প্রতিদিন আ.লীগের ভোট কমছে ১০ লাখ: মওদুদ

0
36

অনলাইন ডেস্ক : দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর কারণে আওয়ামী লীগের ভোট কমছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা তাকে (খালেদা জিয়া) যত কষ্ট দেবেন তত আপনাদের ভোট , জনসমর্থন কমবে। প্রতিদিন অন্তত আপনাদের দশ লাখ করে ভোট কমবে।’
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় সাজা: প্রতিহিংসার রাজনীতি’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় মওদুদ এসব কথা বলেন।
মওদুদ বলেন, ‘আপনারা (সরকার) ভেবেছিলেন খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়ে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। যতদিন পর্যন্ত তাকে মুক্তি না দেয়া হবে ততদিন আন্দোলন চলবে। তাকে মুক্ত করে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আজ নির্বাচন হলে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।’
খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে সরকার নানাভাবে হয়রানি করতে পারে এমন আশঙ্কা করে মওদুদ বলেন, ‘শুনেছি জামিন হলে তারা শোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারে। এবার কিছু করে দেখুক আমরা ছাড়বো না।’
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মওদুদ বলেন, ‘আমাদের যে আন্দোলনের সূচনা হলো এটা অব্যাহত থাকবে। যেকোনোভাবেই হোক শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এই আন্দোলনকে সামনের দিকে নিয়ে যাব। একটা পর্যায়ে গেলে সরকার যদি আমাদের দাবি না মানে তখন আমাদের চরম কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তখন ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কর্মসূচি সফল করতে হবে।’
ব্যারিস্টার মওদুদ দীর্ঘ বক্তব্যে কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার প্রতিহিংসার কারণে কষ্ট দিচ্ছে এমন অভিযোগ করেন। দুর্নীতি মামলার রায়ের কপি পেলে উচ্চ আদালতে আপিল এবং জামিন পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। রায়ের কপি পেতে গড়িমসির অভিযোগও করেন তিনি।
মওদুদ বলেন, ‘সরকার দেশকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সারাদেশের মানুষ আজ উদ্বিগ্ন। আমরা ভেবেছিলাম ক্রমান্বয়ে নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক পরিবেশ একটি শিষ্টাচারসম্পন্ন হবে। যাতে করে সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। একদিকে সরকারি দল বলছে সবাইকে নির্বাচন করবে অন্যদিকে তারা কাজে সম্পূর্ণ উল্টোটা করছে। সম্পূর্ণ বানোয়াট মামলায়, যেটায় কোনো মামলাই হয় না সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রেখেছে। এর পরিণাম ও পরিণতি আমাদের রাজনীতি ভবিষ্যতে এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করবে যাতে করে সরকার নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের আয়োজন করতে বাধ্য হবে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পাঁচজন আইনজীবী নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। মূলত আইনিভাবে আমরা কী করতে পারি সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে আমি তিনটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তাকে ডিভিশন দেয়া হয়েছে কি না ? তিনি বলেছেন, না দেয়া হয়নি। জানতে চেয়েছিলাম আপনার এখানে এয়ার কন্ডিশনার আছে কি না? বলেছেন, না নেই। গৃহকর্মী ফাতেমা আপনার সঙ্গে আছে কি না জানতে চেয়েছিলাম। বলেছেন, না দেয়া হয়নি।’
সরকার খালেদা জিয়ার ডিভিশন প্রাপ্তি নিয়ে প্রথম থেকেই মিথ্যাচার করেছে অভিযোগ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘তিন দিন তাকে অমানবিক পরিবেশে ডিভিশন না দিয়ে রাখা হলো, এটি সংবিধান পরিপন্থি। আমি নিজেও কারাগারে গেলে আমাকে ডিভিশন দিয়ে দেয়া হয়েছিল। তখন তো কিছু জিজ্ঞেস করা হলো না। হঠাৎ বেগম জিয়ার সময়ে আইন কোথা থেকে এলো নতুন করে।’
মওদুদ বলেন, ‘ওখানে খুব মশা। সেগুলো কে মারবে। খালেদা জিয়ার নির্জন কারাবাস সংবিধান পরিপন্থি। সরাসরি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বেগম জিয়াকে প্রথম দিন থেকেই প্রথম শ্রেণিতে রাখা উচিত ছিল। শুধু প্রতিহিংসার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। তাকে একটি নির্জন জায়গায় রাখা হয়েছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রাউন্ডফ্লোরে রাখা হয়েছে বলে পত্রিকায় খবর দেখলাম। কিন্তু তাকে রাখা হয়েছে দ্বিতীয় তলায়। কতটা অমানবিক। কারণ সরকার কি জানে না তার হাঁটুতে সমস্যা। হাঁটতে কষ্ট হয়।’
কারাগারে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোবলে কোনো ধরনের আঘাত লাগেনি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘দেশের জনগণ যা ভাবছে, সরকার তার উল্টো ভাবছে। তারা ভাবছে, খালেদা জিয়াকে যতদিন বেশি জেলে রাখা যায় ততই তার এবং বিএনপির মনোবল ভেঙে যাবে। কিন্তু আমরা তার সঙ্গে দেখা করে দেখেছি, খালেদা জিয়ার মনোবল বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং আরও বেড়ে গেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়।’
রায়ের কপি দিতে গড়িমসি করার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবারই আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আজও এখন পর্যন্ত কপি পাইনি। এক একটা দিন বিলম্ব হলে তার কষ্ট বেশি হবে। সরকারের আচারণ দেখে তাই মনে হয়। এতটা অমানবিক পর্যায়ে চলে গেছে তাদের মানসিকতা। আমরা সত্যায়িত কপি পেলে আপিল করবো এবং জামিনের জন্য আবেদন করব। আমরা আশা করি এই রায় যখন হাইকোর্টে তুলবো তখন এটা টিকবে না। ইনশাল্লাহ তিনি জামিন পাবেন।’
মওদুদ বলেন, ‘সরকারও বসে নেই। শুনতেছি তারা হয়তো শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারে। কুমিল্লার মামলায় নাকি অ্যারেস্ট দেখাবে। তারা নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করবে। করে দেখুক এবার আমরা ছাড়বো না।’
আয়োজক সংগঠন নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা নাসির উদ্দিন হাজারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষক দল নেতা শাহজাহান সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য দেন।