‘ভারসাম্য রাখতে’ এবার ফিলিস্তিন যাচ্ছেন মোদি

0
63

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলের সঙ্গে বরাবরই ভালো সম্পর্ক ভারতের। গত বছর ইসরায়েলে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিনের নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। এমনকি যৌথ বিবৃতিতেও ইসরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘর্ষের কথা উল্লেখ না করে শুধু ‘আঞ্চলিক শান্তি’-র প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে একতরফা সম্পর্ক না রেখে এবার ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিন সফরে যাবেন।
আনন্দবাজার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের মন রাখতে গিয়ে ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্কের শৈত্য এবার ঝেড়ে ফেলতে চলেছে মোদি সরকার। ১০ ফেব্রুয়ারি মোদি সেখানে পা রাখতে চলেছেন। মোদিই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি প্যালেস্তাইন পৌঁছবেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রিদেশীয় (প্যালেস্তাইন, সংযুক্ত আরব আমিররাত, ওমান) সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রামাল্লায় ভারত-প্যালেস্তাইন দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক বৈঠক।
অনেকেই মনে করছেন, একদিকে আন্তর্জাতিক অন্য দিকে ঘরোয়া রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা— দুটি কারণেই ইসরায়েলের সঙ্গে গভীর সখ্যতার পাশাপাশি প্যালেস্তাইনকেও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে মোদিকে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মোদির ‘মাইল ফলক সফর’ ভারতের ‘ঘরোয়া’ও ‘আন্তর্জাতিক’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। যে চারটি দিককে এর সঙ্গে জোড়া হচ্ছে, তা হলো, ১. এটি প্যালেস্তাইনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষঅর প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির প্রতীক। ২. সেখানকার পরিকাঠামো, দক্ষতা বাড়াতে বেশ কিছু চুক্তিপত্রে সই। ৩. সন্ত্রাসবাদ দমন, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ৪. আন্তর্জাতিক স্তরে প্যালেস্তাইনের দাবিকে সমর্থনের বার্তা।
কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, চতুর্থ কারণটি নয়া দিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন মোদি। কিন্তু সাউথ ব্লক বুঝছে, এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর কাছে অন্য রকম বার্তা পৌঁছচ্ছে। সে কারণেই ভারসাম্য বজায় রাখাটা জরুরি।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, দেশের সংখ্যালঘুদের আবেগকেও অগ্রাহ্য করতে চাইছে না সরকার। সে কারণেই ডিসেম্বরে জাতিসংঘের ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনা প্যালেস্তাইন-বিরোধী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে ভারত। মোদির সফরে সেই ‘ভোটদান’-কে বড় করে তুলে ধরা হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।