প্রশ্ন ফাঁস করলে তার যে কী হবে নিজেও জানি না: শিক্ষামন্ত্রী

0
87

অনলাইন ডেস্ক : চলমান এসএসসি পরীক্ষায় কেউ প্রশ্ন ফাঁস করলে তাকে চরম পরিণতির জন্য তৈরি থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে কেউ রেহাই পাবে না। কী হবে আমি নিজেও বলতে পারি না। তবে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার শুরুর ‍দিন রাজধানীর ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি উচ্চবিদ্যালয়ে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নাহিদ।
গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। এবার পরীক্ষার আগেই বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথা আগেই ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল, আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ, এক সপ্তাহ আগেই কোচিং সেন্টার বন্ধ, পরীক্ষা চলাকালে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার বা অন্য সামাজিক মাধ্যমগুলো সাময়িক বন্ধ রাখা, পরীক্ষার হলে ছাত্রদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরকেও মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে নিষেধ করা, কেন্দ্র প্রধান ফোন রাখতে পারলেও ছবি তোলা যাবে এমন ফোন না রাখা প্রভৃতি।
তবে শেষ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যম বন্ধ হয়নি, আর আধা ঘণ্টা আগেও কেন্দ্রে প্রবেশে তেমন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি যানজটের কথা চিন্তা করে।
প্রথম দিন পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগও উঠেনি। আর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই পরীক্ষা নিরাপদ রাখতে মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব এবার তাই করা হয়েছে।’
‘প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আমরা ইতিমধ্যেই অনেক ব্যবস্থা নিয়েছি। এগুলোর সব এখন বলতে চাচ্ছি না। গোয়েন্দা বাহিনী এ ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে। মূল কথা হচ্ছে, প্রশ্নপত্রের ফাঁসের চেষ্টা করা হলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।’
যদি প্রশ্ন ফাঁস হয়েই যায়?- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এরপরেও যদি কোনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায় সেই পরীক্ষা বাতিল করা হবে।’
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরীক্ষা চলবে কি না- এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা চলবে। কারণ পরীক্ষা বন্ধ হলে এ জাতির যারা নেতৃত্ব দিবে তারা তো পিছিয়ে পড়বে। সুতরাং পরীক্ষা চলবে।’
পরীক্ষার কথা চিন্তা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল হতেও বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের ভবিষ্যত। তাদের জীবন নষ্ট হলে জাতির ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এমন কিছু করবেন না যাতে করে পরীক্ষা নিতে সমস্যা হয়।’
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে অংশ নিচ্ছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন। আগের বছরের চেয়ে পরীক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় আড়াই লাখ।
মোট তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে চলছে এই পরীক্ষা। এবার সব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা অভিন্ন প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি।