মাঠ গরম করেন না কেন: বিএনপিকে নাসিম

0
14

অনলাইন ডেস্ক : বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপি নেতাদের ‘মাঠ গরম করার’ পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. নাসিম। বলেছেন, ‘খারাপ লাগে আপনাদের নেত্রী তিন মাস ধরে জেলে আর আপনারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।’
বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নাসিম।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
দলীয় প্রধানের কিছু হলে দেশে আগুন জ্বালানোর হুমকি এসেছিল বিএনপির পক্ষ থেকে। তবে খালেদা জিয়া ‘হঠকারিতা’ করতে নিষেধ করেছেন জানিয়ে বিএনপি কর্মসূচি দেয় নমনীয়।
আর শুরুতে কর্মসূচির পরিমাণ বেশি থাকলেও এখন সেটাও কমে এসেছে। কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণও কমেছে।
বিএনপিকে নাসিম বলেন, ‘আপনাদের নেত্রী জেলে আপনারা মাঠ গরম করেন না কেন? এটা কি আমরা বলে দেব?’
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নেত্রী যখন জেলে ছিল, তখন মাঠ গরম ছাড়া কিছু ছিল বলেন? আর আপনারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমান আর গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরছেন।’
একই দিন সকালে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনে এক মানববন্ধনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্ত থাকলে যে আন্দোলন হবে তা সরকার মোকাবেলা করতে পারবে না এই ভয় ও আতঙ্কে তাকে সরকার মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখেছে।’
এর জবাবে নাসিম বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ভাই প্রতিদিন কথা বলেন। বিএনপি দিনে তিনবার ব্রিফিং করে। সকাল, দুপুর, বিকাল। এত বিফ্রিং কেউ করে না। অথচ তাদের নেত্রী জেলে, আর তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়।’
‘তারা বলছে, খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে তারা বের করে আনবেন। খালেদা জিয়া তো এতদিন বাইরেই ছিল। কী আন্দোলন করছেন? আন্দোলন করলে জনগণের দাবি নিয়ে করতে হয়।’
বিএনপি নেতাদের নাসিম বলেন, ‘আপনারা পারবেন না আন্দোলন করতে, আদালতে ঠিকমত শুনানিও করতে পারেন না। একজন আইনজীবী ছিল, প্রতিদিন কথা বলত, গেল কই সেই ভদ্রলোক? আমরা জামিন দেয়ার মালিক না। বরং আপনারা আদালতে যান, ভালো করে শুনানি করেন, আপনাদের নেত্রী মুক্তি পাবেন।’
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার করছে এমন দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা হলো। এক্সরে করা হলো। তাদের পছন্দের ডাক্তারও ছিল। কিন্তু এখন তারা বলেন এটা হবে না। তাহলে কীভাবে হবে?’
‘আমি সবসময় খোঁজ রেখেছি যাতে ম্যাডামের চিকিৎসা ঠিকমত যেন সব হয়। তাহলে কি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের এক্সরে ভেজাল? আসলে তাদের ডাক্তারদের প্রতিও বিশ্বাস নেই? এই যে ডাক্তারদের উপর আপনাদের বিশ্বাস নেই, এজন্য জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে। ডাক্তারও আপনাদের উপর ক্ষেপে আছে।’
‘খালেদা জিয়ার দলকে বলতে চাই, আপনাদের নেত্রী মুক্তি পেয়ে আসুন। নির্বাচন হবে। সেখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব হবে না। ফেয়ার হবে, সুষ্ঠু হবে। এমন হলে এই মিডিয়া আছে না? জনগণ যাকে ভোট দিবে তারা ক্ষমতায় আসবে।’
‘অবশ্যই জনগণ শেখ হাসিনাকে ভোট দেবে। কারণ তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা বাস্তবায়নও করতে পারেন। ভীতু, কাপুরুষদের জনগণ ভোট দেবে না।’
শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত নেয়া ও বাস্তবায়নের ক্ষমতার কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনা সাহসী বলে ১০ লাখ রোহিঙ্গা ছয় মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে আছে। যা নিয়ে কমনওয়েলথ সম্মেলনেও বিশ্ব নেতারা প্রশংসা করেছেন। আমরা মানবিকতার কারণে জেনেশুনে বিষপান করেছি।’
‘১০ লাখ লোককে আমরা জায়গা দিয়েছি, খাদ্য, চিকিৎসা দিচ্ছি। তারা পাহাড় কেটে ফেলছে, গাছ কেটে ফেলছে। তারপরও আমরা ধৈর্যের সাথে তাদের নিজস্ব অর্থায়নে খাবার দিচ্ছি।’
‘জানি না কবে তারা ফিরে যাবে। তারপরও আমরা তাদের পাশে আছি। আশা করি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব সমস্ত সমস্যা মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পার।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকার পাশে থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী দুই মাসের মধ্যে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হবে। আর সংসদের আগামী শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন পাস হবে করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সরকারপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিবের সভাপতি ইকবাল আর্সনাল, মহাসচিব এম এ আজিজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম প্রমুখ।