পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আলহাজ জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

0
26
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

অনলাইন ডেস্ক:  এক সময়ে পাটশিল্পের জন্য দেশের দ্বিতীয় ড্যান্ডি’হিসেবে খ্যাত জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার অর্ধশত বছরের প্রাচীন আলহাজ জুট মিল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৮০ কোটি টাকা লোকসান ও ১৫ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে মিলটি বন্ধের নোটিশ দেয়া হয়।

শনিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আলহাজ জুট মিলের নিরাপত্তা প্রধান সিরাজুল ইসলাম জানান, মিলের ঢাকা অফিসের পিয়ন দেলোয়ার শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে এসে আলহাজ জুট মিলের প্রধান গেটে মিলটি বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেন।

নিরাপত্তা সুপারভাইজার ইনুছ মিয়া জানান, শনিবার সকাল ৬টায় তিনি ডিউটিতে এসে মিল বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় শত শত শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।’

১৯৬৭ সালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ি-দিয়ারকৃষ্ণাই এলাকায় আলহাজ জুট মিলটি প্রতিষ্ঠা হয়। এ মিলে পাটের তৈরি বস্তা, ব্যাগ ও কার্পেটের সুতা প্রস্তুত করা হয়। গড়ে দৈনিক প্রায় ১৫ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন হতো।

বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মিলটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শ্রমিকরা। রাতেই কর্মকর্তারা মিল ছেড়ে গা-ঢাকা দেন।

এদিকে মিল বন্ধের প্রতিবাদে হাজারো শ্রমিক সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে। পরে মিলগেটে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় শ্রমিক লীগ ও আলহাজ জুট মিল সিবিএর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুলহাস উদ্দিনসহ সিবিএ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় সিবিএ সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জানান, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কর্তৃপক্ষ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মিলটি বন্ধ করেছে। অথচ শ্রমিক-কর্মচারীদের এখনো প্রায় ৭০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ ও নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছাড়াই মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিলের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক-কর্মচারীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। শীঘ্রই এর সুষ্ঠু সমাধান না হলে আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

এদিকে পাট ব্যবসায়ী আব্দুল বারিকের অভিযোগ, মিল কর্তৃপক্ষের কাছে পাট ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তাঁর নিজেরই প্রায় ২৫ লাখ টাকা বকেয়া। ঋণ পরিশোধ না করে মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে আলহাজ জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হারুনুর রশিদ মোবিইল ফোনে জানান, মিলটি বর্তমানে প্রায় ৮০ কোটি টাকা লোকসানে রয়েছে। লোকসান প্রতিমাসে বেড়ে যাওয়ায় মিল চালু রাখা সম্ভব না। তবে বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হবে।’

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন নজরে রাখছে।’