“পহেলা বৈশাখ ১৪২৫বঙ্গাব্দ” এসো মিলি প্রানের উৎসবে!

0
138

এস ই ইসলাম
“মম চিত্তে নিতি নৃত্যে
কে যে নাচে ,তা তা থৈ থৈ”
স্বপ্নচারী আবেগের কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সৌন্দর্য্য¯œাত ,আনন্দমুখর বন্দনাগীতিতে বাস্তবে রুপায়িত করে,সমগ্র বাগালী মানষের হ্নদয়ে দোলা দিয়ে,মানব চিত্তে আনন্দঘন উচ্ছাসে অনুপ্রানিত করে এক সূচিশুদ্ধ আবেগে চাওয়া ও পাওয়ার আলোক বার্তা নিয়ে, সময়ের চলমান মহীরথে মাসের পর মাস পেরিয়ে,বছর ঘুরে বাঙালী জাতির জীবনে আসে পহেলা বৈশাখ। বাংলা বর্ষের প্রথম দিন। এ যেন এক প্রানের উৎসবের মিলন মেলা। হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের বন্ধনে আনন্দ¯œাত উজ্জল দিন। বাঙালী জাতির এক সার্বজনীন বৃহৎ সামাজিক উৎসব। পুষ্পিত বসন্তের বিদায় বেলায়:-
চৈত্রের শেষ নিশীতের যা কিছু জীর্ণ,
যা কিছু গ্লানিকর,
সব কিছুকে জয় করে।
মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়ায়,
সূচিত হয় ১ম প্রহর।
পুরানো দিনের হরানো অতিতের স্মৃতিময় জীর্ণতা-রুগ্নতা, গ্লানি-জরা-ব্যর্থতা, হতাশা বা বেদনাকে বিদায় জানিয়ে নতুন জাগরনি উচ্ছ্বাসে হৃদয় কুসুম সূচিশুদ্ধ করে সমগ্র বাঙালী জাতি বাংলা বছরের প্রথম দিন ১লা বৈশাখ দিনটিকে বরণ করে নেয় হৃদয়ের শুভ্র অনুরাগে। বাংলা বর্ষের প্রথম দিনের জ্যোর্তিময় সূর্য উদয়ের সাথে সাথে প্রকৃতির, নির্সগ মঞ্চে ধ্বনিত হয় নব-জীবনের জয়-গানমুখর আনন্দলহরী।
এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিশ্বাস বায়ে
মূমূর্ষরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দুর হয়ে যাক।
বাঙালী মানষপটে বাংলা নবর্বষ-১লা বৈশাখ মানে বাংলা দিনটি গৌরবময় মহিমায় ভাস্বর। ১লা বৈশাখ মানে বাংলা বর্ষের প্রথম দিন, যে দিনটিকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেনী নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের মঙ্গল কামনায় এবং সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় উৎস্বর্গকৃত। ১লা বৈশাখ মানে গ্লানিকর অতিতের সব কিছুকে জয় করে নব জীবনের নবজন্ম। ১লা বৈশাখ মানে বাংলা প্রকৃতি ও দেশপ্রেমিক শান্তিপ্রিয় বঙ্গজনদের হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের মহা-মিলনের সার্বজনীন নান্দনিক উৎসব। ১লা বৈশাখ মানে নতুন বছরে নতুন ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য, আয় ব্যায়ের হালখাতা উদ্ভোধন এবং মিষ্টি বিতরন উৎসব। ১লা বৈশাখ মানে ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সমগ্র বাঙালির প্রধান খাবার পান্তা ভাত ও জাতীয় মাছ ইলিশের প্রাচুর্য্য। আম ও কাঠালের সমারোহ। মোটকথা বাংলার ফুল, ফল দেশীয় শিল্পের