স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার বাদী নিখোঁজ

0
43

অনলাইন ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রী শিলা আক্তার হত্যা মামলার বাদী ও নিহত শিলার মা নুর জাহান বেগম নয়নের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামের বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর আদালতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা তাকে দিনভর কোথাও খুঁজে না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে মেয়ে শিমু আক্তার বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি ডায়েরি করেন।
নিখোঁজ নুর জাহান বেগম নয়নের মেয়ে শিমু আক্তার জানান, ‘তার মা নুর জাহান বেগম নয়ন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই মামলার আসামিরা তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার সকালেও আসামিরা তাকে আদালতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। বর্তমানে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’
এ দিকে নুর জাহান বেগম নয়নের আইনজীবী সামছুদ্দিন জানান, ‘বাদী নয়ন আদালতে আসতে বিলম্ব দেখে তার সহকারী ইছমাঈল হোসেন মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি সিএনজি অটোরিকশায় করে আদালতে আসছেন বলে জানান। সিএনজিচালক তাকে আদালতের দিকে না এনে অন্য কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান। এরপর থেকে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।’
নিখোঁজ ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিম উদ্দিন জানান, ‘নিখোঁজ নুর জাহান বেগম নয়নের মেয়ের করা ডায়েরিটি আমি রাত ১২টায় পেয়ে রাতেই তদন্ত কাজ শুরু করেছি। মোবাইল ট্যাকিং-এ দেখা যায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটে তিনি সর্বশেষ তার মোবাইলে কথা বলেন। তখন তার অবস্থান ছিল লক্ষ্মীপুর শহরের আদালত এলাকায় ডিবি রোডে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নুর জাহান বেগম নয়নের সন্ধানের জন্য তদন্ত চলছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছর ২ মার্চ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার গোপালপুর দ্বারিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী উত্তর জয়পুর গ্রামের প্রবাসী দুলাল হোসেনের মেয়ে শিলা আক্তারকে শ্রেণি কক্ষে নকল করার অভিযোগ এনে শিক্ষক শরীফ হোসেন ও রোজিনা বেগম বিদ্যালয় থেকে নির্যাতন করে বের করে দেয়। পরবর্তীতে সে বাড়িতে ফেরার পথে সঙ্গা হারিয়ে ফেললে পরিবারের লোকজন তাকে রাস্তা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে ছাত্রী শিলার মা নুরজাহান বেগম নয়ন বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।