২৫ শে বৈশাখ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবস

0
16

এস ইবাদুল ইসলাম

ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, ইতিহাস আজীবন কথা বলে মানুষকে তাড়িত করে। যা কিছু ভাল, যা প্রথম, যা মানবসভ্যতার অভিশাপ-আর্শীবাদ।

তাই তো সব সময় মানুষের কাছে ইতিহাসের দিন পুঞ্জি সব সময় গুরুত্ব বহন করে।
বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ ইংরেজী ১৮৬১সালের ৭ই মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাক্ষণ পিরালী ব্রাক্ষণ পরিবারে কলকাতার জোড়া সাকোঁ ঠাকুর বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাক্ষণ ধর্ম গুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা ছিলেন সারদাসুন্দরী দেবী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন পিতা মাতার চর্তুথ সন্তান, রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষেরা খুলনা জেলার রুপসা উপজেলা পিঠাভোগে বাস করতেন। ১৮৭৫ সালে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মাতৃ বিয়োগ ঘটে। পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশ ভ্রমন নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছোট বেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে। শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল বেঙ্গল একাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন করে পড়াশোনা করে ছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয় শিক্ষায় অনাগ্রহী হওয়ায় বাড়িতেই গৃহ শিক্ষক রেখে তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ছেলে বেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে, বোলপুর ও পানিহাটির বাগান বাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করতেন রবীন্দ্রনাথ।
১৮৭৮ সালে ব্যারিষ্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংলেন্ডে যান রবীন্দ্রনাথ। প্রথমে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইন বিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু সাহিত্য চর্চার আর্কষনে সেই পড়াশোনা তিনি সমাপ্ত করতে পারেন নি। ১৮৮১ সালে সেই পত্রাবলি যুরোপ প্রবাসির পত্র নামে গ্রন্থাকারে ছাপা হয়। এটিই ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রথম গদ্যগ্রন্থ তথা প্রথম চলিত ভাষায় লেখা গ্রন্থ। অবশেষে, ১৮৮০ সালে প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে এবং ব্যারিষ্টারি পড়া শুরু না করেই তিনি দেশে ফিরে আসেন।
১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া, পাবনা ও রাজশাহী জেলা এবং উড়িষ্যার জমিদারি গুলির তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠি বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ র্দীঘ সময় অতিবাহিত করে ছিলেন। জমিদার রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে “পদ্মা” নামে একটি বিলাস বহুল পারিবারিক বজরায় চড়ে প্রজাবর্গের কাছে খাজনা আদায় ও আর্শীবাদ প্রার্থনা করতে যেতেন। তখন গ্রাম বাসীরা তার সম্মানে ভোজ সভার আয়োজন করতেন।

১৮৯০ সালে রবীন্দ্রনাথের অপর কাব্যগ্রন্থ মানসী প্রকাশিত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গ্রন্থের প্রথম চুরাশিঠি গল্পের অর্ধেকই এই সাহিত্য জীবনের উৎকৃষ্ঠ রচনা। এই ছোট গল্প গুলিতে তিনি বাংলার গ্রমীন জনজীবনের এক আলোকময় ও দেশাত্মক চিত্র এঁেকছিলেন।
১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ স্বপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন রীবভুম জেলার বোলপুর শহরের উপকন্ঠে শান্তিনিকেতনে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি কর্মঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মূলত এক কবি। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কাব্য রচনা শুরু করেন। তার প্রকাশিত মৌলিক কাব্য গ্রন্থের সংখ্যা ৫২টি। তবে বাঙালি সমাজে তার জনপ্রিয়তা প্রধানত সংগীত¯্রষ্ঠা হিসাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় দুই হাজার গান লিখেছিলেন। কবিতা ও গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্য গ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনা রবীন্দ্র রচনাবলী নামে ৩২ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তার সামগ্রিক চিঠিপত্র উনিশ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তার প্রবর্তিত নৃত্যশৈলী “রবীন্দ্র নৃত্য” নামে পরিচিত।

স্বপ্ন আমার জোনাকি
দীপ্ত প্রানের মনিকা,
স্তব্দ আধার নিশীতে
উড়ছে আলোর খনিকা।

রবীন্দ্রনাথ প্রথম জীবনে ছিলেন বিহরীলাল চক্রবর্তীর (১৮৩৫-১৮৯৪) অনুসারী কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে ছিলেন নাট্যকার ও নাট্যঅভিনেতা। গীতি নাট্য রচনার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কয়েকটি কাব্য নাট্য রচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথ সর্ম্পকে লেখার শেষ নেই। এখানে উল্লেখ্য ইন্দিরাগান্ধীর হাতেখড়ির মত কাজটিও রবীন্দ্রনাথ নিজ হাতে করেছিলেন। সুতরাং লিখতে গেলে অনেক অজানা ঘটনা চলে আসে এবং পাঠকদের উদ্দেশ্যে অংশ বিশেষ তুলে ধরা হল। বাঙালি জাতি জন্মদিন উপলক্ষে নানা আয়োজন করেন এবং তা পালিত হয় বিভিন্ন আঙ্গিকে। গনমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা তা উপভোগ করি। সত্যিই তিনি চলে গিয়েও, রয়ে গেছেন মানুষের হৃদয়ে, তার কৃর্তি দিয়ে। প্রেম, বিরহ, ভালবাসা তার লেখায় প্রধান্য পেয়েছে। তিনি সুন্দর কে প্রকাশ করেছেন নিজ মহিমায়। তিনি পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছেন। চোখের জ্যোতি হারানো লেডি হেলেন কিলার ও তার সাথে দেখা করে ছিলেন। তাই আজি তার স্মরণীয় লেখা থেকে লিখছিঃ-
আজি সেই চির দিবসের প্রেম অবাস লভিয়াছে।

রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে
নিখিলের সুখ নিখিলের দুঃখ
নিখিলের প্রানের প্রীতি।
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে
সকল প্রেমের স্মৃতি
সকল কালের সকল কবির গীতি।