ফিরে দেখা সেই ১১ ফাইনাল

0
54

অনলাইন ডেস্ক : দেখতে দেখতে বিদায়ের পথে ১২তম ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছিল ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জমকালো আয়োজনের। এদিকে বিশ্বকাপের পর্দা নামার ম্যাচেও আছে সেই ইংল্যান্ড। তবে এবার প্রতিপক্ষ ভিন্ন। কখনো বিশ্বকাপ না জেতা নিউজিল্যান্ড। ইংলিশরাও অবশ্য কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি! আজ রোববার (১৪ জুলাই) ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে তাই ক্রিকেট বিশ্ব পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়নকে।
বহুল আকাঙ্ক্ষিত ও প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ শুরুর আগে চলুন একবার এক নজরে আগের ১১ আসরের ফাইনাল সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু জেনে নেয়া যাক :

১৯৭৫- লর্ডস, লন্ডন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড এবং ভিভ রিচার্ডস অস্ট্রেলিয়ার দেনিস লিলি ও জেফ থমসনদের রুখে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের প্রথম আসরের ফাইনালে। আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারানোর পর উইকেটে আসেন লয়েড। ৬০ ওভারের ম্যাচে তিনি করেন ১০২ রান। উইন্ডিজরা সংগ্রহ পায় ২৯১ রানের। জবাবে রিচার্ডসের ৩ রানআউটেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে অজিরা। এ ছাড়াও গ্যারি গিলমৌর নেন ৫ উইকেট। ক্যারিবীয়ান ম্যাচ জেতে ১৭ রানে। আর প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা ওঠে তাদের হাতে।
ফলাফল : অস্ট্রেলিয়াকে ১৭ রানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ম্যাচসেরা : ক্লাইভ লয়েড

১৯৭৯- লর্ডস, লন্ডন
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামলেও নির্ধারিত ৬০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানের সংগ্রহ গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভিভ রিচার্ডস খেলেন অপরাজিত ১৩৮ রান। কলিস কিংয়ের ব্যাট থেকে আসে ৮৬ রান। জবাবে মাত্র ১৯৪ রানেই গুটিতে যায় ইংলিশদের ইনিংস। ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন জোয়েল গারনার।
ফলাফল : ৯২ রানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ম্যাচ সেরা : স্যার ভিভ রিচার্ডস

১৯৮৩- লর্ডস, লন্ডন
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ক্রিকেটের মক্কায় ভারতের বিপক্ষে বোলিং বেছে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগে ব্যাট করে শ্রীকান্থ, অমরনাথঁ ও পাটিলের মাঝারি মানের তিন ইনিংসে ১৮৩ করতেই অলআউট হয়ে ভারত। তবে এ ছোট সংগ্রহও সফলভাবে তাড়া করতে পারেনি ক্যারিবীয়ানরা। অমরনাথঁ-মদনলালদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় রিচার্ডস-লয়েডদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ফলাফল : ভারত ৪৩ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : মহিন্দর অমরনাথ

১৯৮৭- ইডেন গার্ডেন, কলকাতা
কলকাতায় দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলতে নামে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দু’দলই। টস জিতে আগে ব্যাট করে ডেভিড বুনের ৭৫ রানের ইনিংসের সুবাদে ৫ উইকেটে ২৫৩ রানের সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ২৪৬ রানে থামে ইংলিশদের ইনিংস। বিলি অ্যাথে ৫৮ রান করলেও জয়ের জন্য তা উপযুক্ত ছিল না।
ফলাফল : ৭ রানে জয়ী অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচসেরা : ডেভিড বুন

১৯৯২- মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মেলবোর্ন
প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় পাকিস্তান। ইমরান খানের অসাধারণ নেতৃত্বে শিরোপা জেতা পাকিস্তান ফাইনালে টস জিতে আগে করে স্কোরবোর্ডে ২৪৯ রান তোলে। ইমরান খান করেন দলীয় সর্বোচ্চ ৭২ রান। জবাবে ২২৭ রান অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। পাকদের হয়ে ওয়াসিম আকরাম ও মুশতাক আহমেদ নেন ৩টি করে উইকেট।
ফলাফল : পাকিস্তান ২২ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : ওয়াসিম আকরাম

১৯৯৬- গাদ্দাফি স্টেডিয়াম, লাহোর
একবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হেরে আগে ফিল্ডিং নেয় শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া মার্ক টেলরের ৭৪ রানের সুবাদে ২৪১ রানের সংগ্রহ পায়। জবাব দিতে নেমে অরবিন্দ ডি সিলভার ১০৭ রান করলে ২২ বল হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় লঙ্কানরা।
ফলাফল : ৭ উইকেটে জয়ী শ্রীলঙ্কা
ম্যাচসেরা : অরবিন্দ ডি সিলভা

১৯৯৯- লর্ডস, লন্ডন
৮৩ সালের পর ফের ক্রিকেটের তীর্থভূমিতে ফেরে বিশ্বকাপ। যেখানে ফাইনালে মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। লর্ডসে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রাদের তাণ্ডবে মাত্র ১৩২ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে ১৭৯ বলে হাতেই রেখেই জয় তুলে নেয় স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়া।
ফলাফল : ৮ উইকেটে জয়ী অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচসেরা : শেন ওয়ার্ন

২০০৩- ওয়ান্ডেরার্স, জোহানেসবার্গ
সৌরভ-শচীন-শেবাগদের ভারতকে হারিয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া। ফাইনাল ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান দলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিং। জহির খান, হরভজন সিংয়ের তুলোধোনা করে ১৪০ রান করেন তিনি। অজিরা পায় ৩৫৯ রানের বিশাল সংগ্রহ। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মাত্র ২৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে ছড়ি ঘোরানো শচীন টেন্ডুলকার এদিন করেন মাত্র ৪ রান। সর্বোচ্চ ৮২ রান আসে শেবাগের ব্যাট থেকে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন গ্লেন ম্যাকগ্রা।
ফলাফল : অস্ট্রেলিয়া ১২৫ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : রিকি পন্টিং

২০০৭- কেনসিংটন ওভাল, বারবাডোজ
টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার ও দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ১৪৯ রানের অনবদ্য এক ইনিংসের সুবাদে ৩৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় অজিরা। বৃষ্টির কারণে ইনিংস শেষ না হলে ৩৬ ওভারে লঙ্কানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৯ রান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২১৫ রানেই থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
ফলাফল : বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়া ৫৩ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : অ্যাডাম গিলক্রিস্ট

২০১১- ওয়াংখেড়ে, মুম্বাই
ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জিতে ২৮ বছরের শিরোপা খরা ঘোচায় ভারত। একবারের বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলঙ্কা টস জিতে আগে ব্যাট করে মাহেলা জয়বর্ধনের সেঞ্চুরিতে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায়। তবে গৌতম গম্ভীরের ৯৭ ও দলীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির অপরাজিত ৯১ রানের সুবাদে ১০ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া।
ফলাফল : ভারত ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : মহেন্দ্র সিং ধোনি

২০১৫- মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মেলবোর্ন
রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট শুরু করে মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের লক্ষ্যও পূরণ করে তারা। মেলবোর্নে ম্যাড়ম্যাড়ে ফাইনালে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জেতে অজিরা। টস জিতে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড জনসন-ফকনারদের বোলিং তোপে মাত্র ১৮৩ রানেই গুটিয়ে যায়। জবাব দিতে নেমে মাইকেল ক্লার্কের ৭৪ রানের সুবাদে প্রায় ১৭ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

ফলাফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : জেমস ফকনার