দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ক্ষতিগ্রস্থ নিরিহ মানুষ

0
111

এস ই ইসলাম

দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রের ব্যাপক অনিয়ম যা অবর্নীয় অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে। বিগত কয়েক মাসে নাম করা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হাসপাতাল, এ্যপোলো হাসপাতাল, পুপুলার সহ বিভিন্ন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের অনিয়ম ও ভেজাল ঔষধ, অপারেশন এর সুতা সহ বিভিন্ন  টেষ্টিং কেমিক্যাল এর তারিখ উর্ত্তীন খবর আমরা গনমাধ্যমে জানতে পেরেছি। আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী বিভিন্ন সময়ে ঐ সকল প্রতিষ্ঠান পরির্দশন করে জেল জরিমানা করেছেন ইতিপূর্বে।

সম্প্রতি স্বনামধন্য স্কয়ার হাসপাতালে ঘটে গেল একটি অমানুবিক ঘটনা। প্রসুতি মায়ের প্রতি সেবা দানের অবহেলা জনিত কারনে নবজাতকের মৃত্যু। সত্যিই এটি আমাদের কাম্য নয়। এহেন অবস্থা চলতে থাকলে আমরা কোথায় যাবো। ডাক্তার হলেন আমাদের জীবনে সুস্থতা দানের বন্ধু।

দেশের প্রশ্নবিদ্ধ শত শত অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়ে যায় পরিদর্শনের বাইরে। এমন অভিযোগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতে সরকারের দৃষ্টির বাইরে থেকে যায় অজানা এ সকল অনঅনুমদিত বা অনুমোদন বিহীন ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারগুলো। অনুমোদনপ্রাপ্ত সেন্টার গুলোরই তদারকি রাখতে দায়। এছাড়া অনেক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার আছে যারা লাইসেন্স নবায়ন না করেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। স্বাস্থ্য সেক্টরের সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা অবৈধ সুবিধা গ্রহন করে অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ এ সকল সেন্টারগুলো চালু রাখতে গোপন অনুমতি দিয়ে থাকেন। এসব সেন্টারের সংখ্যা সারা দেশে প্রায় অর্ধ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। আর অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোর কোন পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নাই। বার বার ঘোষনা দিয়েও দেশব্যাপী কার্যকর অভিযান অব্যহত রাখতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সুবিধা নিয়ে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে ঐ সকল অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এ সকল বিষয়ে তৎপর হলেও তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না অভিযান অব্যহত রাখা। যার ফলশ্রুতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিরিহ জনগন। এসকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নাই মান সম্মত প্যাথলজি হাতুরে টেকনিশিয়ান দ্বারাই চালানো হয় রোগ নির্নয়ের সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা। এ সকল হাতুরে টেকনিশিয়ানরাই মনগড়া পরিক্ষার রিপোর্ট তৈরী করে ঠকাচ্ছে নিরীহ মানুষকে। এ সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে একেকটা একেক রকম রিপোর্ট দিয়ে থাকেন। যার ফলে ভুল চিকিৎসার স্বীকার হন রোগী এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্য ক্ষতির বা মৃত্যুর সম্মুখিন হন। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় ও এ বিষয় নিয়ে সরকার ও জনগনের দৃষ্টি আকর্ষন করে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও এ বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেশের অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানিয়েছেন। অভিযান অব্যহত রাখার কথা ও বলেছে যাতে করে সরলতার সুযোগ নিয়ে এসব ক্লিনিক বা অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন যেন দিনের পর দিন রোগীদের ঠকাতে না পারে। এ জন্য মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মহোদয় কে ধন্যবাদ জানাচিছ।

রোগী মারার Industry হিসাবে এসকল সেন্টার গুলো পরিচিতি লাভ করেছে। এ সকল সেন্টারের প্রাপ্ত রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম বিভ্রান্তিতে পরে যায়। সরকারী হাসপাতালের এক শ্রেনীর ডাক্তারদের সহায়তায় এ সকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মালিক ব্যবসা চালান বছরের পর বছর। এসব অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের প্রতারনায় শিকার মানুষজন বার বার অভিযোগ তুলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এবং ঐসকল ব্যবসায় সরকারী হাসপাতালের বেশীর ভাগ ডাক্তার জড়িত। তাড়া কমিশনের লোভে স্ব স্ব হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল বিভাগকে স্বয়ং সম্পূর্ন হতে দেয় না। উন্নত ও অধিক মূল্যের যন্ত্রপাতিগুলো খুব দ্রুত অকেজো হয়ে পড়ে অজ্ঞাত কারনে। এর ফলে রোগীকে স্বরনাপণ্য হতে হয় এসকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে মানুষ মারা Industry গুলোর কাছে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত রেড চার্জ না মেনে নিজস্ব রেড চার্জ দেয় যাহা অধিক ব্যায় বহুল। বিভিন্ন নামী দ্বামী ডাক্তারদের নামের সাইনবোর্ড দেখা যায় ঐ সকল সেন্টারে। সুতরাং সরকারের নিকট আবেদন ঐ সকল অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার জন স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এদের তদন্তের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ রাখছি। এবং অবৈধ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার উঠিয়ে দেয়া হউক অনতিবিলম্বে। জন সাধারনকে “পঙ্গুত্ত্ব বরন ও মৃত্যুর হুমকি থেঁকে বাঁচান। অবৈধ ডায়গনষ্টিক সেন্টার হটান।”

সাধারন নিরিহ জনগনের সচেতনতার লক্ষ্যে ঐ সকল অবৈধ হাসপাতাল, ডায়াগনষ্টিক ও সেন্টারের প্যাথলজিক্যাল বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা হাতুরে টেকনিসিয়ানদের দ্বারা প্রাপ্ত রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসার কুফল সম্পর্কে প্রচার বাড়ানো উদ্দোগ গ্রহন করা হউক। (চলমান)

লেখক : এস ই ইসলাম, চেয়ারম্যান জাতীয় ক্রাইম রির্পোটার্স (সরকার অনুমদিত)