বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু ভাবনা

0
370

মোঃ হাসান আলী রেজা (দোজা)
১২ জুন দুপুরে প্রতিদিন কার মত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক স্বাস্থ্য বুলেটিন এর তথ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪৭১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫২৩ জন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরো ৪৬ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫ জনে। ভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম সারির সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব রত ডা. দের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক, দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৮৩ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

নভেল করোনা মোকাবেলায় আমরা দিশেহারা;করোনা পরীক্ষার জন্য সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সুযোগ মিলে না, মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা এতো বাড়ার পর টেস্টের সংখ্যা বাড়ছেনা, এ হাসপাতাল ও হাসপাতাল ঘুরে ডাক্তার এর মৃত্যূ, আইসিইউ খুজতেই বাচ্চা পেটে নিয়ে মারা গেলেন মা, প্রয়োজনীয় ঔষুধ এর চাহিদা অনুযায়ী যোগানের অপ্রতুলতা,চাকুরী হারানো পোষাক শ্রমিক দের হাহাকার,বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ, শেয়ার মার্কেট এর অবস্থা ডাইনোসর এর মত,ব্যাংক ব্যবস্থা পিস্তলের গুলির মুখে,দম্পতির কাছে বন্দী জাতীয় সংসদ, আমাদের দেশের এমপিকে ধরে অন্য দেশ মানব পাচারের দায়ে, মন্ত্রীর সরল ভাবনায় এমপি নাকি ব্যবসা করে,চারটি ওয়েবসাইট এ খরচ ১০ কোটি ৫০ লাখ।

বিশেষজ্ঞ দের মতে এবং সার্বিক বিশ্লেষনে ১০ কোটির অধিক জনসংখ্যা স্বাস্থ্য ঝুকির পাশা পাশি রয়েছে অর্থনৈতিক ঝুকিতে। তাদেরকে দরিদ্রতা গ্রাস করছে এবং জীবন বাচাতেও লড়াই করতে হচ্ছে। তম্মধ্যে ৬ কোটি র অবস্থা খুবই করুন। তাদের সঞ্চয় শেষ, রোজগার নেই, রোজগার এর পথ ও রুদ্ধ। তারা করোনাকালীন এর আগেও দরিদ্র ছিল। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনমিক মডেলিং (সানেম) এর তথ্য থেকে জানা যায় মহামারী শেষে বাংলাদেশ এ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাড়াবে ৪১ শতাংশ (অনুমেয়)।অন্য এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে মার্চ থেকে মে মাস অবধি কৃষক রা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা। যদিও WFP বলছে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার অধিক খাদ্য উৎপাদন হয়েছে।কৃষি খাতের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও ধ্বংশের পথে। স্রমিক কাজ করতে না পারায় উৎপাদন সীমিত। তাই বাজারে যোগান ও নেই। প্রভাব বাজারে মূল্য উর্ধমূখী।আসল ধাক্কা টা আসে অর্থনীতির প্রান পোষাক শিল্প এবং রেমিটেন্স এ।

বিজেএমই এর তথ্য মতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য সংখ্যা ৪৬২১(২০১৮-১৯), গত বছর রপ্তানি করে ৩৪১৩৩ মিলিয়ন ডলার যা রপ্তানির ৮৪ ভাগ। কিন্তু এ বছর করোনার প্রভাবে এক হাজারেরও বেশি পোষাক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চাকুরী হারিয়েছে ২২ লাখ শ্রমিক। রেমিটেন্স ও নিম্নমুখী। ১৪ লাখের ও বেশী রেমিট্যান্স যোদ্বা দেশ এ ফিরে এসেছে। গত বছরের তুলনায় রেমিটেন্স কম এসেছে মার্চ মাসে ১২ শতাংশ, এপ্রিলে ২৫ শতাংশ, মে তে ২৫ শতাংশের অধিক।মহামারি তে বাংলাদেশ এ সার্বিক প্রবৃদ্বি কমেছে ১.২ ভাগ যদিও ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় ভালো অবস্থানে,কিন্তু অর্থ বছর পরে দাড়াবে ৩.৮ শতাংশ (বিশেষজ্ঞ মতামত) ।

