রাজাপুরে টেকনোলজিস্টের স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে ২ ডায়গনিষ্টিক সেন্টার ভূয়া রিপোর্ট দিচ্ছে!

0
87

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে : ঝালকাঠির রাজাপুরের মেডিকেল মোড় এলাকার মমতাজ ডায়গনিষ্টিক সেন্টার ও নিউ ডিজিটাল ডায়গনিষ্টিক সেন্টার নামক দুটি ডায়গনিষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে টেকনোলজিস্টের স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে রোগীদের ভূয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ডায়গনিষ্টিক সেন্টারে পূর্বে কর্মরত টেকনোলজিস্ট নাজমুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে গত ৩১ মার্চ থেকে ৪ দিন ধরে বিভিন্ন রোগীকে নানা টেস্টের ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে ওই দুই ডায়গনিষ্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় টেকনোলজিস্ট নাজমুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে ইউএনও আফরোজা বেগম পারুলের কাছে প্রমানসহ মৌখিক অভিযোগ করেছেন। এর আগে একই ঘটনায় রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি রাজাপুরের একই মালিকের মেডিকেল মোড়ের মমতাজ ডায়গনিস্টিক সেন্টার ও রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনের নিউ ডিজিটাল ডায়গনিস্টিক সেন্টারে ২০১৬ সাল থেকে চাকুরি করে আসছেন। ডায়গনিষ্টিক সেন্টারের বিভিন্ন অনিয়ম ও মেশিনের ত্রুটির কারনে তিনি গত ৩১ মার্চ শুক্রবার চাকুরি ছেড়ে দিয়ে চলে যান। কিন্তু গত ১ এপ্রিল শনিবার থেকে ওই ডায়গনিষ্টিক সেন্টারের ৪ শেয়ার মালিকের মধ্যে এমদাদুল হক চান ও নজরুল ইসলাম অল্ট্রাসোগ্রাম ও এক্সা রেসহ বিভিন্ন ভূয়া রিপোর্ট তৈরী করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নাজমুল ইসলামের নামের জাল সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে অগনিত রোগিকে প্রদান করে আসছেন। তিনি আরো জানান, দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আরো একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে বললেও মালিক পক্ষ তা শুনেনি। ফলে নাজমুল কোন সময় ছুটিতে গেলে একই রকম ভূয়া রিপোর্ট তৈরী করে রোগীকে দিতো ডায়গনিষ্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। গত কোরবানির ঈদে নাজমুল ১০ দিনের জন্য ছুটিতে গেলে সে সময়ও রোগীকে ভূয়া রিপোর্ট দিয়েছিলো ওই মালিক দুজন। এছাড়া এনালাইজার মেশিনে ত্রুটি, এক্সরে মেশিনের ত্রুটির কারনে রিপোর্ট স্পট আসতো। তা পরিবর্তন করতে বললেও মালিক পক্ষ শুনেনি। ওই প্রতিষ্ঠানের ঝাড়–দার দিয়ে ইসিজি করানো হয় এবং মালিক ও কর্মচারি নজরুল ইসলাম এক্সরে করেন বলেও অভিযোগ নাজমুলের। এছাড়া রোগীদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এ সকল অনিয়মের কোন প্রতিবাদ করলে যেভাবে যাহা আছে তা দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে মালিক পক্ষের এমদাদুল হক চান ও নজরুল ইসলাম তাকে চাপ দিয়ে বাধ্য করিয়ে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে। এ বিষয়ে ডায়গনিষ্টিক সেন্টারের অশিংধারী মালিক এমদাদুল হক চান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাদের নতুন টেকনোলজিস্ট আছে, মরিয়ম। তিনি রিপোর্ট দিচ্ছেন। মরিয়ম নতুন যোগদান করায় তার সীল ছিল না বিদায় নাজমুলের সীল ব্যবহার করা হয়েছে। একজনের সীল অন্য জন কিভাবে ব্যবহার করে রিপোর্ট দেয়, এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে নাজমুলকে বাদ দেয়ায় সে সমস্যা করতেছে।’’ রাজাপুর থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।