পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে: রুবানা

0
23

অনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাতেও। একের পর এক ক্রয় আদেশ বাতিল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক। তিনি জানান, করোনার কারণে পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় একথা জানান তিনি। ভিডিও বার্তায় দেশের পোশাক রপ্তানিখাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অবস্থা চলছে আমাদের। বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশ থেকে সমস্ত ক্রেতারা তাদের সমস্ত ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আপাতত বাতিল করছেন। এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া অর্ডারের আর্থিক পরিমাণ ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তারা স্থগিত বললেও আমাদের জন্য স্থগিত ও বাতিল একই জিনিস।

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, এক হাজার ৮৯টি কারখানা জানিয়েছে তাদের ৯৭ কোটি ৩২ হাজার ৬২২টি পোশাক কার্যাদেশ বাতিল করেছে ক্রেতারা। যার আর্থিক পরিমাণ ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব কারখানায় ১২ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।

প্রসঙ্গত চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ সব বৃহৎ অর্থনীতির সব দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় অংশই যায় ইউরোপে। ইতালি, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। অনেক জায়গাতেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকান। কমেছে স্থানীয় কিংবা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিসর। বেশি আক্রান্ত স্থানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গুটিয়ে নিয়েছে তাদের আউটলেট। এমন অবস্থায় ক্রেতারা বাতিল করছেন ক্রয়াদেশ। আর এতে ভয়াবহ সংকটে পরতে যাচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পে এখনই নেতিবাচক প্রভাব দেখছি। এটা সামনে আরও নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিটওয়ারে পাঁচ দশমিক সাত শতাংশ ঋণাত্মক। ওভেনওয়ারের ক্ষেত্রে পাঁচ দশমিক নয় শতাংশ ঋণাত্মক। হোম টেক্সটাইলে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ ঋণাত্মক। এ থেকে সহজেই বুঝতে পারছি করোনার প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে এটা আরও ঋণাত্মক হতে পারে।