সফেদ চেহারায় আলো-আধাঁরি মানুষ

0
101

কাজী লুৎফুল কবীর

সমাজে তিন শ্রেণির মানুষ আছে। এক. যারা স্বভাব চরিত্রে সাদাসিদে। জীবনে নষ্ট হবার সুযোগ তাদের চরিত্রে ধরা দেয়নি। এরা নিজেকে ভাল মানুষ বলে দাবি করেন। মূলত; এরা বোকা প্রকৃতির মানুষ। যদিও সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে তারা ভাল চরিত্রের অধিকারী হয়ে আছেন। তবে এরা উল্টো কাজ করতে গেলেই ভুল করেন। লেজেগোবরে করেন। মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হন। কি ঘরে কি বাইরে। কি স্বামী কি আত্মীয়-স্বজন, কি ছেলেমেয়ে সবখানেই এরা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হন বার বার। এদের ভাল দিক সহজে তারা নিজের দূর্বলতায় ধরা পড়েন। তাই হুটহাট ভুল করেও বোকার দণ্ড দেন কি সংসার কি বাইরে। এরা নিজেকে সামলে চলতে পারেন না, কারণ এরা হয় চঞ্চল। তাই সমাজে ঘরে-বাইরে এরা বার বার সন্দেহের তীরে বিদ্ধ হন। এরা খরচে খুব বেশি বেহিসেবী। যা উপার্জন করেন, তার পুরোটাই খরচ করেন। ভবিষ্যত এদের কাছে হিসেবহীন খাতা। এদের জীবন প্রবাহ দিন আনতে পান্তা ফুরোয়ে।
দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হলেন, স্বভাব-চরিত্রে এরা খুবই চালাক। ভাব-সাবে ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে জানেন না। জীবন প্রবাহে এরা স্বপ্ল খরচি। বসবাস করেন সাদাসিদে। কিন্তু এদের সবটাই লোক দেখানো। এরা ভেতরে ভেতরে অনেক কিছুতেই অভ্যস্ত। এরা নিজেকে ভাল চরিত্রের লেবাসে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেন। কিন্তু তাদের যাতায়তেই বোঝা যায়, তারা কখনও কোথায় যান, কি করেন, কিভাবে সম্পদ বা সম্পত্তির অধিকারী হন খুবই সহজে, ভেতরে ভেতরে। এরা দামি দামি জিনিসপত্র কেনেন, তবে ব্যবহার করেন বিশেষ বিশেষ জায়গায় অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে। এদের মুখে মুখে শোনা যায়, দামি দামি জিনিসপত্র নাকি উপঢৌকন হিসেবে পান। এরা সমাজে নিজেকে ভাল ভদ্র ও ধার্মীক হিসেবে সাজিয়ে রাখেন, আড়ালে অর্থ উপার্জনের অন্য মাধ্যমকে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিরাপদ রাখতে।
তৃতীয় শ্রেণির মানুষ হলেন, সবকিছুতেই প্রকাশ্য স্বভাবের। তারা কোন কিছু কে ভয় বা অসম্মান মনে করেন না। এরা সমাজে কাউকে খুব একটা প্রাধান্য দেন না। কারো কাছে নিজের কর্মের জন্য দায়বদ্ধ মনে করেন না। কি ভাল কাজ কি মন্দ, কোনটাতেই এদের কার্পণ্যতা নেই। এরা চাল-চলনে অনেক বেশি খরচি। যেমনি আয় করেন, তেমনি সান শওকতেও ব্যয়ই। ফ্যাশন এদের নিত্য দিনের চরিত্র। এরা দামি দামি উপঢৌকনও পান আবার নিজেও কেনন। তবে কোনটাতেই এদের রাগটাগ নেই। নেই লজ্জা। গোপন রেখে এরা ভদ্র সাজেন না। এরা যা, তাই সমাজে উপস্থাপন করেন।
প্রশ্ন হচ্ছে এ তিন শ্রেণির মানুষের মধ্যে কে উত্তম বা কে অধম সেটা বিষয় নয়,তবে প্রশ্ন হলো কে সমাজের জন্য বেশি ক্ষতিকর। যেমন কথায় আছে ঘরের শত্রু বিবেষিকাময়,ঠিক তেমনি,সমাজের জন্য সবচে ক্ষতিকর কারা।
তিন জাতের সমাজবদ্ধ মানুষের বাইরে আরেক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা সামাজিকভাবে খারাপ বলে পরিচিত। খুন-খারাবি, দখলবাজি, ধাঙ্গা-হাঙ্গামা, মাস্তানি, দেহ ব্যবসা যে কোন একটা এদের প্রকাশ্য জীবন ব্যবস্থা। এরা কখনও কখনও মানুষের বা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হলেও, এরা কখনই উইপোকা নয়। এরা স্বর্প হয়ে দংশন করে, ওজা হয়ে ঝারে না। যেমনটা যদি বলি বড় বড় শহর বন্দরে কি আবাসিক হোটেলে বা আলো-আধারে সড়ক দ্বীপে নাইটকুইস খ্যাতরা বেশিরভাগ কারো স্বীকার নয়, ভাগ্য দোষে আলো-আধারের নায়ক-নায়িকা হয়েছেন। জীবন বাচাতে এদের উপার্জন। কিন্তু সমাজে ভদ্রবেশি এক শ্রেণির মানুষ আছেন, যারা অবৈধ অধিক অর্থ উপার্জনে আলো-আধারের নায়িকাদের চেয়েও অনেক বেশি চতুর। এরা কি বন্ধু-বান্ধব,কি পরিবার-পরিজন,কি স্বামীর কাছে স্ত্রী আর স্ত্রীর স্বামী ভাল মানুষ। কিন্তু অর্থ উপার্জনের কৌশলে এরা ঘরে বাইরে ধুতর। এরা আসলে স্বর্প, ধবল নয়। ধাবলের মোড়কে সিড়ি বেয়ে উপরে যাবার স্বর্প। এরাও মানুষ। মানুষের ভেতরেই এদেরে বসাবাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here