সরকারই সকল অনাচারের জন্য দায়ি : জাফরুল্লাহ চৌধুরী

0
96

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের ব্যর্থতার কারণেই সমাজে অনাচারের চন্ম জন্ম হয়, ঘুষ-দুর্নীতি-দুবৃর্ত্তায়ন প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায় বলে অভিমত প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকারই সকল অনাচারের জন্য দায়ি।

তিনি ভাষা সৈনিক অলি আহাদের মৃত্যুবার্ষিকী প্রধানমন্ত্রী ও বেগম খালেদা জিয়া বাণী প্রদান না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, অলি আহাদ-ভাষা মতিনরা ভাষা আন্দোলন না করলে দেশ স্বাধীন হতো না। ভাষা আন্দোলনই হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ। আর দেশ স্বাধীন না হলে হাসিনা-খালেদা কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে অনেকই কোটিপতি হয়েছেন, তানা হলে থালা নিয়ে রাস্তায় হাটতে হতো।

শুক্রবার রাজধানীর তোপখানাস্থ বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে চিরবিপ্লবী ভাষা সৈনিক অলি আহাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তৃণমূল নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটি জাতির সবাই জাতীয় বীর নয়। জাতীয় বীর থাকে কয়েকজন। অলি আহাদ আমাদের তেমনই একজন জাতীয় বীর। যাদের কারণেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাদের সম্মান না করলে অন্ধকার দূরিভূত হবে না। অলি আহাদকে শ্রদ্ধা জানাতে গণমাধ্যমগুলোর কার্পণ্যতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মওলানা ভাসানী, অলি আহাদ, ভাষা মতিনের মত জাতীয় বীরদের সম্মান করতে না পারা জাতির জন্য লজ্জাজনক।

তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ মায়ের ফুটপাতে সন্তান প্রসবে হাইকোর্টের সুয়োমুটো রুল জারি করায় বিচারপতিদের ধণ্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের প্রায় ১৫-২০ নেতা-কর্মী জেলে। তাদের জামিন কেন হয় না ? এই বিষয়েও বিচাপতিদের ভূমিকা রাখা উচিত। বিচারপতিদের ঘুমিয়ে থাকলে হবে না। বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। তানা হলে তাদের পরিনতিও এসকে সিনহার মতো হতে পারে।

তিনি বুধবার আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী বক্তব্যের প্রসংশা করে বলেন, বেগম জিয়া সাহসী ও ভালো কাজ করেন। কিন্তু, সেটা দেরীতে করেন। আর এই কারণেই আন্দোলন গড়ে উঠে না। অলি আহাদ-ভাষা মতিনরা আন্দোলন সংগ্রাম বুঝতেন। তাদের প্রদর্শিত পথেই আন্দোলন গতে তুলতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতির সামনে আরো দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বাংলাদেশকে ভূটান-সিকিম বানাতে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভাসানী-অলি আহাদ-ভাষা মতিনের প্রদর্শিত পথে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

গুলবদন্নেছা মতিন বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীর ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে ভাষা আন্দোলনের বিজয় ছিনিয়ে আনতে অলি আহাদ-ভাষা মতিনদের অবদান জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি ভাষা সৈনিকদের তালিকা প্রনয়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবী জানান।

পিডিপি মহাসচিব এহসানুল হক সেলিম বলেন, অলি আহাদ বিপ্লবের চেতনা। তার চেতনা ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা-মানচিত্র রক্ষা করতে হবে।

ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি বলেন, রাজনীতি আজ কালোটাকা-আমলা-ব্যবসায়ী-সুবিধাবাদীদের হাতে বন্দি। আর এই কারণেই অলি আহাদের মত ত্যাগী মানুষের মূল্যায়ন নাই। এই দুষ্টচক্রের হাত থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনীতিকে বাণিজ্যে পরিনত করা হয়েছে বলেই গণমাধ্যমগুলোও অলি আহাদের মত ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করে নাই।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, যে জাতির সন্তানরা তাদের পূর্বপুরুষদের ভুলে যায় তাদের ভবিষ্যত খুব বেশী উজ্জল হয় না। মওলানা ভাসানী-অলি আহাদ আর ভাষা মতিনদের ভুলে যাওয়া অকৃজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, ফ্যাসীবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলে জাতীয় বীরদের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমরা জাতীয় বীরদের ভুলে গেলে জাতিও আমাদের ক্ষমা করবে না।

সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ভাষা মতিনের স্ত্রী গুলবদন্নেছা মনিকা মতিন, পিডিপি মহাসচিব এহসানুল হক সেলিম, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, কৃষক দল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, দেশবাাঁচও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, ঘুড়ে দাড়াও বাংলাদেশ সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন সভাপতি এম. জাহাঙ্গির আলম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রমজান আলি প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস.আল. মামুন, বাংলাদেশ ন্যাপ মহানগর সদস্য সচিব মো. শহীদুন্নবী ডাবলু, ভাসানী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিষদ আহ্বায়ক মতিয়ারা চৌধুরী মিনু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here