দেশে খাদ্য উৎপাদন ৮০ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে : কৃষিমন্ত্রী

0
13

অনলাইন ডেস্ক : কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ধান উৎপাদনে চতুর্থ স্থান, আলু উৎপাদনে ৭ম স্থান এবং সবজি উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দেশ। খাদ্যশস্যের উৎপাদন প্রতিবছরেই ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।গত ১০ বছরে দেশে খাদ্য উৎপাদন ৮০ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে যেখানে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। উৎপাদনশীলতার ধারাবাহিকতায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২৩তম অধিবেশনে আজ বৈঠকে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা এমপি বেগম হাজেরা খাতুনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
জলবায়ুর কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা আছে:
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী জানান, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে দেশে খাদ্য উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার আশংকা আছে। সরকার জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় এবং কৃষি উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এজন্য স্বল্প পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, বোরো ধানের চাষ কমিয়ে আউশ ধানের চাষ সম্প্রসারণ এবং ১৪ দিন পর্যন্ত জলামগ্নতা সহিষ্ণু ব্রিধান-৫১, ব্রিধান-৫২ জাতের আবাদ প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে ফসলী জমি সংরক্ষণ, মানুষের খাদ্যাভাস পরিবর্তন এবং বন্যা ও জলাবদ্ধ প্রবণ এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন কৌশল হিসাবে ভাসমান সবজি ও মসলা উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
২০৩০ সাল নাগাদ ২৫ লাখ টন বাড়তি চাল উৎপাদন সম্ভব:
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশের আউশ ও আমন চাষাবাদে জমি পুনর্বিন্যাস, অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনা এবং দেশী জাতের পরিবর্তে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের আবাদ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে, দেশে চাল উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। যুক্তিযুক্তভাবে কৃষি জমির প্রাপ্যতা সাপেক্ষে ২০৩০ সাল নাগাদ ২৫ লাখ টন বাড়তি চাল উৎপাদন করা সম্ভব।