পিরোজপুরের শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতার জীবনকথা

0
105

এস সমদ্দার, পিরোজপুর ব্যুরোঃ পিরোজপুরের পাঁচ নারী চলমান সামাজিক ব্যবস্থা, নারীদের প্রতি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গীসহ নানা প্রতিকূলতা ও বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে সমাজে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন । মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় পিরোজপুর জেলায় ২০১৭-২০১৮ সালের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়ে তারা এখন নারীদের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। অতীতে তারা অনেক দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন সহ্য করেও হতোদ্যম না হয়ে সাফল্যের গৌরবগাঁথায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। প্রতিকূল পরিবেশে সংগ্রাম করে তারা তাদের জীবনে এনেছেন সাফল্য । শনিবার এক অনুষ্ঠানে তাদেরকে ওই মূল্যায়ন করা হয়।
এদের মধ্যে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার এক দরিদ্র বাবার মেয়ে সাম্মী আক্তার, অভাবের সংসারে বাবা মা মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে দেন সাম্মীকে, কাউখালী উপজেলার শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারি প্রিয়ংবদা ভট্টাচার্য্য, জেলা শহরের দরিদ্র পুরোহীত কন্যা ও একজন জননী গীতা চক্রবর্তী, ইন্দুরকানী উপজেলার দিলরুবা মিলন নাহার যিনি সমাজ উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য অবদান এবং নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোগে জীবন সংগ্রামী এক নারী জেলার নেছারাবাদ উপজেলার উত্তর কামারকাঠী গ্রামের দরিদ্র দিন মজুর পিতার কণ্যা হাসি বেগম।
পিরোজপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা জাহান জানান, সমাজ ও সভ্যতার বির্নিমাণে নারী পুরুষের রয়েছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বর্তমানে বাংলাদেশে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নজরকড়া অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ইনোভেটিভ আইডিয়া। সমাজ বদলের যারা নিরলস কর্মী সামনে আসতে পারেননি, উন্নয়নের ¯্রােতধারায় তাদের অংশগ্রহণের অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর দেশব্যাপী ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কার্য়ক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রা ও নারীর অগ্রযাত্রা পরস্পর পরিপূরক। আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় নারীর সফল অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে আজ বিশ^ব্যাপী রোল মডেলের আসনে বসিয়েছে। এখন ‘জয়িতা’ এক সফল নারীর অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত ।