‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো বৈরিতা নয়’

0
10

অনলাইন ডেস্ক : প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো বৈরিতা নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকরা আমাদের ওপর একটা বোঝা। প্রায় ১১ লাখ শরণার্থী আজকে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আমাদের শরণার্থীদের কথা যখন স্মরণ করেছি তখন তাদের আশ্রয় না দিয়ে পারিনি। তবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কোনো বৈরিতা তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনালের এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে এসব কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে লায়ন্স ক্লাবস্ ইন্টারন্যাশনালের নবনির্বাচিত ‘আন্তর্জাতিক পরিচালক’ কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য এইটুকুই যে, আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঝগড়া করিনি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সই করেছি। তারা রাজি হয়েছে নিয়ে যাবে, যদিও এখনো নিয়ে যাওয়া শুরু করেনি। তারপরও আমরা আলোচনা করে যাচ্ছি এদের ফিরিয়ে দিতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে আজকে যে সমর্থন বাংলাদেশ পেয়েছে এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে (মিয়ানমারকে) চাপ প্রয়োগ করছেন। আমরা আশা করি তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করতে পারবো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের সেবা করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। মানুষের জন্য সেবা করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এর চেয়ে বড় কাজ আর কী হতে পারে। আমি আমার জীবনটাকে উৎসর্গ করেছি বাংলার জনগণের জন্য। এখানে আমরা নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়া কিছু নেই। আর বাবা-মা, ভাই- সবই হারিয়েছি, হারাবারও কিছু নেই।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘শুধু একটা জিনিসই চাই, যে দেশকে আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, যে স্বপ্নটা তার ছিল, সে স্বপ্নটা যেন পূরণ হয়, বাংলাদেশ যেন হয় ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশকে সেভাবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল’র প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল জাতিসংঘের কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস প্রাপ্ত, বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানবসেবামূলক সংগঠন। সমাজের দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিবেদিত এই সংগঠন বিগত একশ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বের ২০০ টিরও অধিক দেশে মানবসেবায় কাজ করে যাচ্ছে।’