পন্যের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ ও বিকাশের দিন। ১লা বৈশাখ মানে গানে-গানে মানুষের হৃদয় হতে হৃদয়ের জাগরন। ১লা বৈশাখ মানে দেশীয় পন্যের মেলায় সমারোহ এবং মেলার মাঝে এক তারার জয়গান। পৃথিবীর সর্বত্রই নবর্বষ একটি ট্র্যাডিশন বা প্রচলিত সংস্কৃতি ধারা। আদিকাল থেকেই যে কোন বছরের প্রথম দিনটি নবর্বষ নামে পরিচিত হয়ে আসছে। বাংলা নবর্বষ পালনের সূচনা হয় মূলত স¤্রাট আকবর রাজত্বকালের সময় থেকে। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বাংলা নবর্বষ ১লা বৈশাখ উদযাপন করতেন। তারপর হতে কালের মহারথে যুগযুগ ধরে এ প্রানের উৎসব সারা দেশে উদযাপিত হয়ে আসছে।
১লা বৈশাখ-১৪২৫। শুভ নবর্বষ। আকাশ যেন সাজবে অপরুপ সাজে। পত্রে পত্রে পুলক শিহরন। গাছে গাছে তার আনন্দ উচ্ছাস। এ যেন আনন্দধারা বহিছে ভূবনে-রবিঠাকুরের অমীয় বন্দনাগীতি। তাই এই দিনটি অন্য দিনগুলোর চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠে উজ্জল। বর্ষ প্রদক্ষিণের পথ পরিক্রমায় এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যে মহিমায় ভাস্বর। এ যেন মুক্তির বার্তা সুন্দরতম প্রকাশ। মুক্তি প্রাত্যহিক ইটপাথরের ঘেরা নগর জীবনের জীর্ণ জীবন থেকে মুক্তি গ্রাসি ক্ষুধা ও ঘর্মাক্ত শ্রমময় জীবন থেকে, মুক্তি আত্মসর্ব¯্র কর্মকোলাহয়ময় জীবনের বৃত্ত থেকে। মুক্তি চিত্রে দিনতা এবং হতাশার গন্ডি হতে। বলা যায় নবর্বষর পূন্য প্রভাকে আমরা মহৎ, সূচিশুদ্ধ পবিত্র। পরম প্রেমময় আনন্দ স্পর্শ এ দিনটির কাছে আমাদের চাওয়া। তাই স্বার্থপরতা ক্ষুদ্রতার আর্বত ভেঙ্গে আমরা এ দিন উদার মহামিলনে উৎসব প্রঙ্গণে এসে সম্মিলিত হই। হৃদয় যেন আজ কোন অসীমের রাজ্যে কোন এক অনবর্জনীয় আনন্দের অভিমুখে ধেয়ে চলেছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লীলানিকেতন বাংলাদেশে ঋতুতে ঋতুতে পালা বদলায়। ছয়টি ঋতুতে বাংলার মুখ মনমুগ্ধকর। রাজধানী ঢাকার সবুজ শ্যামল প্রকৃ¯িœাত রমনা বটমূলে উদযাপিত হয় গ্রীষ্ম ঋতুর আগমনী বার্তা ১লা বৈশাখ। নবর্বষ উৎসব। এছাড়া সারা বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামগঞ্জ ও শহরের একই সাথে এই উৎসব উদযাপিত হয়। নব দিনের নব প্রভাতের উদীয়মান সূর্যের আগমনী আভা প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে উৎসবের সুর বেজে উঠে। প্রকৃতির নান্দানিক সৌন্দর্য¯œাত পরিবেশ এবং সুরের মুর্হুনায় বঙ্গজনদের হৃদয় হতে হৃদয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সার্বজনীন বাংলা মহামিলন এ উৎসব সকল মানুষকে নতুন ভাবে নতুন স্বপ্নে বেচে থাকতে, পথ চলতে অনুপ্রানিত করে। মূলত মানুষে মানুষে মনের মিলনে যে নান্দনিক আনন্দ ও সুভাসুভ অনুভূতি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য¯œাত পরিবেশ এ দুয়ের মিশ্রনে বাংলা নবর্বষ নতুন প্রানের সঞ্চার করে। প্রানের সাথে প্রানের রুপসী বাংলার নান্দনিক সৌন্দর্য্য প্রকাশিত হয় দিক হতে দিগন্তে। গাছে গাছে ফুলের ফোটা, পাখির কলতান, গাছে ঝড়ের শীতল হাওয়া, বাতাসের শন শন শব্দ সবকিছু নিয়ে নবর্বষ উৎসব প্রানবন্ত হয়ে উঠে।
