মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতি উপজেলায় হচ্ছে বহুতল ভবন

0
79

অনলাইন ডেস্ক : দেশের অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সব জেলা-উপজেলায় বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে, এর জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে একনেক সভায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
সভায় মোট ছয়টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে সাত হাজার ৪৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
একনেক সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য ছিল মুক্তিকামী জনগণের জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। বাসস্থান মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। সরকারের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের লোকদের আবাসন সুবিধা দেয়া হবে। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা এ সুবিধা হতে বঞ্চিত থেকে যান। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা সবাই বয়োজ্যেষ্ঠ এবং উপার্জনক্ষম না হওয়ায় তাদের পক্ষে ভাড়া খরিদ বা এককালীন অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় তৈরি হবে বহুতল আবাসিক ভবন। ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মধ্যদিয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে।
মন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে প্রতি জেলা-উপজেলায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আজকের একনেকে। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে দুই হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং নির্মাণ করা হবে আট হাজারটি ফ্ল্যাট। দুই ইউনিট বিশিষ্ট ২৬৪টি এবং চার ইউনিট বিশিষ্ট ২৬৮টি অর্থাৎ মোট ৫৩২টি ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ইউনিট বা ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৯৮২ বর্গফুট। এতে তিনটি বেড রুম, একটি ড্রইং কাম ডাইনিং রুম, দুটি বাথরুমসহ বারান্দা।
পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, তবে যেসব জেলা বা উপজেলায় তিন বা ততধিক ভবনের প্রয়োজন হবে সেখানে আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ করে অন্যান্য সুবিধাদি যেমন- অভ্যন্তরীণ সড়ক, লাইটিং ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। মূল খাস জমির উপর ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে। তবে যেসব উপজেলায় খাস জমি পাওয়া না যায় সখানে জমি অধিগ্রহণ করা হবে।