পিয়াজের দাম বৃদ্ধি, সংসদকে কারণ জানালেন মন্ত্রী

0
11

অনলাইন ডেস্ক : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন ও ভারত রফতানি বন্ধ করায় হঠাৎ পিয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে পিয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। আর গত বছর পিয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন। তার মধ্যে ৩০ শতাংশ সংগ্রহকালীন এবং সংরক্ষণকালীন ক্ষতি বাদ দিলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন। যা দিয়ে চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়।
মঙ্গলবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হূমায়ুন সংসদকে এ তথ্য জানান।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ বিশেষ করে ভারত থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ পিয়াজ আমদানি করতে হয়। সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যা হওয়ার কারণে পিয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পিয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পিয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ভারত সরকার গত ১৩ সেপ্টেম্বর পিয়াজের সর্বনিম্ন রফতানি মূল্য প্রতি টন ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে। যা পূর্বে প্রতি মেট্রিক টন ছিল ২৫০-৩০০ ডলার। সে দেশে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পিয়াজের রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পিয়াজের বাজার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ব বাজারে রসুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে।
পিয়াজ রসুনের দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন ৪টি করে মোট ২৮টি মনিটরিং টিম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া টিসিবি’রি ডিলারদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ঢাকা মহানগরীতে ৩৫টি পয়েন্টে ন্যায্য মূল্যে ট্রাক সেলের মাধ্যমে খোলা বাজারে পিয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া মিশর ও তুরস্ক হতে পিয়াজ আমদানির জন্য প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পিয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পিয়াজের রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য দিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।