শুক্রবার বীরকন্যা প্রীতিলতার নামে সাংস্কৃতিক ভবন উদ্বোধন

0
63

মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একমাত্র নারী ও বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্য সেনের অন্যতম সহচর শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নামে চট্টগ্রামের পটিয়ায় দৃষ্টিনন্দন একটি সাংস্কৃতিক ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ ভবন উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্টের আজীবন সদস্য আসাদুজ্জামান নূর এমপি।
সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত এ ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৪৫০ টাকা। ভবনের নিচতলায় থাকছে বীরকন্যা প্রীতিলতা গণসাংস্কৃতিক মঞ্চ, অফিস কক্ষ, দিপালী সংঘ, ডাইনিং ও কিচেন ও গাড়ি পার্কিং। প্রথম তলায় বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন সেমিনার হল। দ্বিতীয় তলায় বীরকন্যা প্রীতিলতা শিশুকানন বিদ্যানিকেতন। তৃতীয় তলায় মাস্টারদা সূর্য সেন রিসার্চ সেন্টার, সংগ্রহশালা/গ্যালারি, লাইব্রেরি, বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্ট কার্যালয়, বিপ্লবী কল্পনা দত্ত সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র ও চতুর্থ তলায় ডরমিটরি (পুষ্পকুন্তলা)।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রীতিলতার গ্রামের বাড়ি পটিয়া উপজেলার ধলঘাটে প্রীতিলতার নামে প্রথমে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় পঙ্কজ চক্রবর্ত্তীর উদ্যোগে ২০০০ সালে প্রীতিলতা ট্রাস্ট গঠন করে ২০০২ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে প্রীতিলতা ভার্স্কয, প্রীতিলতা আত্মজীবনী সংবলিত বই ও প্রীতিলতার নামে একটি সড়কও নামকরণ করা হয়।
প্রতি বছর বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্টের উদ্যোগে জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
১৯১১ সালের ৫মে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরাণী জগবন্ধু ওয়াদ্দেদারে ঘরে প্রীতিলতার জন্ম। ১৯১৮ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হন। যোগ দেন ঢাকার বিপ্লবী দল শ্রীসংঘের মহিলা শাখা দীপালি সংঘে। প্রীতিলতা ইডেন কলেজের অধ্যাপিকা নীলিমা বোসের মাধ্যমে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৩০সালে চট্টগ্রামে অস্ত্রাগার দখল, প্রীতিলতার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি চট্টগ্রামে এসে বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেন। পরে সর্বাধিনায়ক বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন প্রীতিলতার দায়িত্ববোধ, সাহসিকতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা পরখ করে তাকে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেন। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ১০-১২জন সঙ্গী নিয়ে তিনি এ ক্লাব আক্রমণ করেন। এতে প্রায় ৫৩জন ইংরেজকে হতাহত করে সফল অভিযানের পর ফিরে আসার সময় হঠাৎ একটি গুলিতে সামরিক পোশাকে সজ্জিত প্রীতিলতা আহত হন। এরপর ধরা পড়ার আশঙ্কায় পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে করে আত্মাহুতি দেন।
প্রীতিলতার সেই সোনালি দিনগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বীরকন্যা প্রীতিলতা ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ভবন আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার উদ্বোধন করা হবে।
এ ব্যাপারে পঙ্কজ চক্রবর্ত্তী বলেন, ক্ষনজন্মা বীরকন্যা প্রীতিলতার জীবনাদর্শ থেকে অনেক শেখার ও জানার রয়েছে। প্রীতিলতার নামে ট্রাস্ট গঠন, প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা, ভাস্কর্য নির্মাণ, প্রীতিলতার নামে একটি রাস্তাও নামকরণ করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রীতিলতার গ্রামের বাড়িতে যে সাংস্কৃতিক ভবণ নির্মাণ হয়েছে এতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here