নির্বাচনী ফলাফলের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়

0
144

অনলাইন ডেস্ক : একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীদের মামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী। জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মধ্যেই আছে।
রবিবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এর আগের দিন এক দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা হচ্ছে বলে খবর আসে।
গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। তাদের জোট ঐক্যফ্রন্ট সম্মিলিতভাবে সাড়ে ১৩ শতাংশ ভোট আর আটটি আসন পেয়েছে। তবে বিএনপির অভিযোগ, আগের রাতে ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। আর ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটারদের যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
ভোটের পর সিদ্ধান্ত হয়, ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত প্রার্থীরা কারচুপির তথ্য প্রমাণ যোগাড় করে নিজ নিজ আসনে ফলাফলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন। আর এসব তথ্য প্রমাণ কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠাতেও বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তথ্য প্রমাণ খুব বেশি যোগাড় হয়নি। আর কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনাও এ কারণে পালন করতে পারেননি প্রার্থীরা।
অবশ্য বিএনপির পক্ষে আর মামলার ‍সুযোগ আছে কি না, এ নিয়েও আছে প্রশ্ন। কারণ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হয়। এর মধ্যেই সেই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। যদিও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা দাবি করছেন, ৪৫ দিন পর্যন্ত সুযোগ আছে।অ
ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে কেবল ঢাকা-৬ আসনের সুব্রত চৌধুরী মামলা করেছেন। তিনি জানান, অন্য প্রার্থীরা মামলা করতে চাইছেন না পক্ষে রায় আসবে না এই আশঙ্কা থেকে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা মামলা করবেন না।
এর মধ্যে শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে পরাজিত ৩০ থেকে ৪০ জন প্রার্থীর সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে তিনি পরাজিতদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মামলার সুযোগ আর আছে কি না, আর থাকলে কবে মামলা হবে- এমন প্রশ্নে রিজভী বলেন, ‘কথা-বার্তা হচ্ছে, এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মামলায় যাব কি যাব না, কীভাবে যাব, সব আসন থেকে যাব কি না, এটা আলাপ-আলোচনার মধ্যেই আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেব।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, সেলিম রেজা হাবিব প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।