বছরের প্রথম দিনেই আয় উপার্জন ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির শুভদৃষ্টি বাঙালি হৃদয়ে জাগ্রত হয়। ফলে সকল দোকান, বিপনী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পুরানো হিসাব খাতা পরির্বতন করে নতুন দিনে নতুন খাতা খুলা হয়। আগামী দিনগুলোতে ভাল লাভ হওয়ার নিমিত্তে মঙ্গল কামনায় সকল প্রতিষ্ঠানে মিষ্টি ও দই বিতরন করা হয়। আলোকসজ্জা ও বাংলার ফুল দিয়েও কোথাও কোথাও বাণিজ্য বিতান সাজানো হয়। যুগ যুগ ধরে কল্যান ও নতুন জীবনের সফলতার প্রতীক হিসাবে বাংলা নবর্বষ উৎসব বাঙ্গালীর দ্বারে বছর বছর ফিরে আসে এবং এই দিনটিকে বরণ করার অভিপ্রায়ে সমগ্র জাতি শহরে একঘেয়েমী কর্মকোলাহলপূর্ন জীবন হতে ছুটি নিয়ে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলেরা পাঞ্জাবী, মেয়েরা সাদা লাল পেড়ে শাড়ি, টিপ ,খোপায় ফুল পরিধান করে নেচে গেয়ে গান শুনে, বাংলায় খাবার, বাংলার ফল, বাংলার সংস্কৃতিকে হৃদয়ে লালন করে অতিবাহিত করে সারাটা বেলা। শিল্পী, সাহিত্যিক, বাউল, বুদ্ধিজীবী সকল শ্রেনীর মানুষের উপস্থিতিতে নববর্ষ উৎসব প্রানবন্ত হয়ে উঠে।
রাজধানী ঢাকার বর্ষবরন উৎসব এক অনবদ্য উৎসব হিসাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে আবহমান কাল থেকে। সকালে হিমেল হাওয়ায় রমনার বটমূলে নববর্ষ উৎযাপনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। বেলাবাড়ার সাথে মানুষের ঢল নামে। গানে গানে প্রকৃতির খোলা প্রাঙ্গন আনন্দ মূখর হয়ে উঠে। বেলা দ্বিপ্রহরে খোলা খরতাপে পিপাসিত মানুষ সরবত,লেবু পানি, ডাব,পান করে। পান্তা ভাত ,ইলিশ মাছ, ও অন্যান্য বাঙালী খাবার খেয়ে শান্তি প্রিয় মানুষ স্বস্তিবোধ করে। গ্রামীন ,শহর সকল স্থানের মানুষ এই বৈশাখী উৎসব অতি আনন্দে উৎযাপন করে। মূলত সুচিশুদ্ধ প্রভাতে শুরের মাঝে প্রানের উপস্থিতি, প্রানের সাথে প্রানের একতা, একতার মাঝে আনন্দ ধারা।বিকালে আনন্দ ধারার সাথে বেশাখী ঝড় হাওয়া সারাদিনের তপ্ত হ্নদয়কে শীতল করে। ফলে প্রান ও প্রকৃতির মাঝে এক অনিবর্চনীয় রুপসী বাঙলার চিরায়ত সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায় নববর্ষের এই দিনটিতে। এ ধরনের সৌন্দর্য্য¯œাত আনন্দমূখর উৎসব পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। শুধুমাত্র বাঙালীদের বাংলার এই অবারিত প্রাঙ্গনে এ উৎসব অনুভব করা যায়।