বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতা বিকাশে মোজাব-ই প্রথম

0
268

মোবাইল সাংবাদিকতার বিকাশে সংবাদমাধ্যমের নতুনমাত্রায় মোবাইল নেটওয়ার্কভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন মোবাইল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনটি ইতিমধ্যে মধ্যে সোস্যাল নেটওয়ার্কসহ অনলাইন গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। মোবাইল সাংবাদিকতা বিকাশে এটিই বাংলাদেশে প্রথম। হাতের মুঠোয় মোবাইল/স্মার্টফোন দিয়ে কিভাবে সাংবাদিকতা পেশায় ক্যারিয়ার গড়া যায় সে উদ্দেশ্য নিয়েই এ সংগঠনটির মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। ইন্টারনেট পোর্টেবলযুক্ত একটি মোবাইলসেট বা স্মার্টফোন দিয়ে সাধারণ নাগরিকও হয়ে উঠতে পারেন তথ্যপ্রযুক্তি সময়ে একজন ফ্রিল্যান্স/সিটিজেন জার্নালিষ্ট অর্থাৎ মুক্ত/নাগরিক সাংবাদিক। নাগরিক সাংবাদিকতা থেকে পেশাদার সাংবাদিক হয়ে উঠার সহজ ক্যারিয়ার।
সংবাদমাধ্যমের হাতেখড়ি এখন অনলাইন সাংবাদিকতা। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া টুকরো টুকরো ঘটনা ধারণ করা একমাত্র মোবাইলেই সম্ভব। দ্রুত সে ঘটনাটি ঘটনাস্থল হতে মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস/এমএমএস, ভয়েস কল, রেকর্ডিং, ই-মেইল এবং যেকোন সোস্যাল নেটওয়ার্কে পৌছানো সম্ভব। এক্ষেত্রে যার স্মার্টফোন রয়েছে তিনি যদি সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার গড়তে চান। তাহলে এই মোবাইল সাংবাদিকতাই পৌছে দিতে পারে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একজন সফল গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে। সংবাদমাধ্যমের নতুনমাত্রা হিসেবে বাংলাদেশে এই প্রথম মোবাইল সাংবাদিকতার বাস্তবায়নে কাজ করছে মোবাইল সাংবাদিক সংগঠন মোজাব। বিশ্বায়নেও অনুপ্রেরণা হতে যাচ্ছে সংগঠনটির কার্যক্রম।
২০১৬ সালে অক্টোবরে একঝাঁক উদীয়মান তরুণ নিয়ে মোজাব প্রতিষ্ঠা করেন তরুণ সাংবাদিক এসকে দোয়েল। প্রতিষ্ঠার শুরুর আগ থেকেই তিনি দীর্ঘ সময় অক্লান্ত মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর গবেষণা করে আসছিলেন। মোবাইল সাংবাদিকতার বিস্তৃতি ঘটাতে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে মোবাইল সাংবাদিকতার ওপর কলাম লিখে আলোচনায় আসেন। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তির এটুআই প্রকল্পের উদ্যোক্তার খোঁজে “গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় মোবাইল প্রযুক্তি” নতুন ধারণা নিয়ে প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেন।

তরুণ এই উদ্যোক্তা এসকে দোয়েল মোবাইল সাংবাদিকতা বিষয়ে বলেন, একজন সাংবাদিক, যিনি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের কাজ করে থাকেন, তাঁকেই ‘মোবাইল সাংবাদিক’ বা সংক্ষেপে মোজো বলা হয়। মোবাইল সাংবাদিকতা বর্তমানে দ্রুত এবং জনপ্রিয় একটি সংবাদ মাধ্যম যার সহায়তায় প্রতিবেদক বিভিন্ন ধরনের বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে এবং ইন্টারনেটের সহায়তায় সংবাদ তৈরি, সম্পাদনা এবং নিজের কমিউনিটিতে দ্রুত ভাগাভাগি করতে পারে।

একজন পেশাদার সাংবাদিকের মতোই বিভিন্ন সময়ে মোবাইল সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকও হতে পারেন যিনি ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ক্যামকর্ডার, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, স্মার্টফোন অথবা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করেন নিজের কাজের জন্য। এক্ষেত্রে একটি দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের সাহায্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের সংবাদ এবং ছবি প্রকাশের জন্য পাঠিয়ে থাকেন মোবাইল সাংবাদিক।

তিনি বলেন, এখন ডিএসএলআর ক্যামেরার চেয়ে স্মার্টফোনের ক্যামেরা কম নয়। কারণ এক স্মার্টফোনেই সব সুবিধা। হাই রেজুলেশন ক্যামেরা, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, ইন্টারনেট, ভিডিও লাইভ, ভিডিও কনফারেন্স, কম্পিউটিং, শেয়ারিং, বিল পেমেন্ট, অ্যাপস ব্যবহারে নানান কার্য অতি দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। আর স্মার্টফোনে ব্যবহার উপযোগী অ্যাপস’র মাধ্যমে দ্রুত নিউজ তৈরি, নিউজ এডিটিং, ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা এবং নিউজ আপডেটিং করা যাচ্ছে। যেখানে ঘটনা সেখান হতে বা ঘটনাস্থল হতে সরাসরি নিউজ পাঠানো এবং অনলাইনে নিউজপোর্টালে এডমিন এর মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ প্রকাশ করে সে খবরটি সাথে সাথে বিভিন্ন সোস্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করে পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌছানো সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশ এখন বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতিটি ক্ষেত্রে কম্পিউটার, ল্যাপটপে কার্যসম্পাদনের মতোই স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইনে বিল পেমেন্ট, তথ্য-আদান অল্প সময়ে করা যাচ্ছে। দেশে এখন ১৩ কোটি মানুষের হাতে ফোন। এই ১৩ কোটির মধ্যে ৫ কোটি মানুষ ব্যবহার করছে স্মার্টফোন। যারা বেশির ভাগ তরুণ। এই তরুণদের মধ্যে যারা মোবাইল দিয়ে সাংবাদিক হতে চান তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৫শ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহাকারী। এশিয়া মহাদেশে এর সংখ্যা ২৪০ কোটি। বাংলাদেশে ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৩ কোটি মানুষের হাতে ফোন। এই ১৩ কোটির মধ্যে ৫ কোটি মানুষ ব্যবহার করছে স্মার্টফোন। যারা বেশির ভাগ। স্মার্টফোন ব্যবহারে এগিয়ে আছে আজকের তরুণ প্রজন্ম। আমাদের মোজাব সাংবাদিকদের পরিচয় হবে মোজো (মোবাইল সাংবাদিক)।

এস কে দোয়েল, উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান, মোবাইল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (মোজাব)