সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইলিয়ট ব্রিজ বা বড়পুলের ১২৭তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

0
105

আশিক হাসান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রতিনিধি : ইলিয়ট ব্রিজ সিরাজগঞ্জ শহরের কাটাখালের উপরে লোহা ও সিমেন্টের সমন্বয়ে তৈরী। সিরাজগঞ্জ শহরকে দেখার জন্য কাঁটাখালের উপরে প্রায়৩০ ফুট উঁচু করে ইংরেজ এসডিও মিঃ বিটসন বেল আই, সি, এস, সাহেব ১৮৯৫ সনে বাংলার তৎকালিন ছোটলাট স্যার আলফ্রেড ইলিয়ট সাহেবের নামানুসারে এই ব্রিজ তৈরী করেছিলেন । সে আমলে সন্ধ্যার পর ইলিয়ট ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের একটি ভিন্নতর রূপ নজরে পড়তো।১৮৮২ সালে নির্মিত ব্রীজটি আজও তার প্রথম দিনের সমৃদ্ধি নিয়ে দাড়িয়েঁ আছে সিরাজগঞ্জ শহরে প্রাণকেন্দ্রে। ১৮০ ফুট লম্বা আর ১৬ ফুট চওড়া এই ব্রীজের প্রধানতম বৈশিষ্ট হলো এতে কোন পিলার নেই। স্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ড নামের ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি এই পিলারবিহীন ব্রীজটি। তৎকালীন সময়ে প্রায় পয়তাল্লিশ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এই ঐতিহাসিক ইলিয়ট ব্রীজ।
ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ব্রীজ ইলিয়ট ব্রীজ বা বড়পুলের ১২৭ তম বর্ষ পূর্তিতে সিরাজগঞ্জে এক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ছিলেন সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, মেয়র, সিরাজগঞ্জ পৌরসভাসহ অন্যান্য বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইতিপূর্বে এই ব্রীজ টি সংরক্ষনে বা স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করতে বলা হয়েছিল কিন্তু কাজ হয়নি। ব্রিজের উপর সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবী। কারন এব্রিজের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া সিরাজগঞ্জের কাচামালের যানবাহনগুলো ভারী রাতে চলাচলের কারণসহ বিভিন্ন কারণে ব্রিজটি ক্রমসই ক্ষতির মুখে আছে। ব্রীজের দুই ঢালু এবং মাঝখানে যে ফাটল দেখা দিয়েছে তা সংস্কার করা, সৌন্দর্য বর্ধনে ব্রীজের আশে পাশের দখল হওয়া জায়গা গুলো দখল মুক্ত করা, সৌন্দর্য বর্ধনে ক্লিন সিরাজগঞ্জ গ্রীন সিরাজগঞ্জ যে বাগান করেছে তা রক্ষনাবেক্ষনে গ্রিল বা বেড়া দেয়া, সৌন্দর্য বর্ধনে ব্রীজের বিভিন্ন স্থানে ঝুলন্ত ফুল গাছ বা লতা গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন দাবী স্থানীয় জনসাধারণের মুখে ফুটে উঠেছে।