ধরা ছোয়ার বাইরে আখি হত্যা মামলার আসামীরা, ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় পরিবার

0
77
ছবিতে নিহত আখি, আখির ছেলে এবং আসামী সোহেল

এ আই সোহেল চৌধুরী : গত ১৬ই জুন ২০১৭ দক্ষিণ কেরানীঞ্জের শুভাড্যা উত্তরপাড়া গোলাম বাজার এলাকার মিন্টু মিয়ার বাড়ীর ৪র্থ তলায় একটি রুমে আখী আক্তারের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
মৃতার পারিবারিক সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আখীকে তার স্বামী সোহেল মারধর ও নির্যাতন করে মেরে ফেলে এবং সোহেলের মা ও ছোট বোন উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন। পারিবারের অভিযোগ দক্ষিণ কেরনীগঞ্জ থানা প্রশাসন একটি হত্যা মামলাকে আত্মহত্যা বলে ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করতে একটি খুনের মালাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে গ্রহন করে।
সূত্র মতে আরো জানা যায়, হত্যা ঘটনার চার বছর আগে ভালবাসার সর্ম্পকের মধ্যেমে সোহেল ও আখীর বিয়ে হয়। বিয়ের পড়ে ধীরে ধীরে আখী জানতে পাড়ে যে, তার স্বামী সোহেল বিবাহীত ও মাদক দ্রব্য সহ নানা অসামাজি কাজে লিপ্ত। তার সাথে থানা পুলিশসহ এই ধরণের কাজে জড়িত বড় বড় লোকদের ভাল সম্পর্ক। আখী তার স্বামী সোহেলকে এই ধরণের ব্যবসা থেকে বেরিয়ে এসে ভাল কাজ করার জন্য তাগিদ দেয়। হত্যার দুই মাস আগেও আখী স্বামী সোহেলকে ব্যবসা করার জন্য ধার বাবদ পঞ্চাশ হাজার টাকা আখীর বাবার কাছ থেকে এনে দেয়। কিন্তু সোহেল সেই টাকা দিয়ে কোন ব্যবসা না করে ঐ আগের ব্যবসাই করতে থাকে। ঘটনার ১৫/২০ দিন আগে আখী ফোন করে বা-মার কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। বাবা আখীকে বাবার বাসায় চলে যেতে বলে। কিন্তু সোহেল তাকে যেতে দেয় না।
ঘটনার দিন সকালে আখী ঐ বাড়ী থেকে বাপের বাড়ী আসতে চাইলে সোহেল আখীকে ব্যাপক মারধর করে এবং আখীকে হাত পা বেধে নির্যাতন করে মেরে ফেলে। সোহেলের মা ও তার ছোট বোন ঘটনা স্থলে উপস্থিত থেকে পূর্ণ সহযোগীতা করে। আখীর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে সবাই ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় এবং সোহেল ফ্যানের সাথে আখীর উড়না বেধে রেখে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে কৌশলে পালিয়া যায়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েই হত্যাকান্ডটাকে সুইসাইট বলে প্রচার করতে তাকে। পুলিশ মৃত্য আখীর শরীরের আঘাতের প্রতিটি চিহ্নের ছবি তুলে নেন এবং স্থানীয় লোক জন দেখেন। থানায় লাশ নিয়ে গিয়ে বিষয়টা উল্টে যায়। আখীর মা মামলা করার জন্য যখন সব খুলে বলে যে ভাবে মামলা করতে অনুরোধ করেন, সে ভাবে মামলা না লিখে লাশ বুঝে নেওয়ার জন্য একটি সাদা কাজগে টিপ সহি রেখে পরে মামলা করা যাবে বলে পাঠিয়ে দেন। আখীর আত্মীয় স্বজন ও তার মা জানতে পারেন ঐ কাগজে (সাদা টিপ সহিকৃত কাগজে) স্থানীয় প্রশাসন আত্মহত্যা নামে একটা এজাহার দায়ের করেন।
পরিবারের অভিযোগ টাকার মধ্যেমে ময়না তদন্তে রিপোর্ট জালিয়াতি করে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করে। এ ঘটনা আখীর মা-বাবা আখীর মৃত্যুর জন্য সোহেল, সোহেলের মা এবং ছোট বোনকে সম্পূর্ণ দায়ী করেন। এ মামলাকে অন্য দিকে রূপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ময়না তদন্তে রিপোর্ট দানকারী ডাক্তারকে দায়ী করেন।