নারী আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করেছে সৌদি

0
20

অনলাইন ডেস্ক : কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাড়ি চালাতে পারবেন সৌদি নারীরা। এমন ঘটনা কার্যকরের আগেই পাঁচজন নারী ও দুইজন পুরুষ অধিকার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি, যাদের কয়েকজন সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন। খবর বিবিসির।
মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছে যে সৌদি নারীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে ‘বিদেশি শক্তি’র সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন লাউজাইন আল-হাতলুল এবং এমান আল-নাফজান। এরা দুজনেই সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছিলেন।
বিশ্বে সৌদি আরবই একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না। দেশটির বিদ্যমান ব্যবস্থায় পুরুষেরাই কেবল গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পান। কোনো নারী যদি জনসম্মুখে গাড়ি চালান, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার ও জরিমানা করা হয়।
নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিতে কয়েক বছর ধরে দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রচার চালিয়ে আসছিল।
মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হওয়ার পর নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকরের অনুমতি দেয়। তার মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটিতে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি সংক্রান্ত একটি আদেশও জারি করা হয়। আদেশটি আগামী মাসের ২৪ জুন থেকে কার্যকর হবে।
গাড়ি চালানোর অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মিজ নাফজান এবং মিজ নুর ২০১৬ সালে সরকারের কাছে এক পিটিশনে সই করেছিলেন যেখানে সৌদি নারীদের ওপর পুরুষদের অভিভাবকের কর্তৃত্ব বিলোপ করার ডাক দেয়া হয়।
এই কর্তৃত্বের কারণে সৌদি নারীরা নিজের ইচ্ছেমত বিয়ে করতে পারেন না, একা একা বিদেশে যেতে পারেন না এবং পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন না।
মিজ হাথলুলকেও এপর্যন্ত দু’বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায় তিনি গাড়ি চালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে চেয়েছিলেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গত ১৫ মে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দেখায়নি।