নভেল করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপ নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে মানুষের জীবন ও জীবিকা। একই সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। এ দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য চারটি কৌশল নির্ধারণ করে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য নতুন বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের শিরোনাম ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’। নতুন বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পণ্য এবং সেবায় বাড়তি কর আরোপ করায় কিছু পণ্য ও সেবার দাম বাড়ছে। এ তালিকায় রয়েছে- অনলাইন খাবার, অনলাইন কেনাকাটা, রং, বিদেশি টিভি, তামাক, তামাকজাত পণ্য, সিগারেট, সোডিয়াম সালফেট, আয়রন স্টিল, স্ক্রু, আলোকসজ্জা সামগ্রী, কম্প্রেসার শিল্পে ব্যবহৃত উপকরণ, বার্নিশ, বাইসাইকেল, আমদানি করা অ্যালকোহল, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন খরচ, শ্যাম্পু, জুস, ইন্টারনেট খরচ, আমদানি করা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মোবাইল খরচ, চকলেট, বিদেশি মোটরসাইকেল, বডি স্প্রে ইত্যাদি।

প্রস্তাবিত বাজেটে বরাবরের মতো বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর অব্যাহতি রাখা হয়েছ।যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে সেগুলো হচ্ছে- চিনি, সোনা, সরিষার তেল, এলপিজি সিলিন্ডার, হস্তচালিত কৃষি যন্ত্রপাতি, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য শিল্পে ব্যবহৃত উপকরণ, ডিটারজেন্ট, ইলেকট্রিকাল সিগন্যাল যন্ত্রপাতি, আইসিইউ যন্ত্রপাতি,হ্যান্ডগ্লাভস,ঔষুধ, স্বর্ন, সরিষার তেল।এ ছাড়াও কর অব্যাহতি দেওয়ায় দাম কমবে অটোমোবাইল, ফ্রিজ, এসি, ডিটারজেন্টের কাঁচামাল, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের দাম কমছে। ইস্পাত শিল্পের রিফ্রাক্টরি সিমেন্টের ওপর শুল্ক কমানো হবে।

বাজেট বাস্তবায়নের পাশা পাশি দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পে বিশেষ নজর দিতেই হবে। সাথে কাঙ্খিত বৃস্টিকে কাজে লাগিয়ে এবং চাহিদা মোতাবেক যোগান দিয়ে কৃষিজ উৎপাদনে বাম্পার ফলন নিতেই হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প ব্যাবসায়ী ,কৃষক, শ্রমিক,দিন-মজুর অর্থাৎ প্রান্তিক জনগোস্ঠী কে প্রনোদনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা,সঠিক তত্ত্বাবধান করে নিজেদের পায়ে দাড় করাতে পারলে অর্থ প্রবাহমান হবে, সেই সাথে প্রান্তিক জনগোস্ঠীর ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে, চাহিদা – যোগান ঠিক থাকবে। প্রান্তিক জনগোস্ঠীর স্বচ্ছলতাই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি। পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরের বিদ্যমান বানিজ্য কেও এগিয়ে নিয়ে গেলে আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা হবে প্রত্যাশার ও কম সময়ে….
এবং এ জন্যে ব্যাক্তিগত,সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় কিছু লক্ষ্য নির্ধারন বাঞ্চনীয় ;
সমগ্র জনগনের ইচ্ছা শক্তি বাড়াতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে, কারিগরি সহায়তা বাড়াতে হবে,প্রতি ইঞ্চি জমি কাজে লাগাতে হবে,সঠিক ভাবে তদারকি করতে হবে, দেশীয় পন্যের প্রচারনা-ব্যাবহার বাড়াতে হবে , বিদেশি পন্য ব্যাবহার সীমিত আকারে নিয়ে আসতে হবে, যে কোন অন্যায়কে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে এবং দল-মত এর উর্ধে উঠে দেশ পরিচালনা অত্যাবশকীয়।
(তথ্য উপাত্তঃ জাতীয় সংবাদ মাধ্যম)

লেখক : মোঃ হাসান আলী রেজা (দোজা), সাংবাদিক ও সংগঠক, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সংবাদ পরিক্রমা।