নওগাঁয় দুই গৃহবধু হত্যার কারণ ৬ মাসেও উৎঘাটন হয়নি

0
70
আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছীতে দুই গৃহবধু সাথী বেগম (৩২) ও পরি বেগমকে (২৬) ধারালাে অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ৬ মাস পার হলেও ঘটনার কারণ উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এদিক নিহত পরি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের লােকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যা অভিযােগ তুলছেন, পরি বেগমের আত্নীয়-স্বজনরা। অপরদিকে নিহতদের পরিবাররা বলছেন পুলিশের বিরুদ্ধে, ঘুষ গ্রহণ, অসাদাচারণসহ নানান অভিযােগ তুলছেন। দ্রুত এই আলােচিত দুটি হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানানাে হয়েছে।

নিহত সাথী বেগম বদলগাছী উপজেলার পার আধাইপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী আব্দুল কাদিরের স্ত্রী ও পরি বেগম একই উপজলার কােলা (বিজিপাড়া) গ্রামের স-মিল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার কােলা বাজারের পাশাপাশি টিনের বাসায় ভাড়া থাকতেন একই উপজেলার পৃথক গৃহবধু সাথী বেগম ও পরি বেগম। বাসার মালিক নজরুল ইসলাম নজু ও তার স্ত্রী নার্গিস খাতুন জানান, সেখান স্থানীয় এক কবিরাজের সাথে পরিচয় হওয়ার পর সাথী বেগমের। এরপর থেকে সাথী বেগমের সাথে পরি বেগম মাঝে মধ্যেই রাতে বাসার বাহিরে থাকতেন। তাদের জিজ্ঞাসা করলেও তারা বলতেন না রাত কােথায় ছিলেন। ৩ জুন সন্ধ্যায় এমন ভাবেই কাউকে না বলে সাথী বেগমের সাথে পরী বানু গােপােনেই গিয়ে হত্যার শিকার হন তারা।

পরে দিন ৪ জুন উপজেলার চাংলা গ্রামের একটি গভীর নলকুপে স্থানীয়রা দুই নারীর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে থানায় সংবাদ দেন। এরপর পুলিশ নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই জােড়া হত্যারপরে চাংলা গ্রামের কবিরাজ আবু হাসান মুকুল, পরি বেগমের স্বামী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। কবিরাজ মুকুলকে ৩ দিনর রিমান্ডে নিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত হত্যার ঘটনা উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত পরি বেগমের ভাবী একই উপজেলার কয়াভবানীপুর গ্রামের রুপালী বেগম জানান, পরি বেগমের কােন শত্রু ছিলনা। পরি বেগমের সাথে বিয়ের পর থেকে স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের লােকজন মারপিট ও নির্যাতন করতেন। ফলে গ্রামের বাড়ি বিজিপাড়ায় থাকতেন না, পরে কােলা বাজার ওই বাসা ভাড়া থাকতে হয়েছে পরিকে। স্বামী ও তার বড় বউয়ের ছেলেসহ পরিবারের লােকজন পরিকে পরিকল্পিত অন্য কােথাও হত্যা করে ওই গভীর নলকুপে ফেলে গেছেন। চাচী জরিনা জানান, পরিকে হত্যারপর থানায় মামলা করতে গেলে স্বামী নজরুল ইসলামের লােকজন বলেছেন, থানায় ৩ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ কিনে রাখা হয়েছে।

ফলে পুলিশ তাদের কােন মামলা নিবে না। চাচা জাসিম উদ্দিন জানান, হত্যার ঘটনায় থানায় স্বামী নজরুল ইসলামগংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলেও উৎকােচ গ্রহনের ফলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আমাদের পরিবারের লােকজনদের সাথে পুলিশ অসাদাচারণ করে। মা আকতারুন বেগম জানান, পরীর পাশের ভাড়াটিয়া সাথীর স্বামী কাদরের যােগসাজশে পরীর স্বামী নজরুল ইসলাম তার পরিবারের লােকজনকে রাতে নিয়ে যায়। এরপর পরীকে হত্যা করে। হয়ত: পরীকে হত্যার ঘটনাটি প্রকাশ পেতে পারে সেই জন্যই সাথীকেও হত্যা করা হয়েছে।

নিহত পরি বেগমের বাবা নজরুল ইসলাম জানান, তার মেয়েকে ধারালাে অস্ত্র দিয়ে নৃশংস ভাবে গালা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পরে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করনি। এ সময় থানা থেকে জানানাে হয় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। এরপর ৫দিনপর আবারা মামলা দায়ের করতে গেলে সঠিক বিচার পাবাে বলে পুলিশ একই কথা বলে থানা থেকে তাড়িয়ে দেন। এ পর্যন্ত পুলিশের কােন কর্তা তাদের বাড়িতে আসেননি। তিনি আরা জানান, তিনি কিভাবে এজাহারে বাদি হয়েছেন তা জানেন না। তিনি একাধিকবার থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে। দ্রুত এই হত্যার কারণ উদঘাটন ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে পরি বেগমের স্বজনরা পরিকে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযােগ অস্বীকার করে স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, তিনিও তার স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে বলে তাকে থানা থেকে চলে যেতে বলে পুলিশ। তিনি চলে এসেছেন।

নিহত সাথীর শশুর আমজাদ হােসেন ও তার পরিবারের লােকজন পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযােগ করে বলেন, এই হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে আমাদের পরিবারের লােকজনদের সাথে পুলিশ দূর্ব্যবহার করে।

নিহত সাথী বেগমের স্বামী আবুল কাদের অভিযােগ অস্বীকার করে জানান, পরি বেগমের স্বজনরা যে অভিযােগ করছেন তা সত্য নয়। তিনিও তার স্ত্রীসহ ওই মহিলা হত্যার দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

স্থানীয় ও নিহতদের স্বজনরা মনে করছেন, এই আলাচিত জােড়া হত্যার আসামীদের আড়াল করতে প্রভাবশালী চক্রের হাত হয়েছে। ফলে ৬ মাসেও হত্যার কারণ উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

বদলগাছী উপজেলার স্থানীয় কােলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনূর ইসলাম স্বপন জানান, আলােচিত জােড় হত্যাকান্ডের ৬ মাস পরিয়ে গেলেও পুলিশ হত্যার কােন রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি। দ্রুত রহস্য উৎঘাটনসহ আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল আকতার জানান, এই জােড়া হত্যা সাথে জড়িত সন্দেহে কবিরাজ আবু হাসান মুকুলসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে চাংলা গ্রামের আবু হাসান কবিরাজ মুকুলকে ৩ দিনের রিমান্ড নিয়ে এলেও হত্যা কােন কারণ উৎঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ তৎপর রয়েছে হত্যার কারণ বের করতে।#