মোকাব্বিরের জন্য গণফোরামের দরজা চিরতরে বন্ধ

0
13

অনলাইন ডেস্ক : শপথ নেওয়ার পর সিলেট-২ আসনের সাংসদ মোকাব্বির খান দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে চেম্বার থেকে বের করে দিয়েছেন তিনি। মোকাব্বিরকে দেখে ক্ষুব্ধ কামাল বলেন, ‘আই সে গেট আউট।’

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

কামালের চেম্বারে তখন ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী ও ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু।

প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ উল্লাহ মধুর ভাষ্য, মোকাব্বির ড. কামালের রুমের দরজা খুলে তাকে সালাম দেন। তখন ড. কামাল বলেন, ‘আপনি কার অনুমতি নিয়ে পত্রিকায় স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে গণফোরাম থেকে আপনাকে শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে? গণফোরাম সভাপতি আপনাকে অনুমতি দিয়েছে?’

‘এ সময় মোকাব্বির খান চুপ করেছিলেন।’ বলেন মধু, ‘স্যার রাগ হয়ে বলেন, আমি দ্বিতীয়বার আপনার চেহারা দেখতে চাই না। আই সে গেট আউট। আপনার জন্য আমার দরজা চিরতরে বন্ধ। আমার বাসা চেম্বার কোথাও আসবেন না।’

তবে গেণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খানের দাবি, ড. কামালের চেম্বারে আজ তার সঙ্গে এমন কিছু ঘটেনি। এর আগে গত ২ এপ্রিল একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এই গণফোরাম নেতা। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দলের অনুমতি ও সিদ্ধান্তে  তিনি শপথ নিয়েছেন। কিন্তু দল থেকে অভিযোগ করা হয়, মোকাব্বির মিথ্যা কথা বলেছেন। দল এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সন্ধ্যায়ও গণফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একই অভিযোগ করা হয়। দলের  সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার শপথের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত ছিলেন না। তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছায় শপথ নিয়েছেন। মোকাব্বির খান মিডিয়াতে গণফোরাম সভাপতি, সংগঠন বিষয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে নিজ দলের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন  মোকাব্বির এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন গণফোরামের আরেক নেতা সুলতান মনসুর। ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী আটটি আসনের মধ্যে অন্য ছয়টি পায় বিএনপি। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ঐক্যফ্রন্ট পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে নির্বাচিত  সুলতান মোহাম্মদ মনসুর  গত ৭ মার্চ শপথ নেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় তাকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই দিনই মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার কথা ছিল। আগের দিন তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

বিএনপি অবশ্য শপথ না নেওয়ার ব্যাপারে এখনো অনড়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ৯০ কার‌্যদিবসের মধ্যে শপথ নিতে হয়। অন্যথায় সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।