনে করেন, আগামীর বাংলাদেশ তরুণদেরই হাতে। তরুণদের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে। তারা বিভিন্ন ধরনের কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নেবে।

সফলতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি  বার্তা প্রবাহকে বলেন, আসলে এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তার জন্য কঠিন। সফল হতে পেরেছেন কি না জানেন না। রাত-দিন পরিশ্রম করছেন, সামাজিক ও ব্যবসায়িক কাজের পেছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও সুদক্ষ টিম গঠনে এরই মধ্যে তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। সব সময় সফল ব্যক্তিদের অনুসরণ করেন বলেন তিনি। জানা গেছে, ৮০ বর্গফুটের অফিস রুম। তিনটি চেয়ার। একটি টেবিল। দুজন কর্মী। ইনটেক প্রপার্টিজ লিমিটেডের শুরুটা ছিল এমনই। প্রায় ১০ বছর আগের ঘটনা। স্বল্পপরিসরে শুরু হওয়া সে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা করপোরেট কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জাতীয় আবাসন শিল্পে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। ২০১১ সালে রাজধানীতে ইনটেক প্রপার্টিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন এম ফখরুল ইসলাম। একই বছর ‘রাহবার’ নামে আরেকটি হাউজিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন। এখানেই থেমে থাকেননি, ২০১২ সালে ‘অলট্রেড’ নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এম ফখরুল ইসলাম। ইতিমধ্যে ইনটেক এগ্রো, ইনটেক আইটি, ইনটেক ইন্টেরিয়র প্রতিষ্ঠান (প্রস্ততিমূলক) গড়ে তোলেন।

ইনটেক প্রপার্টিজ জাতীয়ভাবে অবদান রাখতে পারে সেজন্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে অসহায়, গরিব ও দুঃখীদের পাশে থাকার দৃঢ়সংকল্প রয়েছে তার। পরোপকারী, সমাজসেবী এম ফখরুল ইসলাম আর্তমানবতার সেবায় গড়ে তুলেছেন এম হাশিম ফাউন্ডেশন, খিদমাহ ট্রাস্ট ও সোনাগাজী বহুমুখী সমবায় সমিতির মতো সামাজিক সংগঠন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সমাজের অসহায় ও গরিব মানুষকে সহযোগিতা, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়। একইসঙ্গে নাছির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ফখরুল ইসলাম। সম্প্রতি ঢাকাস্থ সোনাগাজী উপজেলা সমিতির ২০২০-২০২২ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাহী সদস্য হন তিনি।

পাঠাগার সৃষ্টি, বিনামূল্যে বই বিতরণ, গ্রামের কৃষকের অধিকার রক্ষায় সংগঠিত করা, বিভিন্ন সমবায় সংগঠন সৃষ্টি, অসহায় ও গরিব মানুষকে সহযোগিতা, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে তিনি নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফখরুল ইসলাম ২০১০ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সোনাগাজী উপজেলা পর্যায়ে সেরা কৃষকের পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষাজীবনের সব পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। পাঁচ বছর বয়স থেকে ফখরুলের শিক্ষাজীবন শুরু। ২০০১ সালে ওলামা মাজার মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পর্যায়ক্রমে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৬ সালে কামিল পাস করেন। পরে চট্টগ্রামের দারুল-মা আরিফ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি সাহিত্যে স্নাতক পাস করেন। সোনাগাজীতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এম ফখরুল ইসলাম। ছাত্রজীবনেই বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। সমাজ, রাষ্ট্রের উন্নয়নে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করার একটি প্রবণতা ছিল তার মধ্যে। এ কারণে ২০০৬ সালে এলাকার তরুণ সমাজ ও ছাত্রদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘লন্ডনীপাড়া ইসলামি পাঠাগার’। বর্তমানে এ পাঠাগার থেকে স্থানীয় গরিব ও অসহায় ছেলেমেয়েদের বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। পরে কৃষকের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন নাছির উদ্দিন সেচ অ্যান্ড স্কিম (ইরিগেশন) প্রকল্প। ২০০৭ সালে সোনাগাজী উপজেলার প্রায় ১৫০ হাজার শতক জমি চাষাবাদের আওতায় এনে এলাকার কয়েক হাজার কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে সহযোগিতা করেন। গত ১৪ অক্টোবর ২০২০ বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়। এতে চিকিৎসাপত্রসহ বিনামূল্যে  ওষুধও দেওয়া হয়। এলাকায় মাদক সন্ত্রাস নির্মূলে তরুণদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে  গত ১ জানুয়ারি লন্ডনীপাড়া মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২০ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।