নির্যাতিত হয়েও নোমানীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

0
145

শেখ রিয়াদ মুহাম্মদ নুর : বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র ঘনিষ্ঠ সহচর ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না’র দায়েরকৃত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রায় দুই সপ্তাহ কারাভোগের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় গোপনে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহ’র ছবি তুলেছিলেন সাংবাদিক নোমানী। মেয়রের সাথে থাকা কাউন্সিলর মান্না ও অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতারা এর প্রতিবাদ করেন এবং স্থানীয় জনগণ সাংবাদিক নোমানী সহ আরও দুইজনকে প্রহার করে। এরপর নোমানী ও তার সহযোগীদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
কিন্তু এজাহারে উল্লেখিত ঘটনায় বেশ কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। প্রথমতঃ সিটি মেয়র সেদিন ত্রিশ গোডাউন এলাকায় ‘হোবার বোর্ড’ চালান এবং তা ছাত্রলীগ নেতা আতিকুল্লাহ মুনিমের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করা হয়। অর্থাৎ সিটি মেয়রের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা গেলে সেই একই সময়ে ছবি তোলা অপরাধ হতে পারে না। দ্বিতীয়তঃ গভীর রাতে সেখানে স্থানীয় জনগণের উপস্থিত থাকার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের উপস্থিতিতে জনগণ মারধোর করবে আর তারা তা রোধ করতে পারবেন না সেটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তৃতীয়তঃ সিটি মেয়রের উপস্থিতিতে তার সম্মতি বা নির্দেশ ছাড়া কেউ কারো গায়েহাত দিতে সাহস পাবে তা বরিশালের প্রেক্ষাপটে একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সর্বশেষ অসংগতি হল, মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত সাংবাদিক নোমানী’র মোবাইল ফোনটি মামলায় বাদি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। অর্থাৎ পুলিশ সরাসরি মামলার বিবাদীর কাছ থেকে তা উদ্ধার করেনি এবং মামলায় বাদির নিজেরই আপত্তিকর ছবি তুলে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার সুযোগ থাকে।
এদিকে মামলার বিবাদী পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্যে পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, সেদিন ছবি তোলার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি। সেখানে সাংবাদিক নোমানী, কামরুল মৃধা ও লাবু’কে দেখা মাত্র সিটি মেয়র উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং গালাগালি শুরু করেন। এরপর তার নির্দেশে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা রইজ মান্না, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম সহ অন্যান্যরা হামলা চালায় এবং মেয়রের নির্দেশেই কাউন্সিলর মান্না মামলা দায়ের করেন। দেখামাত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করে সেই ভুক্তভোগী বলেন, সেদিন কোনো কারণে হয়তো সিটি মেয়রের মেজাজ খারাপ ছিলো, তাই অন্যের উপরের রাগ আমাদের উপরে ঝেড়েছেন। এভাবে চাইলেই যে কেউ একজন সাংবাদিক’কে মেরে পুলিশে দিতে পারেন, সেটা বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, যে কেউ চাইলে নয়, বরিশালের মেয়র চাইলে তা পারেন আর কেউ বিশ্বাস না করলেও সেদিন এই ঘটনাই ঘটেছিলো। যদিও এসব বিষয়ে সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানী’কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, স্থানীয়ভাবে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত মামুনুর রশীদ নোমানী প্রায় দুইযুগ সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত রয়েছেন এবং অনলাইন সাংবাদিকতায় দুইবার শেরে-বাংলা পদক পেয়েছেন। তিনি দৈনিক শাহনামার প্রধান বার্তা সম্পাদক, বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদ-এর তথ্য সম্পাদক ও বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও উল্লেখ করা যেতে পারে, সাংবাদিক নোমানী’র উপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট তিনটি সংগঠন মানববন্ধন করেছে।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ,৭১ ডটকম।