সুনামগঞ্জে ধানে মড়ক, আতংকিত কৃষক

0
108

অরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে গেলবার ধানের পর মাছে মড়ক দেখা দেয়। পানিতে জন্ম নেয় এ্যামোনিয়া গ্যাস। এবার হাওরে ধানের বাম্পার ফলনের সু-খবর পাওয়া গেলেও কিছু কিছু হাওরে ধানে মড়ক দেখা দিয়েছে। ধানে মড়ক দেখা দেওয়ায় এটি সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে ধানে ছত্রাক জনিত রোগ দেখা দিয়েছে। সংক্রমিত জমির পরিমাণ কম। এটি হিসেবের মধ্যে আসে না। ছত্রাক নাশক ঔষুধ ছিটিয়ে ছত্রাক নাশের চেষ্টা চলছে। আশার মধ্যে নিরাশার খবর যেন ক্রামগত বেড়েই চলছে। উদ্বেগ আর আতংক পিছু ছাড়ছেনা। এদিকে তাপদাহ বন্যা ঘুর্ণিঝড় শিলাবৃষ্টি সবই আছে এপ্রিলের পুর্বভাসে। এখবর জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে কৃষকের অনিশ্চিয়তা কাটচ্ছে না। উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার খবর জানতে হাওরে হাওরে ঘুরে দেখা যায়, ফসলরক্ষা বাঁধ মজবুত হয়েছে। বাঁধের ভয় নেই কৃষকের। বাম্পার ফলন গোলায় তুলতে বুনছেন স্বপ্ন। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ধান পাকা নিয়ে। কিন্তু ধানে মড়ক দেখা দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক। মড়কের ভয় তাড়া করছে বুকে। ধানের মড়ক সংক্রমিত হয়ে জমির পর জমি নষ্টের আশংকা করছেন তারা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে মেশিন দিয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছেন চত্রাক নাশক স্প্রে। তবুও ছাড়ছে না ব্যাধি। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে ব্রি-২৮ জাতের হলুদ রং ধানের শীষের নীচের অংশে কালো দাগের মতো। কৃষি অধিদপ্তর সেটিকে ব্লাসরোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রবীণরা বলছেন বাপ দাদার আমল থেকে কখনো এ রকম রোগে আক্রান্ত হতে দেখিনি ফসল। এবার পহেলাবার নতুন এ রোগের দেখা মিলে হাওরে। তবে জেলার সব হাওরে এখনো এ রোগ ছড়িয়ে পরেনি। সদর উপজেলার মাইজবাড়ী এলাকার হাওরে ও তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে এ রোগ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মাটিয়ান হাওর রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক বলেন, এবার বাঁধের কাজ শক্ত হয়েছে। তবে ভীতি ছড়াচ্ছে ২৮ ধানের ব্লাস্টরোগের আক্রমণ নিয়ে। মাটিয়ান হাওরে প্রায় ২ হাজার হেক্টর ফসলী জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এটি সংক্রমিত হলে কৃষকের স্বপ্ন খান খান হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা বলেন, ব্রি-২৮ জাতের ধানে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত জমির পরিমাণ কম। এব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করতে লিফলেটসহ নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।