সর্বশেষ প্রযুক্তি নিয়ে ওষুধ শিল্পের প্রদর্শনী

0
91

নিজস্ব প্রতিবেদক : ওষুধ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির বিশাল সমাহারে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হলো ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০১৮’। তিন দিনের এই আয়োজনের শেষ দিন ছিল শনিবার। এই প্রদর্শনীতে ওষুধ শিল্পের সর্বশেষ প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছিল দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
এই আয়োজনে খুশি আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাই। এতে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ, আমেরিকা, জাপান, চীন, ইতালি ভারতসহ মোট ৩৫টি দেশের সাড়ে ছয়শ ওষুধ কোম্পানি অংশ নেয় এবারের এক্সপোয়। প্রতিষ্ঠানগুলো ওষুধ উৎপাদিত প্রযুক্তি, চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সরঞ্জাম, উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া স্বজন ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বজন শেখ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এবারের আয়োজন খুব ভালো হয়েছে। আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের পরিচিতি হয়েছে।’
স্বজন শেখ বলেন, ‘ওষুধ তৈরির আগে সেটা নিয়ে গবেষণা হয়। গবেষণা ল্যাবে যে যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো বিক্রি করি আমরা। আমাদের কাছে চাহিদা ‍দিলে সেই অনুয়ায়ী মেশিন তৈরি করে দিই। এই মেলায় এক ছাদের নিচে ওষুধ শিল্পের সব তথ্য থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জন্য এটি একটি অনন্য সুযোগ। প্রতিষ্ঠানগুলো সবকিছু জানতে পারছে। সর্বশেষ প্রযুক্তির সমাহার দেখছে।’
দশম এশিয়া ফার্মা এক্সপো-২০১৮ আয়োজক বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি। আর সহায়তায় ছিল জিপিই প্রাইভেট লিমিটেড।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মো. ফেরদৌস উদ্দিন খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সব ওষুধ কোম্পানি বিশ্বমানের হবে বলে আমরা আশা করি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। এজন্য সরকারও আমাদের বিভিন্ন সহযোগিতা করছে। এই শিল্পের উন্নয়নে সরকারের আরও সহায়তা প্রয়োজন। এই শিল্পের জন্য ভর্তুকি ও ট্যাক্স সুবিধা দেয়া জরুরি।’
ফার্মা এক্সপো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওষুধ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানকে পরিচিত করতেই আমাদের এ আয়োজন। কারণ অনেক ছোট ওষুধ কোম্পানি আছে যাদের বিদেশে গিয়ে প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেয়ার সুযোগ হয় না।’
মেলার এই আয়োজক বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমরা মেলায় ভালো সাড়া পেয়েছি। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত ওষুধ শিল্প। এ খাতকে এগিয়ে নিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সবার জন্য উন্মুক্ত এক্সপোয় গিয়ে দেখা গেছে, ঘুরে ঘুরে দর্শনার্থীরা দেখছেন প্রদর্শনী। বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। এসব সরঞ্জামের সুবিধা সম্পর্কে স্টল কর্মীরা বিস্তারিত তুলে ধরছেন। প্রদর্শনীতে দেশি উদ্যোক্তারা ওষুধ শিল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল সম্পর্কে জানছেন। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলো সবধরনের ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।
ট্যাবলেট তৈরির মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, সেখানে দেখানো হচ্ছে কীভাবে কেমিক্যাল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব গুণাগুণ ঠিক রেখে ট্যাবলেট হয়ে বের হচ্ছে। একটি স্টলে দেখা যাচ্ছে তারা ওষুধের নাম, সিল, লোগো ছাপার মেশিন নিয়ে এসেছে।
আরেকটি স্টলে দেখা গেল, ওষুধের আবরণ কীভাবে দেয়া হয় সেটা দেখাচ্ছে।
বিদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবশেষ আধুনিক প্রযুক্তি এখানে তুলে ধরে ভালো সাড়া পেয়েছেন তারা।
মেলার শেষ দিন শনিবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যারা এসেছে তারা বেশির ভাগই ওষুধ কোম্পানির। জেনারেল ফার্মা থেকে এসেছেন সুজাউল হামিদ। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে একটি টিম এসেছে এখানে। নতুন কী প্রযুক্তি এসেছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে এসেছি আমরা। প্রতিষ্ঠানের জন্য দরকারি যন্ত্রপাতির খোঁজেই এখানে আসা। প্রদর্শনী দেখে আমাদের অভিজ্ঞতাও বাড়ছে।’
বেক্সিমকো ফার্মার প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অভিজিত সরকার ঢাকাটাইমকে বলেন, ‘এখানে ওষুধ তৈরিতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সাজানো আছে। আমরা সেগুলো ঘুরে দেখেছি। আমাদের প্রয়োজন অনুয়ায়ী চাহিদা দিলে তারা মেশিন তৈরি করে দেবে।’
প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ ভাগই মিটছে দেশীয় ওষুধে। শুধু দেশীয় চাহিদাই নয় বর্তমানে বিশ্বের প্রায় দেড়শটি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।