বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ

0
34

লায়ন সালাম মাহমুদ : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কয়েকবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। খ্যাতিমান লেখক, কলামিস্ট, সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং চলচ্চিত্রটি নির্মাণের জন্য গত কয়েকবছর বিভিন্ন রকমের প্রস্তুতি ও চেষ্টা করেছেন। এজন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর উপরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন কিন্তু চলচ্চিত্রটি এখনও নির্মিত হয়নি এবং এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে জন্য যে পরিমান সময়, শ্রম, অর্থ লগ্নী দরকার তার সবকিছু সমন্বয় করে তিনি চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শেষ করতে পারবেন কিনা তা বলা যাচ্ছে না।
পরিচ্ছন্ন বিনোদন চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মডার্ণ ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল এর কর্ণধার মোশারফ হোসেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোয়েট অব পলিটিক্স (রাজনীতির কবি) নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে চিত্রগ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু ট্রাষ্ট্রের অনুমোদন পেলে চিত্রগ্রহণ শুরু হবে। এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুর্দান্ত দাপট, ঘরের লক্ষ্মী, বউ শ্বাশুড়ীর যুদ্ধ, ফুলের মত বউ, তুমি আমার মনে মানুষসহ অনেকগুলো বিনোদন চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। মডার্ণ ফিল্মস এর কর্ণধার মোশারফ হোসেনকে আমি অনুরোধ করি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য। এ কথায় মোশারফ হোসেন খুবই আনন্দিত হয় এবং আমাকে চলচ্চিত্রটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে বলেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্র পরিচালনার প্রস্তাব পেয়ে মনটা আনন্দে ভরে উঠলেও এত বড় কাজের জন্য আমি একজন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র পরিচালক দিলদার হোসেনের নাম প্রস্তাব করি। দিলদার হোসেন অসংখ্য নাটক, চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি জাপানে বঙ্গবন্ধু বইটি একুশে বই মেলায় প্রকাশ করে ব্যাপক আলোড়ন সৃৃষ্টি করেছিলেন। তার পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম মেগাসিরিয়াল এটিএন বাংলার ‘চোখ’ এ আমি অভিনয় করেছিলাম।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি পরিচালনার জন্য দিলদার হোসেনের নাম প্রস্তাব করলে মোশাররফ হোসেন রাজী হয় এবং আমাকে চলচ্চিত্রটির নির্বাহী পরিচালক থাকার শর্ত দেয় এবং আমি রাজি হই। এক সপ্তাহের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি পরিচালনার জন্য দিলদার হোসেনকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। চিত্রনাট্য রচনার দায়িত্ব দেয়া হয় চলচ্চিত্র সাংবাদিক, স্ক্রিপ্ট রাইটার মুজতবা সউদকে। পান্ডুলিপি রচনার দায়িত্ব পেয়ে মুজতবা সউদ কয়েক মাস বঙ্গবন্ধুর উপরে বিভিন্ন বই সংগ্রহ করে মডার্ণ ফিল্মস এর কাকরাইলস্থ অফিসে পান্ডুলিপি চিত্রনাট্য রচনা করেন। পরিচালক দিলদার হোসেনকে নিয়ে আমি বিভিন্ন লোকেশন দেখে আসি চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করার জন্য। বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমোদন পেলে পয়েট অব পলিটিক্স চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পূর্বকালে প্রাদেশিক সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে এফডিসি প্রতিষ্ঠা বিল উত্থাপন করেন এবং বিলটি পাশ হলে এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু এ বিলটি উত্থাপন করেন ১৯৫৭ সালের ৩রা এপ্রিল। সে কারণে সাংবাদিক সমাজ এবং গণমানুষের দাবীকে সম্মান দেখিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩রা এপ্রিলকে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ঘোষণা করেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্রকে তিনি সরকারীভাবে শিল্প ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ সংস্কৃতি এবং চলচ্চিত্র শিল্প উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর উপহার এফডিসিতে দেশের অসংখ্য গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক হাজার হাজার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন । সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শতাধিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়া উচিত ছিল এমন কথাই বলেছেন সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগন।
ঢাকার শিল্পকলা একাডেমীতে সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক রেদুয়ান খন্দকার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। উতসবের উদ্বোধক ততকালীন মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরামকে আহ্বান জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। উতসবে অন্যান্য দিন ততকালীন মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এম.পি, ততকালীন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এম.পি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এম.পি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পীকার এড. ফজলে রাব্বি মিয়া এম.পি, চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এম.পি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এম.পি, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, কবি কাজী রোজি এম.পি, বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভপতি কবি মুহম্মদ আবদুল খালেকসহ সকলেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।ততকালীন চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এম.পি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য মাঠে ময়দানে সরাসরি কাজ করার ঘোষণা দেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগালকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের দায়িত্ব দিয়েছেন।শ্যাম বেনেগাল
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের কাজ করে যাচ্ছেন।সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ব সংগ্রহ করেছেন।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বেসরকারীভাবে বেশকিছু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীসহ দেশপ্রেমী
জনগণ।