রাজধানীতে মশার উপদ্রব; দায় কার?

0
65

অনলাইন ডেস্ক : ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে রাজধানীর বাসিন্দাদের মশাজনিত দুর্ভোগও বেড়েছে। শীতে প্রকোপ কম থাকলেও ফেব্রুয়ারি থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে মশার উপদ্রব। সময়মতো ওষুধ না ছিটানো ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের তদারকি না থাকার দায়হীনতা মশা বৃদ্ধির কারণ বলছেন নগরবাসী।
মশার কারণে নানারকম রোগবালাইয়ের শিকার হচ্ছে রাজধানীবাসী। রাজধানীর দুই কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের মতে, পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে। কিন্তু ঠিকমতো ওষুধ না ছিটানোয় সামনের দিনগুলোতে এই দুর্ভোগ ভয়াবহতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা নগরবাসীর।
মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন স্থানীয় কাউন্সিলর। আর ওষুধ সরবরাহ করে সিটি কর্পোরেশন। কাউন্সিলরদের কেউ কেউ এই প্রতিবেদককে বলছেন, ওষুধ ছিটানোর বিষয়টা তারা বোঝেনই না। তারা শুধু স্বাক্ষর করেন। এর বাইরে মশক নিধনে আর কোনো তদারক করেন না তারা।
বিভিন্ন স্তরে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীতে মশার উপদ্রব চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। মূলত ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলের কিছু সময় মশার স্বাভাবিক প্রজননের সময়। কিউলেক্স নামের এক শ্রেণীর মশারা এ সময় দ্রুত বংশবিস্তার করে। সঠিকভাবে মশার প্রজনন রোধ করতে না পারায় রাজধানীতে মশা মহামারী আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চলতি বছরে মশা নিধনের জন্য বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মশক নিধনের জন্য মূলত কাউন্সিলরা সুপারভাইজারের দায়িত্ব আছেন, তাদের কাছে ওষুধ পাঠানো হয়। বিষয়টি কাউন্সিলরা মনিটরিং করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, দক্ষিণ সিটির মশক নিধনের জন্য প্রতিদিন ১৮০০ লিটার মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এ ছাড়া এ বছর থেকে নতুন টেলিফোস (মাত্রা-৫০) নামক লার্বি সাইডিং ওষুধ ছেটানো হচ্ছে। মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে।
গত বছর চিকুনগুনিয়া রাজধানীবাসীকে ভুগিয়েছে খুব, এ বছর এমন কোনো আশঙ্কা আছে কি না- জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা মাথায় নিয়েই কাজ করছি, আশা করি এ ধরনের আপদের সম্মুখীন নগরবাসী এবার হবে না।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মশা নিধনের জন্য ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে, যা চলমান।
উত্তর সিটির এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া বিভিন্ন সোসাইটির লোকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। মশা নিধনে তারা আমাদের সহায়তা করবেন। মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’
মশার ওষুধ ছিটানোর বিষয়টি কাউন্সিলরা বুঝতে পারছেন না; এমন অপরাগতা প্রকাশ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর মশা নিধনের দায়িত্বে থাকা মহিলা কাউন্সিলর (৪৫, ৪৬ ও ৪৭) হেলেনা আক্তার বলেন, ‘আমি শুধু স্বাক্ষর দিই, এরপর তারা (কর্পোরেশনের লোকজন) কী করে জানা নেই। কোনো সময় ফোন দিলে আসে, এরপর ওষুধ ছিটিয়ে চলে যায়। এ ছাড়া আমাদের কী করার আছে।’
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রজননক্ষম মশা নিধনের ওষুধ ৭০ হাজার লিটার মজুদ রয়েছে। এছাড়া লার্বি সাইড মশার ওষুধ পর্যাপ্ত রয়েছে।
ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা রবিন্দ্রশ্রী বড়ুয়া জানান, এক লাখ লিটার এডিলটি সাইড মজুদ আছে। আর ৪ হাজার লিটার মজুদ আছে লার্বি সাইড।